শিরোনাম :

হৃদ স্পন্দন থেকে শক্তি নিয়ে চলবে পেসমেকার!


শনিবার, ৯ মার্চ ২০১৯, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

হৃদ স্পন্দন থেকে শক্তি নিয়ে চলবে পেসমেকার!

ডেস্ক: বহু বছর যাবত লাখ লাখ হৃদরোগীর জীবন বাঁচাতে অসামান্য ভূমিকা রেখে চলেছে পেসমেকার নামের যন্ত্রটি। কিন্তু এই অতি উপকারি যন্ত্রটিও কিন্তু একেবারে "পারফেক্ট" নয়। পেসমেকারের প্রধান একটি সীমাবদ্ধতা হলো এর ব্যাটারির স্বল্পতা। একটি পেসমেকারের ব্যাটারি বছর পাঁচেকের মতো স্থায়ী হয়, অত:পর সেটিকে শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করতে হয়। এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল, যা রোগীকে ইনফেকশন ও ব্লিডিংসহ নানা জটিলতার মুখে ফেলে দেয়। এ কারণে বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে আসছেন কী করে এই পেসমেকারের ব্যাটারিকে আরো দীর্ঘায়ুর করা যায় তা নিয়ে। সম্প্রতি, এই সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান দেয়ার চেষ্টা করেছেন চীনের সাংহাইয়ের একটি হাসপাতালের এক দল গবেষক। তারা এমন একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন যেখানে হার্টবিট বা হৃদ স্পন্দন থেকেই শক্তি সংগ্রহ করে চলতে পারবে

একটি পেসমেকারে মূলত দু’টি অংশ থাকে- একটি হলো পালস জেনারেটর, যেটি কলারবোন বা বিউটিবোন নামক হাড়ের চামড়ার নিচে লাগানো হয়। এর সঙ্গে তার দিয়ে যুক্ত থাকে ইলেক্ট্রোডের ন্যায় যন্ত্র, যা বসানো থাকে হৃদপিণ্ডে। পেসমেকারের প্রধান কাজ হলো অ্যারিদমিয়া বা অনিয়মিত হৃদ স্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করে হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনা। এখানে উল্লেখ করা দরকার, অ্যারিদমিয়া হতে পারে মোট দুই প্রকারের। একটি হলো ট্যাকিকার্ডিয়া (হৃদ স্পন্দন যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে) ও অন্যটি ব্র্যাডিকার্ডিয়া (হৃদ স্পন্দন যখন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকে); এই দু’ধরণের অ্যারিদমিয়ার সময়েই পেসমেকার ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। সাধারণত বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের হৃদপেশির ক্ষয় হতে থাকে। হার্ট অ্যাটাকের পরেও এমনটা হতে পারে। হৃদ পেশি ক্ষয়ের কারণে হৃদ স্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়ে ; যে কারণে অ্যারিদমিয়া দেখা দেয়। এছাড়াও জিনগত নানা কারণে এবং বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যারিদমিয়া দেখা দিতে পারে।

 ট্যাকিকার্ডিয়া কিংবা ব্র্যাডিকার্ডিয়া - যে ধরণের অ্যারিদমিয়াতেই রোগী আক্রান্ত হোন না কেন, ফলাফল কিন্তু একই; শরীরের সর্বত্র রক্তের সুষম বণ্টন হতে পারে না তখন। যার ফলে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, অঙ্গহানি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পেসমেকারের কাজ আমাদের হৃদ স্পন্দন মনিটর করা, খুব বেশি দ্রুত অথবা খুব বেশি ধীর হয়ে যাচ্ছে কিনা তা লক্ষ্য রাখা। অনেক পেসমেকারে সেন্সর লাগানো থাকে যা মানবদেহের গতি ও শ্বাস প্রশ্বাসের হার হিসাব করতে পারে, যখন অধিক পরিশ্রমের সময় দেহে অতিরিক্ত রক্ত ও অক্সিজেনের দরকার হয় তখন হৃদ স্পন্দনের হার বাড়ানো সম্ভব হয়। একটি পেসমেকারের ব্যাটারির আয়ু থাকে পাঁচ থেকে বারো বছর পর্যন্ত, ব্যাটারি লাইফ শেষ হওয়ার পর সেটি সার্জারির মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের দরকার পড়ে।

চীনা গবেষক হাও জ্যাং এর নেতৃত্বে একটি দল একটি ছোট ও নমনীয় প্লাস্টিক ফ্রেম বানিয়ে সেটিকে পাইজোইলেক্ট্রিক লেয়ার দিয়ে ঢেকে দেন। এই লেয়ারটি যখন হার্ট বিটের সঙ্গে সঙ্গে সংকুচিত হয় তখন সেখানে ক্ষুদ্র পরিমাণে ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়। এই ভোল্টেজ দিয়ে ব্যাটারিটি কিছু শক্তি লাভ করে। যার ফলে ব্যাটারিটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হয়ে বহু বছর টিকে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে শূকরের উপর এ পরীক্ষাটি চালিয়ে সফলতা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যার হৃদপিণ্ড অনেকটা মানুষের অনুরূপ। তাই এরকম একটি প্লাস্টিক ফ্রেম মানুষের শরীরে স্থাপিত পেসমেকারে বসানো গেলে পেসমেকারটি ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার দরুন আর প্রতিস্থাপন করতে হবে না বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস। বিজ্ঞানীদের এমন প্রচেষ্টা এবারই কিন্তু প্রথম নয়। এর আগে সুইজারল্যান্ডের বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক অটো-উইন্ডিং রিস্টওয়াচ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একই ধরণের একটি ডিভাইসের আইডিয়া উদ্ভাবন করেছিলেন। যদিও চীনা গবেষকদের বর্তমান আবিষ্কার তার তুলনায় অনেক নমনীয় এবং পেসমেকারে ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন