শিরোনাম :

কেন্দ্র সচিবদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত


সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কেন্দ্র সচিবদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

ঢাকা: এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে সারাদেশে ভুল প্রশ্নে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এর রেশ রোববারও অব্যাহত ছিল। ওই ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে। যেসব কেন্দ্রে ভুল বা পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার ঘটনা ঘটেছে সেখানকার কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের তালিকা হচ্ছে। এছাড়া কেন্দ্র সচিবদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বোর্ডগুলোর ওই সিদ্ধান্তের পর রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত ১৬ কেন্দ্র সচিব এবং ৩৭ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির খবর পাওয়া গেছে। ভুলের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতিবেদন কেন্দ্রগুলো থেকে সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড। এসব শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদা মূল্যায়নে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শনিবারে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে সহকর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। তিনি সংসদকে অবহিত করেন, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নে নিয়মিতদের পরীক্ষা নেয়ায় এমন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। তবে ভুলের শিকার ছাত্রছাত্রীরা এজন্য কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তাদের চিহ্নিত করে উত্তরপত্র আলাদা করা হয়েছে। আলাদাভাবেই তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

এর আগে সকালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনকালে কয়েকটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠান বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভুল-ত্রুটি এড়িয়ে আরও সুন্দরভাবে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হলে যে কোনো শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরই দুশ্চিন্তায় থাকার কথা। অভিভাবক হিসেবে আমিও উদ্বিগ্ন হতাম। তাই এমন ঘটনার জন্য যে বা যারা দায়ী তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন পাঠাতে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সচিবরা দায়ী কক্ষ পরিদর্শকদের তালিকা পাঠাবেন। আর দায়ী সচিবদের তালিকাও করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ার ভুলে যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই বিবরণের প্রতিবেদন বোর্ডে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার উদ্ভব না ঘটে, সেজন্য নিয়মিত এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ৪ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সেটি অনুসারে পরীক্ষার ২ ঘণ্টার মধ্যে কেউ বের হতে পারবে না। ২ ঘণ্টা পর কেউ বের হলে প্রশ্নপত্র সঙ্গে নিতে পারবে না।

প্রতিনিধিরা জানান, শনিবারে ভুল প্রশ্নের পরীক্ষা নেয়ার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডের কঠোর নির্দেশনার পর অ্যাকশন শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কবি জসীমউদদীন বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চট্টগ্রামে শোকজ করা ৭ সচিবের মধ্যে একজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার নাম ওবায়দুল হক। বরগুনার আমতলীতে লোকমান হাকিম ও মাসুম বিল্লাহ নামে দুই পরিদর্শককে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া মাদারীপুরের কালকিনিতে দুই কেন্দ্র সচিবসহ ২৬ শিক্ষক, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কেন্দ্র সচিবসহ ১০ শিক্ষক এবং জামালপুরে কেন্দ্র সচিবসহ ৭ শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে পরীক্ষা সংক্রান্ত পৃথক আরও চার ঘটনায় ৪ জনকে আটক ও গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নওগাঁয় দুই ভুয়া পরীক্ষার্থীকে পাকড়াও করা হয়েছে। তারা অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। আটকরা হলেন মাসুদ রানা ও ফয়সাল আহমেদ। মৌলভীবাজারের রাজনগরে এসএসসির ভুয়া প্রশ্ন বিক্রিকালে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে পঙ্কজ দেব নামে এক দুষ্কৃতকারী। সে ফেসবুকে গ্রুপ খুলে প্রশ্ন বিক্রির বাণিজ্য চালাচ্ছিল। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আটক করা হয়েছে রিফাত নামে আরেক দুষ্কৃতকারীকে। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নে নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার ভুয়া পোস্ট দিয়ে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা : এদিকে দ্বিতীয় দিন রোববার এসএসসিতে বাংলা দ্বিতীয়পত্র এবং দাখিলে আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন কারিগরি বোর্ডের কোনো পরীক্ষা ছিল না। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এদিন সারাদেশে ৩৬ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। এতে জড়িত থাকার দায়ে ঢাকা বোর্ডে ৪ শিক্ষককেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সবাই গাজীপুরের কোনাবাড়ি এমএ কুদ্দুছ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বলে জানিয়েছেন আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি।

রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে ৯ হাজার ৩২৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে আটটি সাধারণ বোর্ডের ৪৮৯৫ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪ হাজার ৪৪২৯ জন রয়েছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চার লাখ ৭৪ হাজার ৬৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল এক হাজার ৪১৮ জন ও চট্টগ্রাম বোর্ডের এক লাখ ২৬ হাজার ১৬৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮৪ জন। রাজশাহী বোর্ডের এক লাখ ৮২ হাজার ৭২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮৯ জন, বরিশাল বোর্ডের ৮৭ হাজার ৬২০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯৫ জন, সিলেট বোর্ডের ৯০ হাজার ২৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জন, দিনাজপুর বোর্ডের এক লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮১ জন, কুমিল্লা বোর্ডের এক লাখ ৭০ হাজার ৩২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১২ জন এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডের এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৩৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এসব সাধারণ আটটি শিক্ষা বোর্ডের ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল চার হাজার ৮৯৫ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৪২৯ জন অনুপস্থিত ছিল। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১০ জন, বরিশাল বোর্ডে পাঁচজন, কুমিল্লা বোর্ডে ৪ জন আছে। মাদ্রাসা বোর্ডের বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ১৭ জন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন