শিরোনাম :

চিকুনগুনিয়া জ্বর : সতর্কতা খুব প্রয়োজন


মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০১৭, ০২:৪৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

চিকুনগুনিয়া জ্বর : সতর্কতা খুব প্রয়োজন

ডেস্ক প্রতিবেদন: চিকুনগুনিয়া (পযরশঁহমঁহুধ) জ্বর মশাবাহিত ও ভাইরাসজনিত জ্বর। ডেঙ্গুজ্বরের মতো এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে অন্য সুস্থ লোকের শরীরে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ঢুকে পড়ে। এটি মূলত আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রোগ। আমাদের দেশের কিছু কিছু এলাকায় এখন এ রোগ হচ্ছে। বর্ষাকাল এবং এর পরপরই চিকুনগুনিয়া জ্বর বেশি হয়। এ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার চার থেকে সাতদিন পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

ডেঙ্গুজ্বরের সঙ্গে চিকুনগুনিয়া জ্বরের অনেক মিল রয়েছে। চিকুনগুনিয়া জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যায়। জ্বরের পাশাপাশি শরীরের মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধিগুলোয় ভীষণ ব্যথা হয়। জ্বর ও অস্থিসন্ধির তীব্র ব্যথা এ দুটি উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দেয় বলে এ জ্বরের আফ্রিকান নাম চিকুনগুনিয়া। এ ছাড়া মাথাব্যথা, চোখজ্বলা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক অবসাদ দেখা দেয়। গায়ে লাল লাল দানা বা র‌্যাশ বের হতে পারে। রোগীর বয়স যত বেশি, চিকুনগুনিয়ার উপসর্গের তীব্রতাও তত বেশি হয়। বিশেষ করে অস্থিসন্ধির ব্যথা তত বেশিদিন স্থায়ী হয়।

ডেঙ্গুজ্বরের সঙ্গে চিকুনগুনিয়া জ্বরের পার্থক্য : ডেঙ্গুজ্বরে শরীরে কাঁপুনি ও ঘাম দেখা দেয় এবং শরীরে রক্তক্ষরণ হয়। কিন্তু চিকুনগুনিয়া জ্বরে শরীরে কাঁপুনি বা ঘাম দেখা দেয় না এবং শরীরে রক্তক্ষরণ হয় না। ডেঙ্গুজ্বরে রক্তের অণুচক্রিকার সংখ্যা অনেক বেশি কমে যায়। কিন্তু চিকুনগুনিয়ায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা বেশি কমে না। একই ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গুজ্বর চারবার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু চিকুনগুয়িা একবার হলে সাধারণত আর হয় না।

চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ : জ্বর ও অস্থিসন্ধির তীব্র ব্যথা এ দুটি উপসর্গ একসঙ্গে থাকলে চিকুনগুনিয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। রক্ত পরীক্ষা করার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। রোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। কারণ এতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।

স্বাস্থ্যঝুঁকি : চিকুনগুনিয়া জ্বর তেমন জটিল রোগ নয়। এ রোগ সাধারণত দুই থেকে সাতদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং পরে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে শারীরিক অবসাদ, মাংসপেশির ব্যথা ও অস্থিসন্ধির ব্যথা জ্বর কমে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। অস্থিসন্ধির ব্যথা কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে। অস্থিসন্ধির দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা রোগীর স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চিকিৎসা : চিকুনগুনিয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা মূলত রোগের উপসর্গগুলো নিরাময় করা। রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে। জ্বর ও অস্থিসন্ধির ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো জ্বর উপশমকারী ও ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। পানি দিয়ে রোগীর শরীর মুছে দিতে হবে। রোগীর পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে দিতে হবে।

প্রতিরোধের উপায় : চিকুনগুনিয়া জ্বর প্রতিরোধের জন্য কোনো টিকা নেই। তবে একটু সচেতন হলে চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এডিস মশা ও এগুলোর কামড়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বাসাবাড়ির ছাদ ও আশপাশে থাকা ফুলের টব, ডাবের খোসা, কোমল পানীয়ের ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার, ইত্যাদিতে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং বংশবিস্তার করে। এডিস মশা ধ্বংস করতে হলে এসব স্থানে চার-পাঁচদিনের বেশি সময় ধরে যেন পানি জমে থাকতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পাত্র উপযুক্ত উপায়ে ফেলে দিতে হবে। এডিস মশা দিনেও কামড়ায়। তাই ঘুমানোর সময় এবং দিনে বিশ্রামকালে মশারি ব্যবহার করতে হবে। ঘরে অ্যারোসল স্প্রে ও দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার করা যেতে পারে। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে মশারির ভেতরে রাখতে হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন