শিরোনাম :

রোজা রেখে সুস্থ থাকার উপাায়


বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮, ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোজা রেখে সুস্থ থাকার উপাায়

ডেস্ক প্রতিবেদন: রোজা না রাখার জন্য অনেকেই অসুস্থতার অজুহাত দেখান। বিশেষ করে যাদের বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে রোগব্যাধি নিয়েই কিন্তু রোজা রাখা যায়। তবে সেক্ষেত্রে চলতি ওষুধগুলোর ব্যবহারবিধি কিংবা ধরন পরিবর্তন করতে হতে পারে।

১) পেপটিক আলসার বা অ্যাসিডিটি থাকলে খালি পেটে তখন অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়বে- অনেকের এমন চিন্তা পড়েন। তাই রোজা এলে এ ধরনের রোগীর দুশ্চিন্তায় বেড়ে যায়। তখন চিন্তা করেন রোজা রাখবেন কি না। রোজা রাখলে অ্যাসিডিটি বাড়বে, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পেপটিক আলসারের রোগীর প্রধান কাজ হলো নিয়মিত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ঘুমানো এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ। রোজায় মানুষদের একটা নিয়মে মধ্যে নিয়ে আসে বিধায় এ সময় অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়। কেউ যদি ভয় পেয়ে যান এই ভেবে যে, রোজায় তার অ্যাসিডিটির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে, তাহলে তিনি সেহরি ও ইফতারের সময় গ্যাস্টিকের ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন। এর পাশাপাশি অবশ্যই ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।

২) উচ্চ রক্তচাপ থাকলে রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা অবলম্বন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ওষুধ পরিবর্তন করার সময় অবশ্যই নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। কারণ, ওষুধ পরিবর্তনের ফলে রক্তচাপ খুব সহজে নিয়ন্ত্রণে নাও আসতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তারা যদি রোজা রাখার জন্য নতুন সিডিউলে ওষুধ খেতে করতে চান। সে সেক্ষেত্রে সপ্তাহখানেক আগে থেকে নতুন সিডিউলের ওষুধ খেয়ে তা পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষায় যদি দেখা যায়, নতুন ওষুধে সহজেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তাহলে রোজা রাখা সহজ হবে।

৩) ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রেও একই রকম সতর্কতা ব্যবহার করতে হবে। যেসব ডায়াবেটিক রোগী বিশেষ খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তাদের জন্য রোজা রাখা খুব সহজ ও উপকারী। তবে যারা মুখে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখছেন তারাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখতে পারবেন, তবে ব্যায়াম করার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে যাতে করে ব্যায়ামের ধকল বেশি হয়ে না যায়। আর ইন্স্যুলিন ব্যবহারকারী রোগীরাও রোজা রাখতে পারবেন, তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে বা হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রোজার কথা চিন্তা না করে দ্রুত এক গ্লাস শরবত খাইয়ে দিন। সেহরির সময় রুটি খাওয়া ভালো। কেননা তা দীর্ঘ সময় পেটে থাকায় রক্তের গ্লুকোজ হঠাৎ করে কমে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

৪) কিডনি রোগ হলেই রোজা রাখা যাবে না, এমন কোনো কথা নেই। তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্ক থাকতে হবে। কিডনি খারাপ রোগীদের সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হয়, নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, এমনকি পানি খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হয়। তাই রোজা রাখার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। সামান্য যা হয়, রোজার মাস শেষ হলেই পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যেই তা আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে যাদের কিডনি খারাপের মাত্রা একেবারে শেষ পর্যায়ে, তাদের পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব নয়। যেমন যারা ডায়ালাইসিসের রোগী অথবা ইতোমধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন, ঘড়ির কাঁটা দেখে ওষুধ খেতে হয় বলে তাদের পক্ষেও রোজা রাখা প্রায় অসম্ভব।

৫) গর্ভবতী অবস্থায় যদি শারীরিক কোনো জটিলতা না থাকে তাহলে রোজা থাকতে কোনো বাধা নেই। রোজা রাখা যাবে কি যাবে না এটা নির্ভর করে গর্ভবতী ওপর। প্রয়োজনে এ বিষয়ে রোজার আসার আগেই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মা অনেকে মনে করেন, রোজা রাখলে বুকের দুধ কমে যায়। এর ফলে সন্তান দুধ থেকে বঞ্চিত হয়। বিষয়টি পুরোপুরি ভুল। কেননা, রোজা রাখলে বুকের দুধ কমার কোনো আশঙ্কা নেই। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই সেহরি ও ইফতারের সময় প্রচুর তরল খাবার খেতে হবে। ইফতারের পর শোয়া পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তে অল্প অল্প করে পানি খেতে হবে।

৬) অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার নেওয়া যাবে কি না, এ বিষয়ে সারাবিশ্বের ইসলামী চিন্তাবিদরা যে মতামত দিয়েছেন তাতে রোজা রাখা অবস্থায় ইনহেলার নিলে রোজার ক্ষতি হওয়ার কথা বলা হয়নি। তবে সঠিক নিয়মে ইনহেলার নিলে রক্তে ওষুধ মিশতে পারে না বা নগণ্য পরিমাণ মিশতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার পরামর্শ হলো, সেহরি ও ইফতারের সময় ইনহেলার নিন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন