শিরোনাম :

সামিরাকে রিমান্ডে নিলে সব বেরিয়ে আসবে: রুবি


বুধবার, ৯ আগস্ট ২০১৭, ০৮:০১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সামিরাকে রিমান্ডে নিলে সব বেরিয়ে আসবে: রুবি

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আমেরিকা প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবি রোববার ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। ওই ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে।

রুবির স্বামী জ্যানলিন চ্যান, ছোট ভাই রুমী, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ বেশ কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জানিয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে বুধবার নতুন করে ফেসবুকে কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেন রুবি। এর মধ্যে একটিতে তিনি বলেন, সামিরা (সালমানের স্ত্রী) ও লুসিকে (সালমানের শাশুড়ি) আরও জিজ্ঞাসা করেন। সামিরাকে রিমান্ডে নিলেই সব বেরিয়ে আসবে। আমার স্বামী মারছে, আমি মুখ দিয়ে একটা কথা বলে ফেলছি। আমার স্বামীর প্রমাণটা আগে পেয়ে নেই। তারপর আমি দেখাবো।

রুবি আরও বলেন, সামিরা কেন কথা বলে না? সামিরা কেন সামনে আসে না? ও কি ভিআইপি? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর থেকেও কি উপরে যে, ও কথা বলতে পারেন না? সামিরা কেন সামনে এসে বলে না যে, 'আমাকে নিয়ে কেন এতো প্রশ্ন বা আমার কি কারণ ছিল যে, আমি ওকে (সালমান শাহ) খুন করবো।' কিছুই তো বলে না ও, যা বলে ওর বাপ শফিকুল হক হীরা। কারণ জবাব নাইতো।

রুবি জানান, ওই মামলায় সাক্ষী বা জবানবন্দি দিতে ঢাকায় আসার ইচ্ছা নেই তার। তবে পুলিশ চাইলে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কথা বলতে পারে। তবে আগের ভিডিও বার্তায় আদালতে সাক্ষী দেওয়ারও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন রুবি। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বলেন, সাক্ষী তো আমি নই। সাক্ষী আমার বড় ছেলে (ভিকি)। আমি তো অল্পকিছুর সাক্ষী। কিন্তু আমার ছেলে সেদিনের (সালমান শাহ হত্যা) ঘটনার বড় সাক্ষী।

সালমান শাহ'র মৃত্যুর দিনের প্রসঙ্গ টেনে রুবি বলেন, ভিকিকে দিয়ে সামিরা ওদের বাসা থেকে আমাদের বাসার ছাদে একটা কাপড়ের পুঁটলি পাচার করেছে। যেদিন ইমন (সালমান শাহ্) মারা যায়, ওইদিন সামিরা কাপড়ের পুঁটলিটি পার করতে আমার ছেলের হাতে দিয়েছিল। তখন ভিকির বয়স ১৭ বছর। তখন তো আমার সন্দেহ হবেই। কারণ যার স্বামী আত্মহত্যা করে সে কেন একটা বাচ্চা ছেলেকে দিয়ে কাপড়ের পুঁটলি পাচার করবে? এর মানেটা কী?

ভিকি বর্তমানে কানাডায় থাকেন উল্লেখ করে রুবি জানান, গত মাসে তিনি সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তখন ভিকি তাকে অনেক কিছু বলেছে। পরে লাইভ ভিডিওতে আসেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সে-ই (ভিকি) ভালোভাবে বলতে পারবে ওই দিন আর কী কী ঘটেছিল। আমার হাজব্যান্ড ও ভাইয়ের ব্যাপার পরে আসবে। সামিরা আমার ছেলের হাতে কী জিনিস দিয়েছে- এটা আগে আসা উচিত।

রুবি বলেন, আমি তো ভিডিও প্রকাশ করিনি। ভিডিও তো লাইভ নেয়া হয়েছে। তবে ভিডিওতে যা বলেছি তা সত্য। এটা প্রমাণ হবে তদন্তে। এটা নীলা ভাবির জন্য একটা মেসেজ ছিল। এটা আত্মহত্যা নাও হতে পারে। এটা খুন হতে পারে। আমার মুখ দিয়ে অন্য কথা বের হয়ে গেছে। এটা রং ছিল। যাই হোক কে কী মনে করলো আমার তাতে কিছুই আসে যায় না।

তিনি বলেন, নীলা ভাবির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মামলায় তিনি আমার নাম দেননি। দিয়েছেন, নীলা ভাবির জামাই। রুবি সব কাজই করতে পারে, খুন করে নাই। খুন করার সাহস আমার নাই।

ভিডিওতে তাকে বেশ রাগন্বিত দেখা যায়। বিশেষ করে বেশ কয়েকজন তাকে ফোন করেন। এ সময় রুবি বলেন, ফোন নম্বর দিয়ে আমি ভুল করেছি। আমি কোনো বাঙালির সঙ্গে কথা বলতে চাই না। বাঙালি কিছুই বোঝে না। বুঝলে ২১ বছর এটা ঝুলে থাকতো না। যদি এফবিআই-সিআইডি নিয়ে আসেন তাহলে কথা বলবো। কোনো বাঙালির সঙ্গে কথা বলবো না।

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমার কিছু হলে কিন্তু কোনোদিন ভাববেন না বাইরের মানুষ কিছু করেছে। করলে আমার কাছের মানুষই এটা করবে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ'র মৃত্যু হয়। তখন জনপ্রিয় এ নায়কের বাবা কমরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। এরপর ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই রিজভি আহমেদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বাসায় অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন সালমানের বাবা। ওই মামলায় গ্রেফতার করা হলে রিজভি আদালতে দাবি করেন, সালমানকে খুন করা হয়েছে। এ হত্যায় সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, তার শাশুড়ি লতিফা হক, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও সালমানের বন্ধু আশরাফুল হক ওরফে ডন এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই জড়িত।

১৫ বছর ধরে চলেছে সালমান শাহ হত্যা মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত। সব কটি তদন্ত প্রতিবেদনে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। সূত্র: সমকাল

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন