শিরোনাম :

'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬' প্রদান আজ


রবিবার, ৮ জুলাই ২০১৮, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬' প্রদান আজ

বিনোদন ডেস্ক: দেশীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আসর হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠান। আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের আসরে নিয়মিত ২৮টি বিভাগের মধ্যে পুরস্কার দেয়া হয়েছে ২৫টি বিভাগে। ২০১৬ সালে সর্বাধিক ৭টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ‘আয়নাবাজি’। এছাড়া ৪টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে নাদের চৌধুরী পরিচালিত ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’। তিনটি করে পুরস্কার জিতেছে তৌকীর আহমেদের ‘অজ্ঞাতনামা’ এবং গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী ২০১৬ সালে যুগ্মভাবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা ও আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’, সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঘ্রাণ’ এবং শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘জন্মসাথী’। অমিতাভ রেজা চৌধুরী ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক। প্রধান চরিত্রের অভিনেতা বিভাগে ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ হয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। ‘অস্তিত্ব’ সিনেমার জন্য নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ‘শঙ্খচিল’ সিনেমার জন্য কুসুম শিকদার যুগ্মভাবে প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী বিভাগে হয়েছেন সেরা। পার্শ্ব চরিত্রের সেরা অভিনেতা হয়েছেন যৌথভাবে আলীরাজ (পুড়ে যায় মন) ও ফজলুর রহমান বাবু (মেয়েটি এখন কোথায় যাবে)। পার্শ্ব চরিত্রের সেরা অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ ‘কৃষ্ণপক্ষ’ সিনেমার জন্য। ‘অজ্ঞাতনামা’ সিনেমার জন্য সেরা খল চরিত্রের অভিনেতা শহীদুজ্জান সেলিম। আনুম রহমান খান (শঙ্খচিল) হয়েছেন শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী। শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ইমন সাহা (মেয়েটি এখন কোথায় যাবে), সেরা গায়ক ওয়াকিল আহমেদ ‘দর্পণ বিসর্জন’ সিনেমায় ‘অমৃত মেঘের বারি’ গানের জন্য, শ্রেষ্ঠ গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন ‘কৃষ্ণপক্ষ’ সিনেমায় ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো’ গানের জন্য। মেয়েটি এখন কোথায় যাবে সিনেমার ‘বিধিরে ও বিধি’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও একই সিনেমার একই গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকারের পুরস্কার পেয়েছেন ইমন সাহা। ‘অজ্ঞাতনামা’ সিনেমার জন্য সেরা কাহিনীকার তৌকীর আহমেদ এবং ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ সিনেমার জন্য রুবাইয়াত হোসেন হয়েছেন সেরা সংলাপ রচয়িতা। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার যুগ্মভাবে অনম বিশ্বাস ও গাউসুল আলম ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার জন্য। শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ইকবার আহসানুল কবির (আয়নাবাজি), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ (শঙ্খচিল), সেরা চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান (আয়নাবাজি), রিপন নাথ সেরা শব্দগ্রাহক (আয়নাবাজি), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা বিভাগে যুগ্মভাবে সাত্তার (নিয়তি) ও ফারজানা সান (আয়নাবাজি) এবং শ্রেষ্ঠ রূপসজ্জা শিল্পী মানিক (আন্ডার কনস্ট্রাকশন)। বিজয়ীদের হাতেই পুরস্কার উঠবে আজ। পুরস্কার প্রদান শেষে ২৫ মিনিটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন চলচ্চিত্রের তারকা শিল্পীরা। এতে রিয়াজ-অপু বিশ্বাস, জায়েদ খান-সাহারা, আমিন খান-পপি, ইমন-তমা মির্জা ও সাইমন-সিমলা- এ পাঁচ জুটি নাচ পরিবেশন করবেন। নাচগুলোর কোরিওগ্রাফি করেছেন মাসুম বাবুল ও ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। অনুষ্ঠানে দুটি বিশেষ গানে নাচ পরিবেশন করবেন মডেল অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ ও তার দল। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা।

‘পৃথিবীর ইতিহাসে নেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে প্রদান করা হয়। এখন ঘটনা হল, বিপদে ফেলে দেয়া। আমি প্রধানমন্ত্রীকে এত সম্মান করি, যার কারণে এখন তো আর কিছু করার নেই। তা না হলে ওইখানে কেউ আমাকে নিতে পারত না। আমার কাছে মনে হয়, এটা বুঝে-শুনেই যারা মন্ত্রণালয় আর জুরি বোর্ডে ছিলেন তারা করেছেন। বিষয়টা হবে এমন- অন্যকে সম্মান দেব কিন্তু নিজে ধ্বংস হয়ে। তারপরও আমাকে এতদিন পর তারা মনে করেছেন, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক

‘এটা তো সারা জীবনের কাজের সম্মান আর স্বীকৃতি। যখন জানলাম আমাকে সম্মান জানানো হচ্ছে, সত্যিই আমি আনন্দিত হয়েছি। আজ আমার মনে হচ্ছে শিল্পকে কম করে হলেও কিছু দিতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে দর্শকরাই আমাকে আজকের ববিতা হিসেবে তৈরি করেছেন। চলচ্চিত্রে অবদান রাখার জন্য রাষ্ট্র আমাকে যে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে, তার জন্য আমি দর্শক এবং রাষ্ট্রকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। আজীবন সম্মাননা পাওয়ার খবরটা বিরাট সুখের। আজীবন সম্মাননা পাওয়ার মধ্যে দিয়ে জীবনের পূর্ণতার সুখ পেতে যাচ্ছি।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন