শিরোনাম :

রানির বিয়েতে কত জন নিমন্ত্রিত ছিল জানেন?


বুধবার, ২১ মার্চ ২০১৮, ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রানির বিয়েতে কত জন নিমন্ত্রিত ছিল জানেন?

বিনোদন ডেস্ক: ১৯৯৬ সালে বাংলা ছবি ‘বিয়ের ফুল’ দিয়ে ফিল্মি কেরিয়ারের শুরু করেছিলেন রানি। সেই বছরেই হয় তাঁর বলিউড ডেবিউ। ছবির নাম ‘রাজা কি আয়েগি বরাত’। সে ছবি বক্স অফিসে এক্কেবারে না চললেও, তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে যান অদিত্য চোপড়া, শাহরুখ খান দু’জনেই। ব্যাস, তার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি রানিকে।

শোনা যায়, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির জন্য কর্ণ জোহরের পছন্দ ছিলেন অভিনেত্রী টুইঙ্কল খন্না। শাহরুখ এবং আদিত্য চোপড়ার জন্যই এই ছবির জন্য ডাক পেয়েছিলেন রানি।

একই বছরে সেরা অভিনেত্রী আর সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়ার রেকর্ড বলিউডে একমাত্র রানি মুখোপাধ্যায়ের ঝুলিতেই রয়েছে। ২০০৫ সালে নজির গড়েন তিনি। সেই বছরে কুণাল কোহালি পরিচালিত ‘হাম তুম’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী আর মণি রত্নমের ‘যুবা’ ছবিটির জন্য সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কারটি জিতে নিয়েছিলেন রানি।

মিরা নায়ার পরিচালিত ‘দ্য নেমসেক’ ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য ডাক পেয়েছিলেন রানি। কিন্তু রানি সেই সময়ে ব্যস্ত ছিলেন ‘কভি অলভিদা না ক্যাহনা’ ছবিটি নিয়ে। আর সেই কারণেই মিরাকে না করে দেন রানি। পরে সেই চরিত্রে অভিনয় করেন তব্বু।

কখনও কোনও ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনে দেখা যায়নি রানিকে। প্রাক্তন পাক-প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মুশারফ নৈশভোজের জন্য একবার নিমন্ত্রণ করেছিলেন রানিকে। ওডিশি নৃত্যে বিশেষ পারদর্শী রানি। প্রায় ১০ বছরের জন্য বিশেষ ধরনের এই নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রানি।

আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে চুপিচুপি প্রেম আর বিয়ে নিয়ে সম্প্রতি একটি শো’তে মুখ খুলেছিলেন তিনি। সেখানে রানি বলেন, “আদির সঙ্গে আমার দেখা হয় ‘মুঝসে দোস্তি করোগি’র সেটে। অনেক ফ্লপ ছবি করার জন্য এক সময় পরিচালক-প্রযোজকরা আমাকে নিতে চাইতেন না। সেই কথাটা আদি আমাকে মুখের উপরেই বলে দিয়েছিল। আদির এই মুখের উপর সোজাসুজি কথা বলে দেওয়ার স্বভাবটা আমার বেশ ভাল লেগেছিল। সেই সময়ে আদিই সেই সব পরিচালক-প্রযোজকদের আমার অভিনয় নিয়ে ভরসা জোগাত। আমার দেখা পরিচালকদের মধ্যে আদিই সেরা।

স্বামী বলে অতিরঞ্জন নয়, এক্কেবারে খাঁটি কথা বললাম।” কিন্তু একটি কারণে রানির স্টারডম এক্কেবারেই পছন্দ করেন না আদিত্য চোপড়া। পাপারাৎজিদের বরাবরই এড়িয়ে চলেন বলিউডের নামজাদা এই পরিচালক।

ছবি তোলায় তীব্র অ্যালার্জি রয়েছে তাঁর। এক বার তো কিছুটা অভিমানের সুরেই আদি বলে ফেলেছিলেন রানিকে, ‘যখন তোমার প্রেমে পড়েছিলাম তখনই আমার মনে হয়েছিল একজন অভিনেত্রীর প্রেমে পড়ছি। আর এখন লোকে তোমার সঙ্গে আমার ছবি জুড়ে দিচ্ছে।’ আদর করে আদি রানিকে ডাকেন ‘ভোল্ডেমোর্ট’ বলে। আর রানির দেওর উদয় বলেন ‘ভাবি ভোল্ডেমোর্ট’। রানির বিয়েতে কত জন নিমন্ত্রিত ছিল জানেন? রানির কথায়, ‘১২ জন’।

তবে আদিরাকে আর পাঁচটা সাধারণ বাচ্চার মতোই মানুষ করতে চান রানি। বলছেন, “জীবনে কিছু করার আগেই অনেক কিছু পেয়ে গেলে চলার পথে অসুবিধা হতে পারে। আর তাই চাই আদিরা খুব সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যে দিয়েই বেড়ে উঠুক। তবে আমি চাই খাবার দেখলেই আদি যেরকম খাব খাব করে, আদিরা যেন ওরকম না করে।”

আপাতত রানি বেজায় ব্যস্ত ‘হিচকি’র প্রোমোশন নিয়ে। যদিও ‘হিচকি’র প্রোমোশনের কারণে বেশ কিছু তারকার কাছে গিয়ে তাঁদের ‘হিচকি’ মুহূর্তের কথাও শুনে নিচ্ছেন রানি। ইতিমধ্যেই কাছের অনেক মানুষকে ছবিটি দেখিয়েও ফেলেছেন এই অভিনেত্রী। মাধুরী দিক্ষিত থেকে উর্মিলা মাতন্ডকর— সকলেরই বেশ পছন্দ হয়ে গিয়েছে এই ছবি। দর্শকদের উদ্দেশে রানির বক্তব্য, “ভগবানের কাছে প্রার্থনা করুন, ‘হিচকি’ যেন সুপারহিট হয়। আর সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পারিশ্রমিক। পরে আরও ছবিতে অভিনয় করার জন্য মনোবলও জোগাবে। ‘হিচকি’র গল্পটা দর্শক যদি কানেক্ট করতে পারে, তবে তাঁরা আমাকেও চিনতে পারবে।”

৪০ বছর যে বয়স হতে চলল, রানি দেখে যেন তা বোঝা দায়। তবে রানি বলছেন, “৪০ বছরটাকে কুড়ি হিসেবেই দেখতে চাই। লাগাতার কাজ করে যেতে চাই। অগুনতি ছবিতে অভিনয় করতে চাই। এই সময়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। মেয়ে বড় হচ্ছে। আদিরাকে মানুষ করার পুরো আনন্দটাই উপভোগ করতে চাই।”

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন