শিরোনাম :

রমজানে ছুটির নামে স্কুল-কলেজে চলছে কোচিং


সোমবার, ২৯ মে ২০১৭, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রমজানে ছুটির নামে স্কুল-কলেজে চলছে কোচিং

ডেস্ক প্রতিবেদন: রাজধানীর বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রমজানের ছুটিতে ‘বিশেষ ক্লাস’ এর নামে শুরু করেছে কোচিং বানিজ্য। প্রায় সব স্কুল-কলেজই এই কোচিং ক্লাসকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চম, অষ্টম এবং দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিজ বিদ্যালয়েই এ ধরনের ক্লাসে বাধ্য করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১২ সালের ‘কোচিং বন্ধের নীতিমালা’ অনুসারে, অভিভাবকদের সম্মতি ব্যতিরেকে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা যাবে না বলে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এ নির্দেশনা মানছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়েই কোচিং করতে বাধ্য করছে। চলতি রমজান মাসজুড়েও শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে বাধ্য হচ্ছে। ক্লাস টাইমের আগে অথবা পরে টাকার বিনিময়ে কোচিং নিতে হচ্ছে তাদের।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদেরকে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে কোচিং সেন্টারে পরিণত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

জানা গেছে, আইডিয়াল স্কুলের মতিঝিল শাখায় মোট ৫৬টি রুম বিভিন্ন শিক্ষকদের নামে কোচিংয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যান্য ক্যাম্পাসেও কোচিংয়ে জড়িত শিক্ষকদের নামে রুম বরাদ্দ করে কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোচিং করানোর জন্য বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষকদের নামে রুম বরাদ্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর জন্য বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করলে আপনারা (সাংবাদিকরা) তাকে কোচিং বলছেন, অথচ বিদ্যালয়ের বাইরে যারা বিকল্প বিদ্যালয় খুলে জমজমাট কোচিং ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন, তাদের নিয়ে কিছু লেখেন না। জোর করে কাউকে প্রতিষ্ঠানে কোচিং করানো হয় না বলেও অধ্যক্ষ দাবি করেন।

অন্যদিকে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়েও পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ভাবে কোচিং করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক অভিভাবক। তারা বলেন, একদিন কোচিংয়ে শিক্ষার্থী না গেলে তাকে জরিমানা করা হয়।

পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মনিপুর স্কুলের ইংরেজি ও গণিত শিক্ষকরা ব্যাপকভাবে কোচিং ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছেন। স্কুলের সবক'টি শাখা মিলিয়ে বিদ্যালয়ের ১০০ গজের মধ্যেই ৩০-৩৫টি কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই কোনো না কোনো কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত।

রাজধানীর শান্তিবাগ উচ্চবিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকরা কোচিং করতে বাধ্য করছেন। এসএসসি পরীক্ষার এখনো প্রায় ১১ মাস দেরি থাকলেও এ পরীক্ষা পুঁজি করে কোচিং চালু করা হয়েছে। প্রতি মাসে মাথাপিছু আদায় করা হচ্ছে ৭৫০ টাকা। আরও অভিযোগ, কেউ কোচিং করতে আগ্রহ না দেখালে তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম জানান, কোচিং ব্যবস্থা একটা অনৈতিক পদ্ধতি। বিদ্যালয়েই কোচিং করানো আরও বেশি অনৈতিক। এর মানে হলো নিয়মিত ক্লাসে ওই শিক্ষকরা ভালোভাবে পড়ান না। এ ধরনের কোচিং মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে একেবারে প্রতিবন্ধী করে ফেলেছে। কাজেই এটার বিরুদ্ধে আমাদের নামতেই হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন