শিরোনাম :

ফের প্রশ্নবিদ্ধ সাংবাদিকতা


রবিবার, ২৬ জুন ২০১৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আর পাঁচটা পেশা আর সাংবাদিকতা এক বিষয় নয়। সাংবাদিকতা নিশ্চয় মহান পেশা। চিকিৎসা-পেশার পরেই জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী এই পেশা কোনোভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বা করাপ্ট হলে জাতি ভুল পথে চালিত হতে বাধ্য। কোথাও কোথাও সাংবাদিকতা চিকিৎসা পেশার চেয়েও সেনসিটিভ। একজন ডাক্তারের একটা ভুল-সেবায় একজন রোগী নিহত পারে, একটি পরিবার তার ভুক্তভোগী হতে পারে, কিন্তু একটা ভুল সংবাদে পুরো জাতিই বিপর্যস্ত ও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, অকার্যকর হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় অনেক বিষয়আশয়। যে কারণে ভুল সাংবাদিকতা বা ইয়োলো জার্নালিজম কখনোই কাম্য হতে পারে না।

পুলিশ কর্মকর্তা (এসপি) বাবুল আক্তারকে ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে ফের প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সাংবাদিকতা। চট্টগ্রামে নিহত মাহমুদা আক্তার মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তারকে নিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার বিকেল অবধি নানা মুখরোচক খবর পরিবেশন করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ‘এসপি বাবুলকে নিয়ে গেছে পুলিশ’, ‘এসপি বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’, ‘স্ত্রী হত্যার ছক নিজেই কেটেছিলেন এসপি বাবুল আক্তার’, ‘নতুন মোড় মিতু-হত্যা ঘটনায়, এসপি বাবুল পুলিশ হেফাজতে!’ বা ‘গুঞ্জন: এসপি বাবুলই স্ত্রী মিতু হত্যার পরিকল্পনাকারী!’, ‘চাচাত ভাই সাইফুলকে নিয়ে স্ত্রী খুনের ছক বাবুল আক্তারের!’, এসব ভিত্তিহীন শিরোনামে লেখা ছাপা হয়েছে। মানুষ হুমড়ি খেয়ে সে সব সংবাদ পড়েছে, আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেগুলো শেয়ারও করেছে। এভাবেই স্ত্রী-হারা বাবুল ব্লু জার্নালিজমের শিকার হলেন।

এখন প্রশ্ন হল বাছ-বিছাই না করে কেন এই সংবাদ পরিবেশন করা? একটা মিডিয়া সেটি কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করল, আর সেটি যাচাই বাছাই না করে সেই ভুল সংবাদটি পরিবেশন করবে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। শুরুটা করেছে দেশের উল্লেখযোগ্য একটা অনলাইন সংবাদমাধ্যম। অনলাইন মাধ্যমটি এরই ভেতর তাদের জনপ্রিয়তা হারাতে বসেছিল। এই খবরটি প্রকাশ করে তারা হয়ত ম্যাক্সিমাম হিট (ক্লিক) অর্জন করল, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অনলাইন মিডিয়ার প্রতি মানুষের যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হল তার দায় কে নেবে? দেশের অনলাইন মিডিয়াকে এভাবে গুটিকতক অসাধু মিডিয়ার কারণে ফ্রন্টলাইনে আসা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ প্রতিনিয়ত অনলাইনগুলো সবার আগে এবং নির্ভরযোগ্য অনেক খবর পরিবেশন করছে। দেশের প্রথম সারির দৈনিক টেলিভিশনগুলো অনলাইন ফলো করে অনেক সংবাদ প্রচার করে। কাজেই সব অনলাইন সমানভাবে এই দায় নেবে না।

অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনেক খবর থাকে চটকদার, সুড়সুড়িমার্কা, এগুলো দিয়ে পাঠক টানার চেষ্টা করা হয়। এটাও ইয়োলো জার্নালিজমের ভেতর পড়ে। সবমিলিয়ে দেশের সংবাদমাধ্যম এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অসাধু পেশা হিসেবে এরই ভেতর চিহ্নিত হয়ে গেছে। ফলে দেশের ভেতরের অনেক সত্য আমরা জানতে পারছি না। আবার যেটা জানতে পারছি, তার অনেকটাই আসলে মিথ্যা। এভাবে নিশ্চয় সুদিন আসবে না। আশা করা, সাংবাদিকরা যেমন তাদের দায়িত্বে আরো যত্নবান হবেন, তেমনটি রাষ্ট্রীয় নীতিমালাও শক্ত হবে। কেউ সাংবাদিক হয়রানির শিকার হলেই যেন আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সাংবাদিকদের যে ভূমিকা সেটি যেন আরো স্পষ্ট ও আরো চিহ্নিত হয়ে ওঠে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন