শিরোনাম :

আজ নায়করাজ রাজ্জাকের ৭৭তম জন্মদিন


মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আজ নায়করাজ রাজ্জাকের ৭৭তম জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক: নায়করাজের ৭৭তম জন্মদিন আজ।নায়করাজ রাজ্জাক বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা।গত ৫ দশক তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নানা বয়সী দর্শকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন এই নায়ক।সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি তার অসংখ্য অমর চরিত্র আজও দর্শকদের নস্টালজিক করে তোলে।

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার নাকতলায় জন্ম নেওয়া আবদুর রাজ্জাক এক সময় হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি।নায়করাজ খ্যাতি পাওয়াটা রাজ্জাকের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না।প্রচণ্ড পরিশ্রম আর অধ্যবসায় তাকে এদেশের চলচ্চিত্রের শীর্ষ ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা ও নির্মাতা।দুই পরিচয়ে সফল এ গুণী মানুষটি সবশ্রেণির মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় যেমন সিক্ত হয়েছেন তেমনি রাষ্ট্র তাকে একাধিকবার শুধু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কিংবা জাতীয় পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দিয়েই তৃপ্ত হতে পারেনি।তার আকাশছোঁয়া সফল কর্মযজ্ঞ ও সাফল্যের জন্য তাকে ভূষিত করেছে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদকে।নায়করাজের জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়।মানুষের এই ভালোবাসা সহজভাবে পাননি তিনি।

সিনেমার নায়ক হওয়ার অদম্য স্বপ্ন ও ইচ্ছা নিয়ে এ অভিনেতা ১৯৫৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে সিনেমার ওপর পড়াশুনা ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন।এরপর কলকাতায় ফিরে এসে ‘শিলালিপি’ ও আরও একটি সিনেমায় অভিনয় করেন।তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কবলে পড়ে রাজ্জাক তার পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় চলে আসতে বাধ্য হন।

তৎকালীন প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় এসেও রাজ্জাক চলচ্চিত্রের নায়ক হওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকেন।তবে প্রথমেই এতে সফলতা না পেয়ে সিনেমার একজন সহকারি পরিচালক হিসেবে ‘উজালা’ ছবিতে পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারি হিসেবে কাজ শুরু করেন।

‘৬০-এর দশকে সালাউদ্দিন পরিচালিত হাসির ছবি ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’-এ একটি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রাজ্জাক ঢাকায় তার অভিনয় জীবনের সূচনা করেন।এরপর প্রতিভাবন পরিচালক জহির রায়হান তার লোকজ ছবি ‘বেহুলা’ তে তাকে লখিন্দরের ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ দেন।‘বেহুলা’ ছবিতে সুচন্দার বিপরীতে তার অভিনয় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

৬০-এর দশকের শেষ থেকে ‘৭০ ও ‘৮০-এর দশকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠেন রাজ্জাক। ‘কার্তুজ’ তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র।

তার অভিনীত জননন্দিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীল আকাশের নীচে, ময়নামতি, মধু মিলন, পীচ ঢালা পথ, জীবন থেকে নেয়া, কী যে করি, অবুঝ মন, রংবাজ, বেঈমান, লাইলি-মজনু, ঘর সংসার, পাগলা রাজা, মতিমহল, বদনাম, কালো গোলাপ, সংঘর্ষ, বাচা কেন চাকর, জিঞ্জির, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, অনন্ত প্রেম, বাদী থেকে বেগম’ ইত্যাদি।

দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে রাজ্জাক-সুচন্দা, রাজ্জাক-কবরী, রাজ্জাক-শাবানা ও রাজ্জাক-ববিতার অনেক সিনেমা দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এবং তা রাজ্জাককে ঢালিউডের নায়করাজ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

১৯৭৭ সালে ‘অনন্ত প্রেম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন।২০১৭ সালের ২১ আগস্ট এ মহানায়ক মৃত্যুবরণ করেন।

অভিনয়ের শুরুতে এফডিসিতে যখন টানা কাজ করতেন তখন মেকআপ রুমের ফ্লোরে পড়ে ঘুমাতে হয়েছে তাকে।সপ্তাহে একদিন রবিবার শুধু বাসায় যেতে পারতেন। তাও এফডিসিতে শুটিং থাকলে।না হলে সপ্তাহ এমনকি মাসও কেটে যেত প্রিয় স্ত্রী এবং আদরের সন্তানদের মুখ না দেখে।অক্লান্ত পরিশ্রম করে একসময় হয়ে উঠেন তিনি কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক।

বাংলা চলচ্চিত্রের এই উজ্জ্বল ধূমকেতু আকস্মিকভাবে গত বছরের ২১ আগস্ট সবাইকে অঝোরে কাঁদিয়ে চলে গেলেন চিরদিনের মতো না ফেরার দেশে।তার প্রস্থানের পর আজ তার প্রথম জন্মদিনে তার স্মৃতির প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন