শিরোনাম :

সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক


সোমবার, ২০ জুন ২০১৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

 

 বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ভারতের। এটা যেমন বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, তেমন মনে করে ভারতের মানুষও। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যা, বিশেষ করে হিন্দু পুরোহিতদের হত্যা ও হত্যাচেষ্টা যে এই প্রতিবেশী দু দেশের সম্পর্ক ভালো রাখতে দেবে না, সেকথা বলাই বাহুল্য। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশকে সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী উল্লেখ করে বলেন, সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক প্রতিবেশী যে দেশের সঙ্গে, সেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ ‘চরম কষ্টদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক’।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হঠাৎ বেড়ে যাওয়া আক্রমণ, রামকৃষ্ণ মিশনকে পাঠানো হুমকি-চিঠি এসব ঘটনায় মোদি সরকার নড়েচড়ে বসেছে। রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর গভীর উদ্বেগের কথা সন্ন্যাসীদের জানান। নির্দেশ যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পুলিশও নড়েচড়ে বসে। বাড়ানো হয় মিশনের নিরাপত্তা। ২৪ ঘণ্টা তীক্ষ্ণ নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছে ভারত। সেই কথা শোনা গেল সুষমা স্বরাজের কণ্ঠে। তিনি বলেন, স্বস্তির কথা এই যে বাংলাদেশ সরকার বসে নেই। তারা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিন হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার চেয়ে সুষমা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের এক লাখের বেশি ধর্মগুরু (মুফতি, আলেম, ওলামা) সই করে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, ইসলামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই।

ভারত মুখে সন্তুষ্টির কথা বললেও শোনা যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় নাখোশ। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। বাংলাদেশের সরকার প্রধান মাননীয় শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। এখন প্রশ্ন হল, দেশের এই গুপ্তহত্যার পেছনে জড়িতদের ধরে সরকার যতক্ষণ না তাদের সদিচ্ছার কথা প্রকাশ করছে ততক্ষণ ভারত সরকার আস্থা রাখতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। যেভাবে দিনে দিনে দেশে গুপ্তহত্যা বাড়ছে, হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষরা অনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাতে করে ভারত সরকার বাংলাদেশের ওপর গভীর নজরদারির ব্যবস্থা রাখবে। ফলে এই গুপ্তহত্যা আর অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকছে না। এটা এখন আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জড়িত চক্র চায় না ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক তৈরি হোক। তারা জানে, এখানে হিন্দুদের মারলে ওখানে উত্তেজনা ছড়াবে। সেটিই তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে। এখন ভারত-বাংলাদেশকে বসে ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যা বন্ধে সরকারকে আরো তৎপর হতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন