শিরোনাম :

হাইকোর্টকে ভুলতথ্যে নিয়োগ অবৈধ, দিশেহারা জিয়াউর


শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

হাইকোর্টকে ভুলতথ্যে নিয়োগ অবৈধ, দিশেহারা জিয়াউর

সাপাহার (নওগাঁ) ১২ এপিল (বাংলাপ্রেস)- হাইকোর্টকে ভুলতথ্য দিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং সাপাহার চৌধুরী চাঁন মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেয়া প্রভাষক পদে মো. জিয়াউর রহমানের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভুগী প্রভাষকের। এই প্রভাষক তার নিয়োগের বৈধতা চেয়ে করা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদনের শুনানির হওয়ার কথা রয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার। স্ত্রী সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রভাষক পদে মো. জিয়াউর রহমান।

গত বছরের ২৫ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি এসডি/- হাসান ফয়েজ সিদ্দিক এই দিন ধার্য করেন।


প্রভাষক হিসেবে মো. জিয়াউর রহমান নিয়োগ
২০১৬ সালের ৬ জুন গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে এনটিআরসিএ সকল বাংলাদেশী নিবন্ধনধারীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে। এছাড়া দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে শূন্য পদের তালিকা চায় এনটিআরসিএ। সেই মোতাবেক নওগাঁর সাপাহারের চৌধুরী চাঁন মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষও একটি শূন্যপদের তালিকা দেয়। এনটিআরসিএ-এর ওয়েব সাইটে প্রদর্শিত (২৫৮/২০১৫ এর ০৮-০৯-২০১৫ তারিখের রেজুলেশন অনুযায়ী) সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে মো. জিয়াউর রহমান প্রভাষক হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। এরপর এনটিআরসিএ তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রভাষক (এইচএসসি লেভেল) পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রার্থী, কলেজের অধ্যক্ষ ও গর্ভানিং বডির সভাপতির কাছে মোবাইল ক্ষুদে বার্তা পাঠায়।


এনটিআরসিএ-এর ওয়েব সাইট থেকে যোগদান পত্র প্রিন্ট করে কলেজে দেয়া হলে ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর কলেজে যোগদান করেন তিনি। এরপর এখন পর্যন্ত নিয়ম মেনে অত্র কলেজে কর্মরত আছেন তিনি।


এমপিও ভুক্তিতে বাধা

এমপিওর সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল (ট২৭/অ১/৯-৪-২০১৭২০৩৬৫৪) এমপিও অনলাইনে সাবমিট করা হয়। কিন্তু রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অধিদপ্তর শাখার উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে ২০১৭ সালের ১৪ মে এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং মো. আব্দুল হালিম নামে একজনের একটি হাইকোর্টে করা একটি রিট (নম্বর ১৫৩৭৯/২০১৬) আবেদনের কথা তাকে জানানো হয়।


মো. আব্দুল হালিমের রিট আবেদন

অধ্যক্ষ, আবু এরফান আলী বলেন, মো, আব্দুল হালিম ২১৯/২০১২ রেজুলেশনের মাধ্যমে চৌধুরী চাঁন মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রি কলেজে অনার্স কোর্সের জন্য নিয়োগকৃত শিক্ষক। তিনি অনার্স কোর্সের জন্য নিয়োগ নেন ২০১২সালের ৩ সেপ্টম্বর। তারপর থেকে তিনি অনার্স কোর্সের শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করছেন। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০১৩ সালের ৩ জুলাইয়ের পরিপত্র অনুযায়ী তাকে এই (ইন্টারমিডিয়েট লেভেল)শূন্য পদে ২৪৫/২০১৪ নং রেজুলেশন করে তাকে অনার্স স্তর থেকে সমন্বয় করা হয়েছিল। এবং এমপিও ভুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন: কিন্তু মাওউসির মহাপরিচালক আবেদনের পরিপেক্ষিতে (অনার্স কোর্সের জন্য নিয়োগকৃত বিধায় প্যার্টানভূক্ত পদ না থাকায় এমপিওভূক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না) বলে লিখিত জবাব দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালের ৯ মার্চে একটি পরিপত্র জারি করে।

পরিপত্রে বলা হয়, জনবল কাঠামো নির্দেশিকা অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত ডিগ্রি স্তরের প্রভাষকদের উচ্চ মাধ্যমিক স্ততের প্যাটানভূক্ত শূন্য পদে সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালায়ও বলা হয়েছে, অনার্স স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি স্তরে সমন্বয়ের সুযোগ নেই। তবে ডিগ্রি পাস কোর্স থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এমপিও নয় এমন পদ থেকে সমন্বয় করা যাবে।

অধ্যক্ষ আবু এরফান আলী বলেন, তাই আমরা পুনরায় অবসরপ্রাপ্ত হাবিবুর স্যারের পদটি (২৫৮/২০১৫) রেজুলেশনের মাধ্যমে শূন্য ঘোষণা করে পত্রিকায় প্রথমে মহিলা কোটা অনুসারে ১ম বার ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক মানব জমিন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করি। তারপর আবারো মহিলা কোটা অনুসারে ২য় বার ২০১৫ সালের ১৯ অক্টোবর দৈনিক সমকাল এবং স্থানীয় করতোয়া পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মহিলা প্রার্থী না পাওয়ায় আবার ৩য় বার মহিলা/পুরুষ ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর দৈনিক সমকাল এবং করতোয়া পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এনটিআরসিএর পরিপত্র অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবরের পর সকল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। তবে ২০১৫ সালের ২২অক্টোবরের আগের হলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে পারে। তাই আমি এনটিআরসিএকে শূন্য পদের চাহিদা দিয়েছি। এসব নিয়ম মেনেই এই পদে জিয়াউর রহমানের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি এখনও প্রতিষ্ঠানের দেয়া সব দায়-দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।


জিয়াউর রহমান বলেন, এনেক্স, এ´.ভবনের ২০৭ ঘরের এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুস সামাদ নামে একজনকে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করি। কিন্তু বিজ্ঞ আইনজীবী কোর্টে মামলার শুনানির দিন উপস্থিত হননি এবং আমার কোন প্রকার কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পেশ করেননি। ২০১৭ সালের ৫ জুন মো. আব্দুল হালিম এক তরফা রায় পেয়ে যান।


তিনি আরো বলেন, এনটিআরসিএর যাবতীয় কাগজপত্র না দেখিয়ে মহামান্য আদালতকে ভুলতথ্য দিয়ে রায় তার পক্ষে এনেছে মো. আব্দুল হালিম। রায়ের কপিটি আমি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কোর্ট থেকে তুলি। রায়ের কপি পাওয়ার পর আমি এডভোকেট মো. আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ঢাকায় ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি একটি অভিযোগ দাখিল করি। রায়ে বলা হয়েছে, বিবাদী পক্ষের কোন উকিল, ডকুমেন্ট না থাকায় মো. আব্দুল হালিমকে ৩০ কার্যদিবসে এমপিও দিতে বলা হয়েছে। তারপর এনটিআরসিএ মোখিকভাবে আমাকে উচ্চ আদালতে আপিল করতে বলায়, আমি আপিল ৫৮৫/২০১৮ করেছি এবং সরকারপক্ষও আপিল ৭১৪/২০১৮ করেছে।আপিল দুটো একসাথে শুনানি করা হলে তামাদি বলে খারিজ করে আদালত।আমি ৫৮৫/২০১৮আপিলের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিউ পিটিশান ৫০৮/২০১৮ দায়ের করি। আইনের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে আশা করছি, আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মহামান্য আদালত সঠিক রায় দেবেন।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন