শিরোনাম :

অমেরুদণ্ডী ২টি প্রাণী আবিষ্কার


সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ০৪:১৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

অমেরুদণ্ডী ২টি প্রাণী আবিষ্কার

নোবিপ্রবি: এবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক এবং সমুদ্র বিজ্ঞানী ড. মো. বেলাল হোসেন নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চল থেকে Neumania nobiprobia (নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া) ও Arrenums smiti (অ্যারেনুরাস স্মিটি) নামে আরও দু'টি অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করেছেন।

এর আগে তিনি ২০১৬ সালে দু'টি জলজ অমেরুদণ্ডী প্রাণী আবিষ্কার করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।

প্রথমটির নামকরণ করা হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর নামে। দ্বিতীয়প্রাণীটির নামকরণ করা হয় নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত একারোলজিষ্ট হ্যারি স্মিথ এর নামে।


নতুন এ দুটি প্রাণীর সহআবিষ্কারক হলেন নোবিপ্রবি মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। দেশের সীমানা পেরিয়ে তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি বিজ্ঞানী যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পূর্ণ নতুন এ প্রাণীর সন্ধান দিলেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করেন খ্যাতিমান এ সমুদ্র বিজ্ঞানী।

প্রাণীজগতের আর্থোপোডা পর্বের একারিয়া বর্গের অন্তর্গত প্রাণী দু’টি অত্যন্ত ছোট এবং দেখতে কিছুটা ছোট মাকড়শার মতো। এরা মাইটস নামে পরিচিত। এদের আকার ২ থেকে ৩ মি.মি. এবং হালকা লাল ও হলুদ বর্ণের হয়। তাছাড়া দুটি শুঁড় ছাড়া ও চারজোড়া সন্তরন পা থাকে। এরা সাধারণত পুকুর, নদী বা খালের পানির উপরে স্তরে ভাসমান উদ্ভিদের সাথে ঝুলে থাকে। খাবার হিসেবে উদ্ভিদকণা গ্রহণ করে। তবে লার্ভা অবস্থায় এরা অন্য জলজ প্রাণীর দেহে পরজীবী হিসেবে বাস করে তাদের থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এরা জীবজগতের খাদ্যচক্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মো. বেলাল হোসেনের সঙ্গে সহগবেষক হিসেবে ছিলেন মন্টেনিগ্রোর বিখ্যাত একারলজিস্ট ড. ভ্লাদিমির, ভারতের ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রফেসর তাপাস চ্যাটার্জী, পোল্যান্ডের শেচিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আন্দ্রজেল জয়েল এবং ড. মো: বেলাল হোসেনের ছাত্র মো: সাইফুল ইসলাম। চার দেশের পাঁচ গবেষকের সমন্বিত গবেষণায় এই দু’টি প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়।

গত বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ড. বেলাল হোসেন নোয়াখালীর বিভিন্ন পুকুর,খাল এবং নদী থেকে মাইটসের নমুনা সংগ্রহ করেন। এতে সঙ্গী হন তারই ছাত্র নোবিপ্রবি মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী হতে সংগৃহীত নমুনা প্রথমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে শনাক্তকরণ করা হয়।

পরে ফলাফলের জন্য মধ্য ইউরোপের দেশ মন্টেনিগ্রোতেগবেষক ড. ভ্লাদিমিরকাছে পাঠানো হয়। ড. ড. ভ্লাদিমির নমুনাগুলো চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করেন ও সিদ্ধান্তে উপনীতহন।

ড. বেলাল জানান, প্রজাতি দু’টির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জার্নাল বায়োটাক্সায় (biotaxa.org) পাঠানো হয় । গত ১৪ মে First records of water mites from Bangladesh (Acari, Hydrachnidia) with the description of two new species শিরোনামে গবেষণাটি জার্নালে প্রকাশিত হয়। একই দিনে বিশ্ব স্বীকৃত ডাটাবেজ Zoobank (যোব্যাংক) এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রজাতি দু’টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।

ড. বেলাল বলেন, ‘স্থলজ মাইটস যেমন ছাড়পোকা, মাকড়শা ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা হলেও জলজ মাইটস নিয়ে এই প্রথম বাংলাদেশে গবেষণা হয়েছে। আমাদের উপকূলীয় বা সামুদ্রিক অঞ্চল অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ। গবেষণার অপ্রতুলতার কারণে আমাদের দেশের জীববৈচিত্রের সম্পূর্ণ তালিকা এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত আমি যতটুকু গবেষণা করেছি সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজস্ব অর্থায়নে। খুশির ব্যাপার হচ্ছে দু’টি প্রজাতির মধ্যে Neumania nobiprobia (নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া) এর নামকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সংক্ষিপÍ রূপ নোবিপ্রবি এর সঙ্গে মিল রেখে করেছি।’

সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের জীববৈচিত্র নিয়ে আরো ব্যাপক আকারে গবেষণা সম্ভব হবে বলে এই সমুদ্র বিজ্ঞানী জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে Nephtys Bangladeshi(ন্যাফটাইস বাংলাদেশি) নামে অমেরুদণ্ডী পলিকীটের নতুন একটি প্রজাতি এবং দেশের বাইরে ব্রুনাই এর সমুদ্র এলাকা থেকে Victoriopisa bruneiensis(ভিক্টোরিওপিসা ব্রুনেইয়েনসিস) নামে অমেরুদণ্ডী পলিকীটের নতুন দু’টি প্রজাতি আবিষ্কার করেন হইচই ফেলে দেন।

ড. বেলাল হোসেন চৌদ্দগ্রাম থানার কেন্দুয়া গ্রামের মৃত আব্দুছ ছোবাহান ভূঁঞা ও দেলোয়ারা বেগমের প্রথম পুত্র। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগে স্নাতক,যুক্তরাজ্যের হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং ব্রুনাইদারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সম্প্রতিতিনি অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন