শিরোনাম :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজেশ বাঁচাতে চায়


বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজেশ বাঁচাতে চায়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ‘মরতে ভয় নেই আমার।আমরা যতই পরিকল্পনা করি অথবা নিজের ওপর আমাদের যতই নিয়ন্ত্রণ থাকুক না কেন মৃত্যু হয়তো সর্বদাই জয়ী হবে।আমার একমাত্র ভয় মা-বাবা, ভাই-বোন এবং ছায়ার মতো সর্বদা পাশে থাকা বন্ধুদের হয়তো হারিয়ে ফেলবো।’- অশ্রুসিক্ত ও আবেগঘন কণ্ঠে, কৃত্রিম অভিমানের সুরে কথাগুলো বলছিলেন দুটি কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জারত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাজেশ গোপ (২২)।

দিনকয়েক আগেও যে ছেলেটি হাসিমাখা মুখ ও প্রাণোচ্ছ্বলভাবে বন্ধুদের আড্ডার মধ্যমণি হয়ে ক্যাম্পাস চষে বেড়িয়েছে, সে এখন ঢাকা পি. জি হাসপাতালের কিডনি বিভাগে (কেবিন নং- ৪/এ; বেড নং-২২) প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে বাঁচার আশায় মৃত্যুর সাথে লড়ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনী স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলছেন- ‘একজন স্বাভাবিক মানুষের কিডনি’র ঈৎবধঃরহরহব থাকে যেখানে ০.৭ ড়ৎ ১.২, সেখানে রাজেশের আছে ঈৎবধঃরহরহব ২৭.৩০। এমতাবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে তার কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।’ তার কিডনি’র অপারেশন ও নিয়মিত ডায়ালিসিস এর জন্য কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজেশ বাঁচাতে চায়

রাজেশের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায়। বাবা জিতু গোপ সামান্য পানের দোকানি।মা নমিতা রানী গোপ অসচ্ছল গৃহিনী।পান বিক্রি থেকে সামান্য যে অর্থ আসতো তা দিয়েই তিন ভাই-বোনের পড়ালেখা চালাতে চেষ্টা করেছেন বাবা জিতু গোপ।অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়ে মেয়েকে বিয়ে দিতে হয়েছে।তারপরও বড় ছেলেটা (রাজেশ) যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেল, ভেবেছিলেন এবার হয়তো তাঁর কষ্ট লাঘব হবে।

বাবার সেই স্বপ্নের পথেই হাঁটছিল রাজেশ।ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়ে ইতিমধ্যেই ক্লাসের প্রথম সারিতে তার কৃতিত্ব।পরিবার থেকে ঠিকমতো অর্থ সহযোতিা না পেয়ে নিজে কষ্ট করে টিউশন করেই চলতে হতো থাকে।এখন পর্যন্ত তার ফলাফল সিজিপিএ ৩.৬৭।এভাবেই যখন একটু একটু করে স্বপ্নের জাল বুনন করছিল রাজেশ ঠিক তখনই তাঁকে বজ্রাঘাত করলো মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট। ‘দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে’-শুনে রাজেশ ভাবছে স্বপ্নের ইতি বোধহয় এখানেই টানতে হবে। মা নমিতা রানী বাকরূদ্ধ হয়ে পড়লেন। বাবা জিতু গোপ পড়লেন আকাশ থেকে। তাই অপারগ হয়েই নিজের ছেলের জন্য সাহায্যের আবেদন জানালেন সমাজের বিত্তবান ও অনুরাগীদের কাছে।

শুধুমাত্র টাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া একজন জাতির কর্ণধারের স্বপ্ন থেমে যাবে! তা কী করে হয়? তাই ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি ড. শেক মকছেদুর রহমান এরই মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে রাজেশের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।এছাড়াও একজন অদম্য মেধাবীকে বাঁচাতে দেশের বিত্তমহলের আর্থিক সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

এদিকে রাজেশের চিকিৎসার খরচ যোগাতে তার বন্ধুরা সর্বাত্মক সহযোগিতার শপথ নিয়ে কাজ করছেন।অর্থ যোগাতে তারা যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে, দেশের বিভিন্ন জেলায়।তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা স্বল্প হওয়ায় রাজেশের পরিবার ও বন্ধুরা সমাজের দানশীল ও সহৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের কাছে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আপনার মূল্যবান সাহায্য পাঠান:
বিকাশ (পারসোনাল) ০১৬৩৫ ৫০১৭৯৩;
রকেট (পারসোনাল) ০১৬৩৫ ৫০১৭৯৩১;
ব্যাংক হিসাব নম্বর- ০১০০১১১৮১০০৬৫, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

রাজেশের পরিবার ও বন্ধুরা বিশ্বাস রাখে, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ও আপনার সাহায্যই পারে একজন অদম্য মেধাবী রাজেশকে আবারো চিরসবুজ ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে দিতে।

এস এম জে

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন