শিরোনাম :

রাবির ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে মেস মালিকদের চরম স্বেচ্ছাচারিতা


বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ০৬:৫৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত মেস মালিকদের স্বেচ্ছাচারীতা চরম আকার ধারণ করেছে।

ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক রাত্রে মেসে অবস্থানের জন্য দু’শ টাকা করে চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে মেস মালিক কর্তৃপক্ষ। এমনকি এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমর্থনও আদায় করে তারা। তবে মেস মালিকদের এমন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত ও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমর্থনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে আজ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনও করেছে। মেস মালিকদের এমন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তকে তারা ‘মামা বাড়ির আবদার’ বলেই ভাবছেন।

এ বিষয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে মেস মালিকদের এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চরম ভোগান্তিতে হবে বলে অভিমত অনেকের। 

এ বিষয়ে কথা বললে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসগুলোতে অবস্থানরত একাধিক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেসগুলোতে থাকতে আমাদেরকে প্রতিমাসে ছয়’শ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া খাওয়া খরচ তো রয়েছেই । বাসা থেকে তো একজন শিক্ষার্থীর আত্মীয়-স্বজন আসতেই পারে। মানবতার দৃষ্টিতেই তো বিষয়টিকে সবাই দেখে। তাহলে ভাড়া দিয়ে মেসে থাকলে কেন বাড়তি টাকা গুণতে হবে।’

তারা আরো বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভর্তিচ্ছুরা রাজশাহীতে দু একদিনের জন্য আসছেন অতিথি হয়ে। মেস মালিকরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটতে শুরু করেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেসে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা এমনিতেই ভাড়া দিয়ে মেসে থাকি। তাহলে এপ্লিকেন্টদের রাখতে আবার টাকা কীসের? ‘মামা বাড়ির আবদার’ নাকি? যা ইচ্ছা তাই করে আমাদের সাথে ব্যবসা করবে? এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোড়ল বলেন, ‘মেস মালিকদের এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ হঠকারিতামূলক। আর তাতে অনুমোদন দেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন ভাবেই সাজে না। আমাদের প্রশাসনের উচিত ছিলো তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া। সেটাতো করছেই না উপরি তাদের উপর দুই’শ টাকার বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।’

মস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল হোসেন বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় মেসে অতিরিক্ত চাপ বেড়ে যায়। এতে বিদ্যুত, পানির বিল বেড়ে যায়। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতি রাতে একজন পরীক্ষার্থীর কাছে দুই’শ টাকা করে রাখার ‘আবদার’ করেছিলাম। তারা বলেছে গরিব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কম করে ধরবেন। কারো কাছ থেকে দুই’শ টাকার বেশি নিবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে দুই থেকে আড়াই’শটি মেস রয়েছে। এর মধ্যে ১১৮টি সমিতির্ন্তভুক্ত। সমিতির অন্তর্ভুক্ত কেউ অনিয়ম করলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

বৈঠকে মেস মালিক সমিতির নেতারা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যাল প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠকে রাবি প্রক্টর ও জনসংযোগ প্রশাসক ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, মেস মালিক সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাম্স উদ্দিন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার জানান, প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় অনেক ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবক রাজশাহীতে আসেন। শুরুতেই তাদেরকে আবাসন সমস্যায় পড়তে হয়। বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে মেস মালিক নেতারা এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকরা তাদের পরিচিতের মাধ্যমে মেসগুলোতে থাকতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, মেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সার্বিকভাবে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে তারা। ভর্তি পরীক্ষার সময় এপ্লিকেন্টরা এসে থাকাতে মেসের মালিকদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ অনেক খরচ হয়। এজন্য তারা নির্ধারিত দুই’শ টাকা নিবে। কেউ এর বেশি নিয়ে হয়রানি করবে না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন