শিরোনাম :

দুদক’র অসাধু সিন্ডিকেটটি ভাঙা জরুরী


সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

দুদক’র অসাধু সিন্ডিকেটটি ভাঙা জরুরী

দেশে দুর্নীতি নূন্যতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারী প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানসহ অনেক শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও আমলার দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে ইতোমধ্যেই আলোচিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এবার প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার বিভিন্ন কর্মকর্তার অবিশ্বাস্য দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে।

খবরে প্রকাশ, দুদকের ভেতরে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে খালাস করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুসন্ধানকালে অনেককে ঢালাওভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, পরে অর্থের বিনিময়ে আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া হচ্ছে। মামলার পর তদন্ত পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও চার্জশিট প্রণয়ন নিয়ে হচ্ছে আরেক দফা দুর্নীতি। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আবার অনেকের দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করে তাকে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া আর দশটা সরকারী প্রতিষ্ঠানের মতো নিয়োগ ও পোস্টিং নিয়ে বাণিজ্য তো চলছেই। ফলে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠছেন একেকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনেকের বিলাসব্যসন তো হার মানায় শিল্পপতিদেরকেও।

যথারীতি দুদক’র কর্তাব্যক্তিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বিন্দুমাত্র অনুকম্পা দেখানো হবে না”। অতি সম্প্রতি দুদক’র ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ও ফৌজদারী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। আর এর আগে, বিগত ৭ বছরে দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু কথা উঠেছে, যেহেতু মামলা দেয়া থেকে শুরু করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায় পর্যন্ত জড়িত থাকেন বহু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাহলে তাদের অগোচরে কিভাবে শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি বাগিয়েছে এই সিন্ডিকেট সদস্যরা? তবে কী শুধু ঐ ১৩ জন না, বরং আরো বড় সংখ্যক অংশই জড়িত এমন অপকর্মে?

যা-ই হোক, আমরা আশা করি, অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে অসাধু সিন্ডিকেটটি ভাঙতে এবার সত্যিকার অর্থেই কার্যকর ব্যবস্থা নেবে দুদক এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকবে।
আর যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে চলমান দুর্নীতি দমন অবশ্য প্রয়োজনীয়, তাই এ বিষয়ে তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপ অবশ্য কাম্য।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন