শিরোনাম :

সবচেয়ে পুরোনো বরফেও এবার ফাটল


শুক্রবার, ২৪ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সবচেয়ে পুরোনো বরফেও এবার ফাটল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে যে হিমবাহ গলতে শুরু করেছে, সে তথ্য অনেক আগেই দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রের জলস্তর বাড়লে ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আশঙ্কাও বেশ কয়েক বছর ধরেই মাথাচাড়া দিচ্ছে। সেই আশঙ্কায় নয়া মাত্রা যোগ করল সুমেরুর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। সেখানের সবচেয়ে পুরোনো, পুরু বরফের স্তরেও এবার ফাটল ধরতে আরম্ভ করেছে। প্রবল হাওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে মাঝ সমুদ্র পর্যন্ত ভেসে চলেছে সেই বরফের স্তূপ। আর এটাকেই অশনি সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন আবহবিদরা।

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর উপকূলের সংলগ্ন এলাকায় সারা বছর পুরু বরফ জমে থাকে। সেই কারণেই এটিকে ‘দ্য লাস্ট আইস এরিয়া’ বলা হয়। অর্থাৎ, উত্তাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে সর্বশেষ এই বরফের স্তূপই গলবে। কিন্তু গত ফেব্র‌ুয়ারি-মার্চ মাসে যা তাপমাত্রা ছিল এবং চলতি মাসের প্রথম দিকের গরমেই এই বরফস্তূপে ফাটল ধরতে আরম্ভ করে দিয়েছে। শুধু ফাটল ধরাই নয়, খণ্ড খণ্ড সেই বরফের স্তূপ হাওয়ার স্রোতে যতদূর ভেসে গিয়েছে, ১৯৭০ সালের পর থেকে তা কখনও হয়নি। তাতেই আবহবিদরা মনে করছেন, সুমেরুর ‘দ্য লাস্ট আইস এরিয়া’ বদলানোর সময় এসে গিয়েছে।

ড্যানিশ মেটেরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা রুথ মোট্টারামের কথায়, ‘গ্রিনল্যান্ডের উত্তর উপকূলের সব বরফস্তূপই প্রায় ছিন্নভিন্ন হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। ওই এলাকায় এ ভাবে বরফস্তর সরে গিয়ে জল বেরিয়ে যাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ বার তো মনে হচ্ছে, ‘দ্য লাস্ট আইস এরিয়া’ আরও অনেক পশ্চিমে।’ আমেরিকার ‘ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টারে’র সিনিয়র গবেষক ওয়াল্ট মেইয়ারের বক্তব্য, ‘এখান থেকে বরফ সরে যাওয়ার কোনও জায়গা নেই, তাই এখানেই জমা হয়। গড়ে এই বরফ চার মিটারের মতো পুরু হয়, কোথাও কোথাও আবার ২০ মিটার। এই বরফের স্তূপ হাওয়ার তোড়ে অন্যত্র সরে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যা হয়েছে, তাতে বুঝতে হবে বরফের ঘনত্ব ক্রমেই কমছে।’ নরওয়েজিয়ান মেটেরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী থমাস ল্যাভারগনের কথায়, ‘বরফ গলে যাওয়ার বিষয়টি এ বার সুমেরুর শীতলতম অংশেও শুরু হয়েছে। এটা সত্যিই ভয়ের। সুমেরু সাগর ও সেখানের আবহাওয়া যে বদলাচ্ছে, এটাই তার প্রমাণ। আমি জানি না, উপকূল সংলগ্ন এই জল কতদিন তরল থাকবে। হয়তো কিছুদিন পর সেটা বরফ হয়েই যাবে, কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার, হয়েই যাবে।’ নরওয়েজিয়ান আইস সার্ভিসের তথ্য বলছে, এই সময় সুমরুতে যতটা বরফের স্তর থাকার কথা, এ বছর তার চেয়ে ৪০ শতাংশ কম রয়েছে। আবহবিদদের চিন্তা, এই ধারা বজায় থাকলে, ২০৩০-২০৫০-এর মধ্যে সুমেরু মহাসাগরে গ্রীষ্মের সময় বরফ বলে কিছু থাকবেই না। এই আশঙ্কা বাস্তবায়িত হলে কী হবে, সেই চিন্তাই রাতের ঘুম ওড়াচ্ছে আবহবিদদের। -সংবাদসংস্থা

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন