শিরোনাম :

একসঙ্গে মা-মেয়ের জিপিএ-৫ অর্জন


শনিবার, ৩ জুন ২০১৭, ০৬:২৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

একসঙ্গে মা-মেয়ের জিপিএ-৫ অর্জন

ডেস্ক প্রতিবেদন: নাটোরের শিল্পী বেগম ও তাঁর মেয়ে আশা মণি এবার একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

চরম দারিদ্র্যর সঙ্গে লড়াই করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভ করেছেন মা-মেয়ে। একসঙ্গে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

নাটোরের লালপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে মা ও মেয়ে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভ করেছেন।


১৯ বছর সংসার করার পর কেন মেয়ের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা হলো—জানতে চাইলে শিল্পী বেগম বলেন, ‘সংসারের অভাব-অনটনই আমাকে নতুন করে পড়ালেখার উৎসাহ জুগিয়েছে।

ভেবেছি, নিজে আরও কিছু পড়ালেখা করতে পারলে আর যা-ই হোক গৃহশিক্ষকতা করেও কিছু উপার্জন করে স্বামীকে সহযোগিতা করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘ভালো ফল করে আমার সাহস বেড়ে গেছে। স্বামী-সন্তানদের প্রত্যাশাও বেড়ে গেছে। তাই আমি ইতিমধ্যে মেয়ের সঙ্গে মঞ্জিলপুকুর কৃষি ও কারিগরি মহাবিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছি। ইচ্ছা আছে শেষ পর্যন্ত পড়ালেখা করব।’

শিল্পী বেগমের বড় মেয়ে আশা মণি জানায়, সে মাকে পরীক্ষা দেওয়াতে পেরে ভীষণ খুশি হয়েছে। ভালো ফল করাতে আরও খুশি হয়েছে। বাবা চাইলে সে মাকে সঙ্গে নিয়ে পড়ালেখা করে যাবে।

সে আরও জানায়, কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে বাগাতিপাড়ার মা-ছেলের এসএসসি পাসের গল্প শুনে তারা মুগ্ধ হয়েছে।

আশা মণির বাবা আজিজুর রহমান বলেন, ‘বাইরে থেকে কোনো মানুষ আমার পরিবারের সদস্যদের সংগ্রামের কথা অনুমান করতে পারবে না। কারণ আমরা কারও কাছে খুব সহজে সহযোগিতার জন্য যাই না। মান সম্মানের কথা ভেবে এক বেলা না খেয়ে ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি আমার স্ত্রীর পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা গুছিয়েছি। সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রতি সহায় হয়েছেন। আমি আমার সাধ্যমতো স্ত্রী ও সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে যাব।’ সূত্র: প্রথম আলো

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন