শিরোনাম :

রোগাক্রান্ত মমতার ফসল


বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোগাক্রান্ত মমতার ফসল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সদ্য তিন রাজ্যে ভোটে জেতার পর কৃষকদের ঋণ মকুবের পথে হেঁটে কেল্লা ফতে করতে চাইছেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু কৃষক স্বার্থ রক্ষায় ঋণ মকুব নয়, বরং তাদের ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়ে এ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুরুপের তাস 'বাংলা ফসল বিমা যোজনা'। লোকসভা ভোটের আগে উন্নয়নের মাপকাঠিতেই তিনি তাঁর সরকারের মূল্যায়নের দায়িত্ব ছেড়েছেন সাধারণ মানুষের উপরেই।

এ দিন দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের মন্দিরবাজারে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করতে দুপুর পেরিয়ে পৌষমেলার মাঠে পৌঁছন মমতা। কিন্তু সকাল দশটা থেকেই সেই মাঠ তো বটেই আশেপাশের মাঠ, খেত সবই চলে যায় সাধারণ মানুষের দখলে। প্রশাসনের হিসেবে, এ দিনের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ।

কৃষি নীতি নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধে মমতা জানান, এতদিন ফসল বিমার ৮০% অর্থই দিতে হত রাজ্যকে। কিন্তু বাকি ২০% টাকাও কেন্দ্রের তরফে মিলছে না। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, এ বার থেকে ফসল বিমার ১০০% অর্থই রাজ্য সরকার দেবে। সমাবেশে তিনি সোজাসাপটা বলেন, 'এ রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার আপনারা দেখেছেন। বামেদের সরকারও দেখেছেন। এখন কেন্দ্রে বিজেপির সরকারও দেখছেন। আপনারাই বলুন, রাজ্যে এখন যে কাজ হচ্ছে, তা আর কোন সরকারের আমলে হয়েছে?' উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, 'বিশ্বাস রাখুন, ভরসা রাখুন। আর রাখুন আস্থা। একসঙ্গে সবাইকে হয়তো সন্তুষ্ট করতে পারব না। কিন্তু, যারা গরিব, যারা অবহেলিত, যারা বঞ্চিত, তাদের পাশে থাকবে সরকার।'

কৃষি ঋণ নিয়ে সরকারি কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, এ রাজ্যে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ খুব কম। জোত ছোট হওয়ায় ঋণের পরিমাণও মাথাপিছু বেশ কম। ফলে ঋণ মকুব করে কৃষকের পাশে সে ভাবে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। বরং কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম এবং ক্ষতির মুখে বিমার টাকা পেলে অনেক বেশি উপকৃত হবে।

এ দিন নিজের দলকেও বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, 'আমি সাংসদ, বিধায়কদের বলছি, মানুষের সমস্যাগুলো শুনুন।' সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর ঘোষণা, 'বাড়ি বা দু'টাকা কিলো চাল পেতে একটি পয়সাও দেবেন না। ফড়েদের কাছে ধান বিক্রি করবেন না।' তিনি জানান, এ রাজ্যে বন্যা, খরায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ লাখ কৃষককে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন