শিরোনাম :

চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বেরোবির দুই ছাত্রলীগ নেতাকে গণধোলাই


মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট ২০১৭, ০৩:১০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বেরোবির দুই ছাত্রলীগ নেতাকে গণধোলাই

বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান হাদী ও শহীদ মুখতার এলাহী হল শাখা ছাত্রলীগের (সামায়িক বহিস্কৃত) সভাপতি ইমতিয়াজ বসুনিয়াকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের পাশে এই ঘটনা ঘটে। আহত দুই ছাত্রলীগ নেতার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এই ঘটনায় রাত প্রায় ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সঙ্গে এক জরুরী সভা করে তিন সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটিতে সহকারী প্রক্টর ড. মোঃ রুহুল আমিনকে আহ্বায়ক, সহকারী প্রক্টর মোঃ আতিউর রহমানকে সদস্য সচিব এবং মুহা: শামসুজ্জামানকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল লতিফ অভিযোগ করেন, হাদিউজ্জামান হাদী ও ইমতিয়াজ বসুনিয়া সোমবার সকাল বেলা সাব কন্ট্রাক্টার মতিয়ারের কাছ থেকে চার হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যায়। এরপর রাতে আবার চাঁদার দাবিতে আসলে এখানকার শ্রমিকরা তাদেরকে গণধোলাই দেয়।

ঘটনায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান হাদী মাথায় গুরুতর জখম হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও মুখতার ইলাহী হল শাখার (সাময়িক বহিস্কৃত) সভাপতি ইমতিয়াজ বসুনিয়ার একটি হাত ভেঙ্গে গেছে বলে জানা গেছে। তারা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।


তাৎক্ষনিকভাবে আহতদের মন্তব্য নেয়া সম্ভব না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী নিরাপদে থাকুক। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে শিক্ষার্থীদের যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ক্যাম্পাসের ভিতরেই এরকম ঘটনা উদ্বেগজনক।


সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মঙ্গলবার সকালে বলেন, ঘটনার সময় ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলাম। মুঠোফোনে জানতে পারি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন আউটগোয়িং শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়েছে। শুনামাত্র আমি শহর থেকে ক্যাম্পাসের দিকে রওনা দেই। পরে আহতরা হাসপাতালে রয়েছেন জেনে প্রথমে হাসপাতালে আহতদের দেখে ক্যাম্পাসে এসে রাতেই রংপুর কোতায়ালী থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শিন করি। রাতেই প্রক্টরিয়াল বডির সাথে জরুরী সভা করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।"

তবে ঘটনাটি কারা এবং কি কারণে ঘটিয়েছে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য এখনো জানা যায়নি বলে জানান তিনি। অবশ্য ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে মঙ্গলবার দিনে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান উপাচার্য।


তদন্ত কমিটির আহবায়ক সহকারী প্রক্টর রুহুল আমীন মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে কথা বলাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। আশা করি দ্রুত ফাইন্ডিং (ফলাফল) বের করতে পারব। যেহেতু ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে ছুটি শেষে যতদ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

এসএস

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন