শিরোনাম :

রাবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্ক


বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:১৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি, ছিনতাই, চুরিসহ নানা ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে। এছাড়া সম্প্রতি আবাসিক হলের সামনে থেকে ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের জন্য ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বা আবাসিক হলে পুলিশ অবস্থান করলে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। একের পর এক নিরাপত্তহীনতার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

জানা যায়, ১৭, ২০ ও ২১ নভেম্বর ক্যাম্পাসে অপহরণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। ১৭ নভেম্বর শোভা নামের এক শিক্ষার্থী হলের সামনে থেকে জোর পুর্বক তুলে নিয়ে অপহরন করে। ২০ নম্বেবর রাতে হলের সামনে বহিরাগত মটর সাইকেলে এসে শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। ২১ নম্বেবর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী টিউসনি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে পথিমধ্যে একাকি পেয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

বিগত কয়েকদিনে যৌন হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবীতে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “বাংলাদেশে যত গুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে পুলিশি নিরাপত্তা বেশি। এত নিরাপত্তা থাকা সত্বেও একের পর এক যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেই চলছে। যদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারেন তাহলে ছাত্রী ভর্তি বাতিল করে দেন”।

বিশ্ববিদ্যালয় গত প্রশাসনের সময় ‘যৌন হয়রানি সেল চালু ছিল কিন্তু সেটার মেয়াদ উত্তীর্ন হয়েছে। তবুুও বর্তমান প্রশাসন নতুন করে কার্যকর করেনি’।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে, গত ১৭ নভেম্বর তাপসী রাবেয়া হল থেকে বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শোভা পরীক্ষা দিতে বের হলে তার সাবেক স্বামী জোরপূর্বক মইক্রোবাসে টানা হেচড়াঁ করে তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশ্য দিবালোকে এই ভাবে সকলের সামনে থেকে নিয়ে গেলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। যদিও প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে পুলিশ মোতায়ন করা আছে। পরে ছাত্রী অপহরণের পরে আবাসিক হলের ছাত্রীরা আন্দোলনে নামলে, তাদের চাপের মুখে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ অপহৃত ছাত্রীকে ৩০ ঘন্টা পরে ঢাকার মোহম্মদপুর থেকে উদ্ধার করে।

এদিকে অপহরণের ঘটনাসহ অন্যান্য ঘটনায় ক্যাম্পাসে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক হলের পুলিশ কি কাজ সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ শুধূ বসে মোবাইলে ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। হলেৃর নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের কোন ভুমিকা নেই। হলে কোন মারামারি হলে তারা উদ্ধোতন কতৃপক্ষের নিকট সাহায্য চাই”।

রাতে ক্যাম্পাস একা চলা অর্থ হচ্ছে নিজের উপর বিপদ ডেকে আনা। রাতের বেলা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ছিনতাই কারী চক্রগুলো যেন অৎ পেতে থাকে। আবাসিক হলে রাস্তায়, শিক্ষকদের কোয়াটার এর দিকে যায়তে গেলে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি এবং চাকু দেখিয়ে ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে হবিবুর রহমান হলে যাওয়ার রাস্তায়, কাজলা গেট দিয়ে ঠুকে জুবেরী মাঠ, চারুকলা অনুষদের রাস্তায়, ইবলিশ চত্বরের রাস্তায় সন্ধ্যা হলেয় ছিনতাইকারী চক্র অবস্থান নেই। রাতের অন্ধকারে ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে। কিছু দিন আগে ভর্তি পরিক্ষার সময় বিভিন্ন স্থানে একাধিক ছিনতাই এর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেইনি প্রশাসন।

এদিকে সবচেয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে আবাসিক হল চুরির ঘটনা। হলের কর্মরত দারোয়ান ও পুলিশ থাকা সত্ত্বেও ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেই থাকে। বিশেষ করে গত দুই মাসে নবাব আব্দুল লতিফ হলে আবাসিক শিক্ষার্থীর ৪ টি ল্যাপটপ, ৮টি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের বেলা জানালে দিয়ে নিয়ে গেছে অথবা দিনের বেলা ক্যাম্পাসের গেছে ফিরে এসে দেখে রুমের তালা ভাঙ্গা। এদিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো প্রশাসন নোটিশ দিয়ে মোবাইল, ল্যাপটপ সচেতনভাবে রাখার জন্য বলা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবী, ‘হলে চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জড়িত নয়। বরং গার্ড বা পুলিশের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে বহিরাগত টুকাই কিছু ছেলেরা এই সব চুরি করে থাকে।’ এই চুরি যে শুধু লতিফ হলে তা নয়, বরং প্রতিটি হলেই সুযোগ বুঝে চুরি করে যাচ্ছে অপরাধীরা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাশে তো ডেস্কটপ নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। চুরির ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা জড়িত নয়। বহিরাগত ও পাশর্^বর্তী এলাকার চোর জড়িত। সামান্য এ নিরাপত্তাটুকু প্রশাসন দিতে ব্যর্থ হয়। তাহলে আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইবো।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তমশ্রী দাস বলেন, ‘যৌন হয়রানির মূল কারন বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু। হয়রানিতে যারা জড়িত তাদের সুষ্ট তদন্ত করে তাদের বিচার ব্যবস্থা করা হয়না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে যৌন হয়রানির সেল আছে সেটার বাস্তবায়ন নেই। ক্যাম্পাসে পুলিশি নিরাপত্তা আপাত দৃষ্টিতে সমাধান মনে হলেও এটা স্থায়ী সমাধান না। সমাধানের জন্য বিভিন্ন বিভাগে যে সান্ধ্য কোর্স চালু আছে সেটাকে বন্ধ করতে হবে’।

নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি অনাকাঙ্খিত যে ঘটনা গুলো ঘটেছে এ জন্য আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশা করি আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবেনা’।

বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ পথ দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ না করুক সেটা আমরা চাই তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় এটা অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠেনা। নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি’।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন