শিরোনাম :

আমেনা থেকে এভ্রিল


বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৭, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আমেনা থেকে এভ্রিল

বিনোদন ডেস্ক: ছোটবেলায় মা-বাবার দেওয়া নাম ছিল জান্নাতুল নাঈম আমেনা। তখন তাঁকে নিয়ে বা তাঁর নাম নিয়ে কোনো আলোচনা ছিল না। তাঁকে কেউ চিনতও না। কিন্তু তিনি আজ জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। আমেনা থেকে যখন এভ্রিল হলেন, দেশব্যাপী শুরু হলো তাঁকে নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা।

আলোচনার কারণ একটাই। তিনি ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচিত হয়েছেন এবং কিছু ঘটনা প্রকাশ হয়েছে, তাই। নির্বাচকরা যাকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঘোষণা করেছেন, তিনি তো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রথম শর্তই পূরণ করতে ব্যর্থ। প্রতিযোগীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। কিন্তু জান্নাতুল বিয়ের কথা গোপন রেখেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

তাই ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। গণমাধ্যমের কল্যাণে জানা গেছে আমেনা থেকে এভ্রিল হওয়ার গল্প।

আমেনা তথা এভ্রিলের জন্ম চট্টগ্রামের একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে। পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি উচ্চতার এভ্রিলের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা তাহের মিয়া। তাঁরা দুই ভাই, দুই বোন। এসএসসি পরীক্ষার আগেই বিয়ে করেছিলেন আমেনা তথা এভ্রিল। কয়েক দিনের মধ্যে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও করেন তিনি। তাঁর প্রাক্তন স্বামীর নাম মনজুর উদ্দিন রানা। ২০১৩ সালের ১১ জুন চন্দনাইশ পৌর এলাকার বাসিন্দা ও কাপড় ব্যবসায়ী রানার সঙ্গে এই সুন্দরীর বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের বিয়ের দেনমোহর ছিল আট লাখ টাকা।

এভ্রিল অল্প বয়সেই মোটরবাইক চালানো শেখেন। এরপর ধীরে ধীরে একে শখে পরিণত হয়। এ যানকে ঘিরেই চলতে থাকে তাঁর নানা কসরত। ফেসবুকে বাড়তে থাকে ফ্যান-ফলোয়ার। ঢাকায় জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল বিভিন্ন আড্ডায় এবং বন্ধুমহলে তাঁকে ‘মাফিয়া গার্ল’ হিসেবেই অভিহিত করা হয়। ঢাকার বেশ কয়েকজন মাফিয়ার সঙ্গেও নাকি তাঁর বেশ সখ্য রয়েছে। মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন নৈপুণ্য দেখাতে পারদর্শী তিনি। বাংলাদেশের হাইস্পিড লেডি বাইক রাইডার হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। ঢাকায় নিজেদের বাড়ি-গাড়ি, বাবা থাকেন সিঙ্গাপুর, বড় ভাইও বড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু নিজের বিয়ের বিষয়টি প্রথম অবস্থায় মানতে রাজি হননি। সমালোচনার মুখে সোমবার ফেসবুক লাইভে নিজের বিয়ে ও বিচ্ছেদের বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি।

এভ্রিল যে বাধাবিপত্তি মানতে নারাজ, সেটা নিজেও স্বীকার করেন নেন ফেসবুক লাইভে। তিনি এখানে নিজেই তাঁর গোপন বিয়ের কথা স্বীকার করেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি যে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন, সেটাও স্বীকার করে নিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি বাল্যবিবাহ মেনে নিতে পারেননি। সেই মেয়ে এখন সাকসেসফুল। তিনি তাঁর সমাজের কোনো কথা শোনেননি। আশপাশের কারো কথা কানে নেননি। তাঁর একটাই উদ্দেশ্য ছিল, ‘যেখানে ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি দৈনন্দিন ঘটনা, সেখানে বাল্যবিবাহ আমি মানতে পারিনি।’

এটা ঠিক, মিথ্যার আশ্রয় এভ্রিল নিয়েছেন। তাই বলে বিভিন্নভাবে যে তাঁকে হেয় করছি, এককথায় তাঁর চরিত্র হননে উঠেপড়ে লেগেছি, সেটা ঠিক নয়। তাঁর দোষ এই যে তিনি তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বাল্যবিবাহ নামক একটা দুর্ঘটনার কারণে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার তথাকথিত অযোগ্যতার তথ্য লুকিয়েছেন। আমেনা থেকে এভ্রিল হয়েছেন একটি ঘটনা লুকিয়ে। এমন কত ঘটনাই তো মানুষ লুকায়। তার বেলা?

মাত্র ২০ বছর বয়সে এই এভ্রিল ইয়ামাহার মতো কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন। কতটুকু আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়প্রত্যয় থাকলে তাঁর পক্ষে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বাল্যবিবাহ নামক একটি দুর্ঘটনার কারণে তিনি ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার তথাকথিত যোগ্যতা হয়তো হারিয়েছেন। কিন্তু মেয়েটার সাহস আর আত্মবিশ্বাসই তাঁর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য, বড় যোগ্যতা। আমি মনে করি, তাঁকে ট্রল না করে আরো বেশি উৎসাহিত করা উচিত, যাতে তাঁকে দেখে আমাদের সমাজের মেয়েরা এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। হয়তো প্রতিযোগিতার নিয়মের অজুহাতে তাঁর মুকুট কেড়ে নেওয়া হতে পারে। তবে সব সামাজিক প্রতিকূলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসে তিনি সমাজের বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের অনুপ্রেরণার যে মুকুট পেয়েছেন, সেটা আজীবনের জন্য শুধুই জান্নাতুল নাঈমের।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন