শিরোনাম :

ডাকসু-এর আদি কথা


রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:১৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ডাকসু-এর আদি কথা

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) এর জন্ম ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কিছু সময় পরেই। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসে এক ঘটনাবহুল অবদান রাখে এই সংগঠনটি। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ৭১-এর স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করেছে এই ডাকসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ।

প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচন :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর প্রতিষ্ঠা ১৯২৪ সালে। ১৯২৪-২৫ সালে প্রথম ডাকসুর ভিপি মনোনীত করা হয়। ১৯৫৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ডাকসুর প্রথম নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে ভিপি মনোনীত ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রথম নির্বাচন ১৯৫৩ সালে। ডাকসুর প্রথম ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) হিসেবে নির্বাচিত হন এস এ বারী এটি এবং জিএস (জেনারেল সেক্রেটারি) হিসেবে নির্বাচিত হন জুলমত আলী খান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং জিএস নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ডাকসু এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। ডাকসুর নেতৃবৃন্দের সাহসী ও বলিষ্ঠ উদ্যোগে ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন ১৯৭১ সালে থাকা ভিপি আ স ম আবদুর রব। আর এ সময় জিএম ছিলেন আবদুল কুদ্দুস মাখন। ডাকসুর সবর্শেষ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয় ২৪ বছর আগে ১৯৯০ সালে। ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসুর ও ১৮ টি আবাসিক হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৯৮৯ সালের ৮ ই ফেব্রুয়ারি ডাকসু ও হল সংসদের ৬ষ্ঠ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভিপি নির্বাচিত হয় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং জিএস হন মুশতাক হোসেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৯০ সালের নির্বাচন ছিল ৭ম নির্বাচন। ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে ২৮ হাজার ৬ শত ৯০ জন ভোটারর মধ্যে ১৮ হাজার ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।ডাকসুর ২০ টি পদে ৪৮৯ জন এবং ১৪টি পদে ১০৪০ জন প্রার্থী সেদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

ডাকসু সংগ্রহশালা :
ডাকসু ভবনের নিচতলায় আছে ডাকসু সংগ্রহশালা। এই সংগ্রহ শালার বর্তমান দায়িত্বে আছেন শ্রী গোপাল চন্দ্র দাস। তিনি ডাকসুর এই সংগ্রহ শালায় স্থান দিয়েছেন বাংলাদেশের পুরো ইতিহাসকে। তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেছেন। বর্তমানে যে ডাকসু ভবন এবং সংগ্রহ শালা রয়েছে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৯১ সালের ২৬ শে মার্চ। স্থাপন করেন তৎকালীন উপাচার্য ডাকসু সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান মিয়া।

বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসের স্থিরচিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে এই সংগ্রহশালায়। আর এই সংরক্ষণের দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে পালন করছেন শ্রী গোপাল চন্দ্র দাস। এই সংগ্রহশালাটিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবেষ্টিত বিভিন্ন ছবি ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের ছবি, লেখা, খবরের কাগজের কালেকশন এমনকি গোপাল চন্দ্র দাসেরও নিজস্ব তোলা কিছু স্থিরচিত্র ও ভাস্কর্য রয়েছে যেগুলো পুরো পূর্ব বাংলাকে আমাদের চোখেন সামনে হাজির করে।

ডাকসু ভাবনের দেয়ালে (মধুর ক্যান্টিনের সামনে) যে ম্যুরাল চিত্রটি দেখেন এটি চেতনায় একুশ নামে পরিচিত। এই ম্যুরাল চিত্রটির শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এস এ আমিন। চিত্রটিতে ৪ জন ভাষা শহীদের ছবি রয়েছে।

ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে বরাবর সামনে তাকালে দেখা যা্বে সেই ঐতিহাসিক আমতলা। যেখানে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রতিবাদী ছাত্র সভা হয়েছিল। এখান থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবিদের সংরক্ষিত ছবি, যাঁরা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দুইদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর রাজাকারদের সহায়তায় পাকহানাদারদের হাতে শহীদ হন।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র জনতার উপরে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে সেখানে মারা যান অনেক ছাত্রজনতা। তাদেরই স্মৃতি রক্ষার্থে সেদিন রাতেই ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া দেশের প্রথম শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়। ২২ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ শফিউরের পিতা তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এই ছবিটি সেই প্রথম শহীদ মিনারের ছবি এবং পাশের ব্যক্তিটি পিয়ারু সরদার যিনি এই শহীদ মিনারটি নির্মাণে সব ধরনের নির্মাণ সামগ্রী প্রদান করেন।

সংগ্রাহক শ্রী গোপাল চন্দ্র দাস নিজের তৈরি ভাস্কর্যের সাথে। তিনি জানান, সংগ্রহশালাটি আরো বড় করা গেলে ভালো হতো, অনেক কিছুই ঠিক মতো রাখতে পারছেন না স্থানের অভাবে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন যশোর জেলাতে আনন্দমুখরিত তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আর বাম পাশের ছবিটির মত অসংখ্য বাঙালি ঠিক এভাবেই মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন কঠিন প্রতিরোধ এবং প্রাণপন যুদ্ধ করেছিলেন পাক হানাদারের বিপক্ষে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন