শিরোনাম :

ভূমিকম্প না জঙ্গিকম্প?


শনিবার, ১৬ জুলাই ২০১৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের জন্য ৯ মাত্রার ভূমিকম্প অপেক্ষা করছে। রিখটার স্কেলে এটাই ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ পর্যায়। ৯ মাত্রার ভূমিকম্প মানেই মহা প্রলয়। রাস্তাঘাট, নদী, পাহাড় কিচ্ছু থাকবে না। বাংলাদেশের জন্য ৭ মাত্রার ভূমিকম্পই পারমানবিক বোমার মতো সর্বনাশা। ৯ মাত্রার হলে তো কথায় নেই। ধ্বংস অনিবার্য। তবে কিছুটা আশার কথা হল বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট করে বলে দেননি কবে আসছে সেই ভূমিকম্প। এক্ষেত্রে আমরা কিছুটা হলেও নির্ভয়ে কাটাতে পারি। তবে যথেষ্ট ঘাবড়ে যাওয়ার কারণ এখন অন্যখানে, সেটি হল জঙ্গিকম্প। গুলশানে রেস্তোরাঁয় ঢুকে মাত্র কয়েকজন জঙ্গির হাতে পুলিশসহ দেশ বিদেশের ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার কিছুদিন পরেই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতে হামলা করা হয়েছে। এখানেও প্রাণ হারিয়েছে কয়েকজন। যথাসময়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব না হলে আরো বড় কিছু ঘটে যেত। ফলে আমরা ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের চেয়ে কম গুরুত্ব দিয়ে দেখতে পারছি না এই জঙ্গিকম্পকে। দুটোই এখন বাংলাদেশ ও বাঙালির অস্তিত্বের জন্য সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। 

ভূমিকম্প বিষয়ে বলা যায়, ভূমিকম্প হবেই, হলে কবে হবে, সেটা কত মাত্রার হবে—এটা কেউ বলতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল আমরা ভোগ করছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা সংগ্রাম করতেও শিখেছি। প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই দেশের উপকূলীয় মানুষজন টিকে আছেন। জঙ্গি–বিষয়ক এই বিপদের হাত থেকেও দেশের জনগণ সংগ্রাম করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সামনে অনুপ্রেরণা হয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নেবে। তবে কাজটি হেসে খেলে যে হবে না, সেটি বোঝা যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ আর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয়। সরকারীভাবে আইএস দেশে নেই বলা হলেও এর সঙ্গে যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেই সেটি বলা হচ্ছে না। ফলে সরকারের পাশাপাশি জনগণকে এখন ঐক্য থাকতে হবে।

দেশের প্রত্যেক নাগরিকের, প্রতিটা পরিবারের, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আর প্রতিষ্ঠানের, গণমাধ্যমের ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা থাকতে হবে। আজ আর একার পক্ষে ভূমিকম্প ও জঙ্গিকম্প কোনটাই ঠেকানো সম্ভব নয়। আমার মতই শ্রেষ্ঠ, আমি যা করবো সেটিই কেবল গ্রহণীয়, এই চেতনা থেকে আজ আমাদের জাতিগতভাবে বের হয়ে আসতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিসর থেকে সরকারকে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ জাতিগতভাবে সহনশীল। রক্তে বহুত্ববাদী চেতনা মিশে আছে। এই জাতি সংকর জাতি। এই জাতির রক্ত থেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা মুছে দেয়া যাবে না। এসবই আজ আমাদের আশার কথা। শক্ত ফাউন্ডেশন আমাদের আছে, তাই আমরা আর জঙ্গিকম্পকে ভয় পেতে চাই না। সাহসিকতার সঙ্গে সকলে একসঙ্গে এই জঙ্গিকম্পের মোকাবেলা করতে চাই। সেটিই এখন টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন : হোক সে ভূমিকম্প, হোক সে জঙ্গিকম্প।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন