শিরোনাম :

'খাশোগী হত্যায় সৌদি দায়ী'


রবিবার, ৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

'খাশোগী হত্যায় সৌদি দায়ী'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় প্রথমবারের মতো সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে এরদোয়ান বলেন, খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে বলে আমরা জেনেছি। তবে তিনি তুরস্কের সাথে সৌদি আরবের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনায় বাদশাহ সালমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি। খবর: বিবিসি ও আল জাজিরার।

সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের সনদ নিতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর থেকে নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব স্বীকার করেছে যে কনস্যুলেট ভবনে খুন হয়েছেন তিনি। তবে তার মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। তুরস্ক বলছে, হত্যার পর এসিড দিয়ে খাশোগির মরদেহ গলিয়ে ফেলা হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান লিখেছেন, সৌদি আরবে আটক হওয়া ১৮ জনের মধ্যেই হত্যাকারীরা রয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত। আমরা এও জানি যে, তারা শুধু একটি নির্দেশ পালন করছিল; খাশোগিকে হত্যা করে পালিয়ে যাও। খাশোগিকে হত্যা করার এই নির্দেশটি সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে। তবে আমি এক সেকেন্ডের জন্য বিশ্বাস করি না যে, বাদশাহ সালমান হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে সেই ‘নাচের মাস্টারদের’ মুখোশ উন্মোচিত করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ন্যাটো জোটভুক্ত কোনো দেশের মাটিতে এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার সাহস যেন কেউ কখনো না করে। এ ধরনের কাজ করলে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন? এ প্রশ্নের উত্তর নেই এরদোয়ানের লেখায়। তবে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের একজন উপদেষ্টা অভিযোগ করেন যে, খাশোগি হত্যার রক্ত লেগে আছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে। এরদোয়ান বলেন, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট সরাসরি মিথ্যা কথা বলেছে। শুধু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন নয়। এর চেয়েও বেশি কিছু আছে। সৌদি প্রসিকিউটর তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অনেক সাধারণ প্রশ্নেরও জবাব দিচ্ছেন না তারা। এই হত্যাকাণ্ড যারা ধামাচাপা দিতে চায় তাদেরকে উন্মোচিত করা হবে।

এদিকে লন্ডনে সৌদি দূতাবাসের বাইরের রাস্তার নাম খাশোগি স্ট্রিট রেখেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির ইউকে পরিচালক কেট অ্যালেন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে বিশ্ব ক্ষুব্ধ। বিনা বিচারে এই ক্ষোভকে প্রশমিত হতে দিতে পারি না।

এদিকে মার্কিন অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ, লেখক জেকে রাউলিং এবং জেডি স্মিথের মতো একশোর বেশি বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব খাশোগি হত্যার একটি স্বাধীন তদন্তের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে তারা এই আহবান জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন