শিরোনাম :

রাবি’র সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি


শনিবার, ৫ আগস্ট ২০১৭, ০৭:০৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাবি’র সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একই বিভাগের সহকর্মী রুখসানা পরভীন এর যৌন হয়রানির আনীত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে লিখিত বক্তব্য দাবি করেন বিভাগের শিক্ষক ড. এস এম এক্রাম উল্যাহ।

শুক্রবার বিকালে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগে সাংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগকারী রুখসানার বিরুদ্ধে তদন্ত করে মিথ্যা অভিযোগের জন্য শাস্তি দাবি করেন। এসময় প্রফেসর রুহুল আমিনসহ বিভাগের ১১জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত শিক্ষকের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য এস এম এক্রাম উল্যাহ বলেন, বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিনের অধীনে রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগ ও আইবিএস এ তার বেশ কয়েকজন এমফিল ও পিএইচডি ফেলো আছেন। তারমধ্যে রুখসানা পারভিনও একজন ফেলো ছিলেন। তিনি গবেষনার নিয়ম কানুন পালন না করেই হঠাৎ একদিন সম্পূর্ণ থিসিসের খসড়া করে নিয়ে স্বাক্ষর প্রদানে চাপ সৃষ্টি করেন। রুহুল আমিন স্যার স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুখসানা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ ও অপপ্রচার চালাতে থাকেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।

এদিকে শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিভাগীয় সভাপতি ড. নাসিমা জামানের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও নিয়ম বহিভর্’ত কর্মকান্ডের জন্য অনাস্থা দেয়া হলে। তিনি নৈতিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য রুখসানাকে হাত করেন এবং ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করেন। সে লক্ষ্যে মূলত রুখসানা সভাপতি নাসিমা জামানের উপস্থিতিতে ড. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভাগের শিক্ষার্থীর কাছে প্রত্যাশিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষার জন্য এবং রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগকে বিপদ সংকুল অবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্য সভাপতি ড. নাসিমা জামানকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ ও রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্টজ্ঞিান বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, ‘গবেষণাপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই স্বাক্ষর করাতে চাপ প্রয়োগ করে। তাতে আমি অস্বীকৃতি জানালে, আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ ও অপপ্রচার চালাতে থাকে। একপর্যায়ে সে আমার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলে। যা আমার শিক্ষকতার ৩২ বছর জীবনে ন্যাক্কার জনক ঘটনা। আমি অভিযোগকারী রুখসানার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি’।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারী ১১ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীন বিভাগের কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এবং গত ৩ আগস্ট সাংবাদিকদের কাছে রুহুল আমিন দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে বিভাগের ১১জন শিক্ষক সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করে ভিসিকে অভিযোগপত্র দেন ।

এনিয়ে বিগত কয়েকদিন যাবৎ বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দের ফলে অস্বস্থিকর পবিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।


এবিএ

 

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন