শিরোনাম :

রামপাল প্রকল্পের ক্ষতি আছে; লাভ কী?


বুধবার, ২২ জুন ২০১৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

 

সম্প্রতি সরকারের আলোচিত ও সমালোচিত প্রকল্প হল রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পের পক্ষে-বিপক্ষে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। পক্ষে হয়েছে খোদ সরকার, সরকারের লোকজন। আর বিপক্ষে রয়েছে দেশের সুধী সমাজ, পরিবেশবিদরা। বিপক্ষদলে সাধারণ জনগণের পাল্লাও ভারী। সুন্দরবন-ঘেঁষা এই বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ বিরোধী আন্দোলনের মুখে সরকার তার অবিচল মনোভাব ধরে রেখেছে। এর পক্ষে যৌক্তিকতা ঠিক মতো তুলে ধরতে একরকম ব্যর্থই হয়েছে সরকার। তবে একটি বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা নিশ্চয় মহৎ, সেটি হল বিদ্যুৎ প্রস্তুতকরণ। দেশের সার্বিক উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের বিকল্প নেই। কিন্তু এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি হতে হবে স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব। একটি উন্নয়নের জন্য আরেকটা দিকে ক্ষতি কারোরই কাম্য নয়। আর ক্ষতির দিকে যখন পরিবেশ ও প্রকৃতি, দেশের সর্ববৃহৎ বন সুন্দরবন, তখন অবশ্যই বার বার ভাবতে হবে। উন্নয়ন শেষ কথা তবে চরমকথা নয়, সরকারের এটা বিবেচনার বিষয় হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তাঁরা সে কথা স্পষ্টভাবেই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং প্রকল্পের ভারতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানিয়ে দিয়েছেন। পেপার-পত্রিকায় নিয়োমিত কলাম লেখা হচ্ছে এ নিয়ে। কিছুদিন আগে এই প্রকল্প বন্ধ করার জন্য ঢাকা টু সুন্দরবন লংমার্চও হয়। জনগণের এ উদ্বেগ আমলে নিয়েই উত্তর দিতে হবে সরকারকে।

সুন্দরবন বিশ্বের বিরল ম্যানগ্রোভ বন। বিশাল অরণ্য, অসংখ্য প্রাণী ও জৈবসত্তা, অজস্র নদ-নদী ও জলজ প্রাণিকুল মিলিয়ে সুন্দরবন টিকে আছে। এই বন সুরক্ষিত থাকলে তা বর্তমান ও ভবিষ্যতের মানুষকে প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানসম্পদে সমৃদ্ধ করে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সামুদ্রিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রাচীর। সুতরাং এই বনের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো পদক্ষেপের আগে শতবার ভাবা উচিত। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, রামপালে এ পর্যন্ত দুটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অদূরেই বেসরকারি আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করার কাজ এগোচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে যে পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়েছে, তা কীভাবে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে? অর্থমন্ত্রী নিজেও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে বলে স্বীকার করেছেন।

এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আর্থিক দিক থেকেও প্রকল্পটি ক্ষতিকারক। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ হবে বর্তমানের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি। তা ছাড়া ১৫ বছরের জন্য কর মওকুফ বাবদ সরকার বঞ্চিত হবে ৯৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার থেকে। পাশাপাশি নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বার্ষিক ব্যয় হবে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার! বিদ্যুৎ আমাদের দরকার, কিন্তু পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথে কেন? যেখানে ভারত নিজে তাদের অংশে যে সুন্দরবন আছে তার পাশে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে আপত্তি জানিয়েছে, সেখানে আমরা করব কেন? বিদ্যুৎকেন্দ্র বিকল্প স্থানে করা চলে, কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প কি আমরা বের করতে পারবো?

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন