শিরোনাম :

বিসিবিতে ব্যক্তিগত রোষানলে সংবাদকর্মী


বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০১৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিসিবিতে ব্যক্তিগত রোষানলে সংবাদকর্মী


আবারও আক্রমণের শিকার সংবাদকর্মী। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) -এর প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলীর প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন দ্য নিউ এজ'র ক্রীড়া প্রতিবেদক আতিফ জামান। গতকাল মঙ্গলবার ফতুল্লার খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের ম্যাচের খবর সংগ্রহ করতে আতিফ জামানের গায়ে হাত তোলেন বিসিবি'র নিরাপত্তা সমন্বয়ক ও সাবেক পেসার মোহাম্মদ আলী। সেসময় মোহাম্মদ আলী সাংবাদিক আতিফ জামানের শার্টের কলার টেনে ধরেন এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। কিন্তু কেন এমন করলেন মোহাম্মদ আলী? আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে মেহেদি নামের এক ভক্ত মাঠে ঢুকে পড়লে বিসিবি'র নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন সাংবাদিকরা। সেখানে অবধারিতভাবে নাম চলে আসে মোহাম্মদ আলীর। আতিফ জামান তাঁর পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো অভিজ্ঞতা কিংবা প্রশিক্ষণ না থাকা সত্ত্বেও কিভাবে সাবেক এই ক্রিকেটার নিরাপত্তা সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেলেন তা নিয়ে ওই প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রশ্নটা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োচিত। নিরাপত্তা নিয়ে যেখানে সারা দেশের মানুষ শঙ্কিত, সেখানে দেশের জাতীয় খেলোয়াড় এবং বিদেশী অতিথিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি নিরাপত্তার সাথে মোটেই সংশ্লিষ্ট নন। তিনি, মোহাম্মদ আলী, বিশালদেহী একজন সাবেক পেস বোলার শুধু। এমনকি নিরাপত্তা বিষয়ে তার কোন সাধারণ প্রশিক্ষণও নেই। তাহলে কিসের জোরে, কিসের ভিত্তিতে তিনি প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানটির? উত্তরটা জানা এখন খুবই দরকার। গত সপ্তাহে মেহেদির জায়গায় যদি আত্মঘাতী কোন জঙ্গী হামলা করতো তখন কি হতো আমাদের দেশের অবস্থান? সেই ভয়ঙ্কর অবস্থার দায় কার উপর বর্তাতো? নির্ঘাৎ প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়ক অর্থাৎ মোহাম্মদ আলীর উপর। জনগণের মনে ঘুরে বেড়ানো প্রশ্নগুলোই সংবাদকর্মীরা তুলে ধরেছেন তাদের প্রতিবেদনে। তাহলে নিশ্চিতভাবেই সংবাদকর্মী আতিফ জামানের উপর হামলাটি মোহাম্মদ আলীর অকর্মন্য ব্যক্তিরাগের প্রতিক্রিয়া।

সংবাদকর্মী নির্যাতন কোন নতুন ঘটনা নয় আমাদের দেশে। দেশ-বিদেশের তৃণমূলের খবর সবার কাছে পৌঁছে দেয়া মানুষগুলোর নির্যাতনের খবর যেন কোন প্রভাব ফেলে না জনগণ কিংবা প্রশাসনের ওপর। তারপরও আমরা এমন ঘটনার শিকার হলেই প্রতিবাদ করি নাগরিক ও মানবিক দায়িত্ব থেকেই। গতকালের ঘটনারও কোন সুবিচার হবে বলে আমরা আশা করি না, তবুও লিখছি, কারণ এটা নিশ্চিত জানি-- কালের লিপিতে লাল কালিতেই লেখা থাকবে মোহাম্মদ আলী এবং তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া প্রতিটি ব্যক্তির নাম।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন