শিরোনাম :

কে এই জামাল খাসোগি!


মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কে এই জামাল খাসোগি!

আন্তর্জাতিক: জামাল খাসোগি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি সনদ নেয়ার জন্য ২ অক্টোবর তার নিজ দেশ সৌদি আরবের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে প্রবেশে করেছিলেন। তুরস্কের পুলিশ জানায়, এরপর আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেননি তিনি।

পুলিশের ধারণা, কনস্যুলেটের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু সৌদি সরকারের দাবি যে, তিনি বেরিয়ে গেছেন। তিনি এক সময় সৌদি রাজ পরিবারের উপদেষ্টা হঠাৎ ছিলেন। হঠাৎ করেই রাজ পরিবারের অনুগ্রহ হারিয়ে গত বছর থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। কে এই জামাল খাসোগি? কিভাবে তার উত্থান হয়েছিল? তার নিখোঁজের নেপথ্যের কারা জড়িত?

সৌদি আরবের মদিনায় জন্মগ্রহণকারী জামাল খাসোগি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেন। এরপর সৌদি আরবে ফিরে আশির দশকে সাংবাদিক হিসাবে তিনি পেশাজীবন শুরু করেন। আঞ্চলিক একটি সংবাদপত্রের হয়ে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত অভিযান কাভার করেন।

তিনি ওসামা বিন লাদেনের উত্থানের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে পান। আশি এবং নব্বুইয়ের দশকে বর্তমানে আল-কায়েদার এই নিহত নেতার বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন।

২০০৩ সালে আল ওয়াতান সংবাদপত্রের সম্পাদক নিযুক্ত হন, কিন্তু সৌদি ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দুই মাসের মাথায় বহিষ্কৃত হন। এরপর লন্ডন ও ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স তুর্কি বিন-ফয়সালের মিডিয়া উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন।

২০০৭ সালে আল ওয়াতানে তিনি আবার যোগদান করেন। কিন্তু তিন বছর পর নতুন করে আরেক বিতর্কের মুখে তাকে বিদায় নিতে হয়।

 

২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় তিনি ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোর প্রতি সমর্থন জানান, যারা বেশ কয়েকটি আরব দেশে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে।

তিনি ২০১২ সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট আরব নিউজ চ্যানেলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেটি কাতারের চ্যানেল আল জাজিরার প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল।

বাহরাইনের একজন প্রভাবশালী বিরোধী নেতাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোয় প্রচারের ২৪ ঘণ্টা পরেই বাহরাইন ভিত্তিক এই চ্যানেলটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি আরব সম্পর্কিত বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ হিসাবে বিবেচিত মি. খাসোগি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও নিয়মিত প্রদায়ক হিসাবে কাজ করতেন।

২০১৭ সালের গ্রীষ্মে সৌদি আরব ত্যাগ করেন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। ওয়াশিংটন পোস্টে তার প্রথম লেখায় তিনি লেখেন, তিনি এবং আরও কয়েকজন স্বেচ্ছা নির্বাসনে এসেছেন, কারণ তাদের ভয়, তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কার বিষয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরোধিতা করায় অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার অভিযোগ, আল-হায়াত সংবাদপত্রে তার কলাম বাতিলের জন্য চাপ দিয়েছে সৌদি সরকার এবং তখনকার মার্কিন হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সৌদি আরবের অতিরিক্ত প্রীতি নিয়ে টুইট না করার জন্যও সতর্ক করে দেয়া হয়।

তিনি লেখেন, 'আমি বাড়ি, পরিবার ও চাকরি হারিয়েছি এবং আমার কণ্ঠ তুলে ধরেছি। এটা না করলে যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। যখন অনেকেই কোন কথা বলতে পারছে না, তখন আমি বলছি। আমি সবাইকে জানাতে চাই, সৌদি আরব কখনোই এমন ছিল না, যা এখন হচ্ছে। সৌদিদের আরও ভালো কিছু প্রাপ্য।

ওই কলামে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নানা অভিযানের মাধ্যমে আসলে চরমপন্থীদের সরকার উৎসাহিত করছে। যুবরাজকে তিনি রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

মঙ্গলবার ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে মি. খাসোগিকে আর দেখা যায়নি। স্ত্রীকে ডিভোর্সের সনদ আনার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার বান্ধবী হাতিস চেঙ্গিস বলছেন, তিনি কনস্যুলেটের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু তাকে দেখতে পাননি।

তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের বিশ্বাস, কনস্যুলেটের ভেতরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং তারা ভেতরে প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন