শিরোনাম :

'মিয়ানমারের ওপর ভারতেরও চাপ সৃষ্টি করা উচিত'


বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

'মিয়ানমারের ওপর ভারতেরও চাপ সৃষ্টি করা উচিত'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতেরও চাপ সৃষ্টি করা উচিত। এক্ষেত্রে মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করতেপারে ভারত। তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতায় জড়িতদের বিচারও দাবি করেন। মঙ্গলবার গুতেরেস এ কথা বলেছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।

অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, এমন একটি জনগোষ্ঠীকে এমন বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিতে রাখার অর্থ হলো সেখানে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো। এমন জনগোষ্ঠীকে বিপদগামী করা হতে পারে। তিনি সোমবার ভারত সফরে আসেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সেখানে তিনি ‘গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস, গ্লোবাল সলিউশনস’ শীর্ষক একটি লেকচার দেন। গুতেরাঁ বলেন, রোহিঙ্গারা যেভাবে নিষ্পেষিত, নির্যাতিত হয়েছেন বিশ্বে আমি কখনো অন্য কোনো জাতিকে এতটা নির্যাতিত হতে দেখিনি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা কোনো স্বাস্থ্য, শিক্ষা সুবিধা পায় না।

মিয়ানমারের সমাজ ব্যবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে মারাত্মক জাতিবিদ্বেষ রয়েছে। এ সময় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার থাকার সময়ের একটি ঘটনা বর্ণনা করেন গুতেরেস। তখন তিনি মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তাকে অনুরোধ করেছিলেন রোহিঙ্গাদের অন্য দেশগুলোতে পুনর্বাসন করতে। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থী বানানো আমার দায়িত্ব বা কর্তব্য নয়। আমার দায়িত্ব হলো শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান করা। এতেই দেখতে পাই কীভাবে রোহিঙ্গাদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয় মিয়ানমারে। কত গভীরে এমন নেতিবাচক ধারণা। সামাজিক মিডিয়াগুলোয় কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষু ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আছেন। তাদের পোড়ানো হয়েছে। ধর্ষণ করা হয়েছে। প্ররোচনা থাকার পরও সেনাবাহিনীর নৃশংসতা ছিল ভয়াবহ।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ প্রত্যাশা করেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, রাজনৈতিক এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফেরত যেতে পারেন। তার ভাষায়, এক্ষেত্রে ভারত কী করতে পারে? এসব মানুষকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে সমর্থন করতে পারে ভারত। কারণ, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি বিশাল রকম মানবিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এসব রোহিঙ্গা যাতে দেশে ফিরে যেতে পারেন সেজন্য পুনরেকত্রীকরণ করতে, পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব মানুষ ফিরে যাবে না। এসব অপরাধে যারা জড়িত তাদের বিচার হওয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব এখন বহুমেরুকরণ হয়ে আছে। এখানকার ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারত। একই সঙ্গে এ দেশটি বিশ্বে চলমান যুদ্ধগুলোতে একজন সৎ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।
গুতেরেসের কাছে জানতে চাওয়া হয় কমপ্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিজম (সিসিআইটি) বিষয়ে, যা ১৯৯৬ সালে প্রস্তাব করে ভারত। এ প্রসঙ্গে গুতেরেস বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সন্ত্রাসের সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়ে অনৈক্য থাকার কারণে এ বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারের নৃশংসতার কারণে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সর্বশেষ গত বছর ২৫শে আগস্ট সেনাবাহিনীর নৃশংসতার পর কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এমন হিসাব মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের সমন্বয়কারী অফিসের। ওদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে ভারত থেকে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন