শিরোনাম :

স্মৃতির পাতায় মন্না


রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:৫০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

স্মৃতির পাতায় মন্না

বিনোদন: আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক প্রদীপ নিভে যাওয়ার দিন। আজ থেকে ১১ বছর আগে ২০০৮ সালে আজকের এই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান ঢাকাই চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক মান্না। সে সময় মান্নার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৪ বছর। 

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন মান্না। তার আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার। ১৯৮৪ সালে তিনি এফডিসির নতুন মুখের সন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে আসেন। নায়ক রাজ রাজ্জাক মান্নাকে প্রথম চলচিত্রে সুযোগ করে দেন। তার অভিনীত প্রথম চলচিত্র ‘তওবা’।

এরপর একের পর এক ব্যবসা সফল চলচিত্রে অভিনয় করে, নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে তিনি প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সিনেমায় বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের কথা উঠে এসেছে। মান্না বঞ্চিত মানুষের কথা সিনেমার পর্দায় সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন তার অভিনয়ের মাধ্যমে।

তার অভিনীত প্রথম সিনেমার নাম ‘তওবা’ হলেও প্রথম মুক্তি পায় ‘পাগলি’। ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাসেম মালার প্রেম’ সিনেমায় একক নায়ক হিসেবে প্রথম সুযোগ পান। ‘কাসেম মালার প্রেম’ সিনেমার দারুন ব্যবসায়িক সাফল্যের কারণে মান্না ঘুরে দাড়ানোর সুযোগ পান। তাকে নিয়ে পরিচালকেরা আগ্রহ দেখাতে শুরু করেন। এরপর কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দাঙ্গা’ ও ‘ত্রাস’ সিনেমার কারনে, তার একক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

এরপর মোস্তফা আনোয়ারের ‘অন্ধ প্রেম’, মনতাজুর রহমান আকবরের ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘বাবার আদেশ’, কাজী হায়াতের ‘দেশদ্রোহী’, ‘তেজী’ সিনেমাগুলো মান্নার অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯৭ সালে মান্না ‘লুটতরাজ’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম সিনেমা প্রযোজনায় নামেন।

১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় মনতাজুর রহমান আকবরের ‘শান্ত কেনো মাস্তান’ ও ‘কে আমার বাবা’। ১৯৯৯ সালে মান্না অভিনীত কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’ সিনেমাটি বাংলা চলচিত্র ইতিহাসের অন্যতম ব্যবসা সফল চলচিত্র।

মান্না শুধু জনপ্রিয় চলচিত্র অভিনেতাই ছিলেন না, ছিলেন সফল একজন চলচিত্র প্রযোজক। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম কৃতাঞ্জলি চলচিত্র। এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সিনেমাই ব্যবসা সফল। ছবিগুলো হচ্ছে ‘লুটতরাজ’, ‘লাল বাদশা’, ‘আব্বাজান’, ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘দুই বধূ এক স্বামী’, ‘মনের সাথে যুদ্ধ’, ‘মান্না ভাই’ ও ‘পিতা মাতার আমানত’।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মান্না বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আজ মান্নাকে স্মরণ করবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। জানা গেছে, সকালে কোরআন খতম ও আসর নামাজের পর এফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি এসময় চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মান্নাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন।

২০০৩ সালে মান্না শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯৯ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসাবে বাচসাস পুরস্কার এবং মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পান। এছাড়া ২০০০ এবং ২০০৭ সালেও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পান।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন