শিরোনাম :

সামরিক ধাঁচের অস্ত্র নিষিদ্ধ


শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সামরিক ধাঁচের অস্ত্র নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডে সামরিক ধাঁচের (মিলিটারি) অস্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। তা অবিলম্বে কার্যকর হবে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডর্ন। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সেমি অটোমেটিক রাইফেলের সাহায্যে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো। তিনি জানান, আগামী এপ্রিলে এসংক্রান্ত আইন পার্লামেন্টে তোলা হবে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সেমি অটোমেটিক রাইফেল বেচাকেনা ও বহন নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া যাদের হাতে এ ধরনের অস্ত্র আছে, সেগুলো কিনে নেবে সরকার।

জেসিন্ডা আরডর্ন বলেন, ‘১৫ মার্চ আমাদের ইতিহাস চিরতরে বদলে গেছে। এখন আমাদের আইনও বদলে যাবে। আমরা নিউজিল্যান্ডবাসীর পক্ষ থেকে আজ আমাদের বন্দুক আইন আরো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ ঘোষণা করছি। এ আইন আমাদের দেশকে আরো নিরাপদস্থলে পরিণত করবে।’ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গত সোমবার নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রিসভা মিলিটারি স্টাইল সেমি অটোমেটিক রাইফেল ও অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করতে একমত হয়েছিল।

গতকাল রাজধানী ওয়েলিংটনে এ সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চ হামলায় যেসব সেমি অটোমেটিক রাইফেল ব্যবহার হয়েছিল, এর প্রতিটি নিষিদ্ধ হবে। এ সময় তিনি জানান, তিনি আশা করছেন, আগামী ১১ এপ্রিল নতুন আইন পার্লামেন্টে উঠবে। এই পার্লামেন্ট আইনের খসড়া ও প্রবর্তন দ্রুত করবে।

অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অস্ত্র ক্রয় নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পার্লামেন্টে আইন প্রবর্তনের আগ পর্যন্ত অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে কোনো নাগরিক পুলিশের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমি জনগণকে নিশ্চিত করে বলতে পারি যে এ ধরনের অনুমতির জন্য আবেদন করার কোনো সুযোগ থাকছে না।’ তিনি বলেন, ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন, দ্রুত গুলি করার জন্য বাম্পস্টকসম্পন্ন অস্ত্রও নিষিদ্ধ থাকবে আইনে। এ ছাড়া বর্তমানে অস্ত্র মালিকরা অস্ত্র বহন করতে পারবেন না। আমি আশা করি, আপনারা আইনের মধ্যে থাকবেন।’

নিউজিল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১২ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র নাগরিকদের হাতে আছে। অর্থাৎ প্রতি তিনজনে একটি অস্ত্র রয়েছে দেশটিতে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব অস্ত্র সরকার কিনে নেবে। এ জন্য অস্ত্র পুনঃক্রয় প্রকল্পের জন্য ১০ থেকে ২০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র আইন সংস্কারের প্রস্তাবটি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে। ১৯৮৩ সালের আইনটি সংশোধন করতে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে। এ সময়ে মধ্যে সব ধরনের সেমি অটোমেটিক রাইফেল বেচাকেনা নিষিদ্ধ থাকবে। এ জন্য এরই মধ্যে নিউজিল্যান্ড গভর্নর জেনারেল প্যাটসি রেড্ডি সেমি অটোমেটিক রাইফেলকে মিলিটারি স্টাইল অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে একটি আদেশে সই করেছেন।

সব লাশ শনাক্ত : পরে গতকাল বিকেলে নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল তারা ৫০টি মৃতদেহের সবকটির পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, ‘এর অর্থ এখন সব ভিক্টিমের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ হয়েছে।’ মৃতদেহ হস্তান্তরের বিলম্বের কারণে কয়েক দিন ধরেই তাদের স্বজনরা গণমাধ্যমের ক্ষোভ জানিয়ে আসছিল।

নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মৌন মিছিল : নিউজিল্যান্ডজুড়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ডুনেডিনের রাগবি স্টেডিয়ামের কাছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মৌন মিছিল করে। ডুনেডিনের ওটাগো ডেইলি টাইমস জানায়, ইউনিভার্সিটি অব ওটাগোর সামনে থেকে এই মৌন মিছিল শুরু হয়। সূত্র : সিএনএন, এএফপি, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন