শিরোনাম :

ইরান-বৃটেন উত্তেজনা অব্যাহত


সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ইরান-বৃটেন উত্তেজনা অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৃটেনের তেলবাহী জাহাজ স্টেনা ইমপেরো জব্দ করায় ইরান ও বৃটেনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বৃটেনকে সহায়তা করতে এরই মধ্যে অতিরিক্ত সেনা সদস্য ও যুদ্ধসরঞ্জাম ভূমধ্যসাগরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যে আলোচনার প্রস্তাব তার জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ সিএনএনকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এক একটি সরকার ক্ষমতায় আসবে। আর তাদেরকে নতুন করে সমঝোতায় বসতে হবে। এমনটা তারা মানতে পারেন না। পাশাপাশি তারা ভূমধ্যসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সতর্ক করেছে বৃটেনকে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে ইরানের সঙ্গে বহুজাতিক যে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল তার অংশীদার বৃটেন।

তারাই এখন ট্যাংকার জব্দ করার পর ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধের পরিকল্পনা করছে বলে শনিবার খবর দিয়েছে ডেইলি টেলিগ্রাফ। ইরান বলেছে, জব্দ করা জাহাজের ক্রুরা সবাই সুস্থ আছেন। ইরানের এ আচরণকে বৃটিশ সরকার শত্রুতামূলক বলে মন্তব্য করেছে। ইরানের দাবি, একটি দুর্ঘটনায় পড়ে স্টেনা ইমপেরো। এ জন্য শুক্রবার তা জব্দ করে ইরান। কিন্তু তাদের এ যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বৃটেন। পাশাপাশি তারা তাদের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
বৃটেনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হামিদ বেইদিনেজাদ টুইটারে লিখেছেন, জাহাজ ইস্যুকে অতিক্রম করে যারা ইরান ও বৃটেনের মধ্যে উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলতে চান বৃটেনের সেইসব আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তির লাগাম টেনে ধরা উচিত বৃটিশ সরকারের। এ অঞ্চলের জন্য এটা একটি বিপদজনক সময়।

বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের মন্তব্যের একদিন পরেই তিনি এমন টুইট করলেন। জেরেমি হান্ট বলেছেন, তেহরানের কর্মসান্ড উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান হয়তো বিপজ্জনক অবৈধ পথ অনুসরণ করছে এবং বিঘœ সৃষ্টিকারী আচরণ দেখাচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি জবাব দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওদিকে সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘের দেয়া অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই সপ্তাহ আগে ভূমধ্যসাগরে ইরানের ট্যাংকার গ্রেসি ১ আটক করেছে বৃটিশ কর্তৃপক্ষ। জিব্রাল্টারের এক আদালত ওই আটকাদেশ ৩০ দিন বর্ধিত করেছে। ওদিকে ইরান বলছে, তাদের হাতে আটক ট্যাংকার নৌসীমানা বিষয়ক নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেছেন, নৌচলাচল বিষয়ক আন্তর্জাতিক যে আইন আছে তাকে সমুন্নত রাখাই হলো ইরানের গৃহীত কর্মকান্ডের অংশ। ওদিকে রাষ্ট্রীয় রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত পার্লামেন্ট অধিবেশনে স্পিকার আলি লারিজানি বলেছেন, বৃটেন ইরানের যে ট্যাংকার ছিনতাই করেছে তার জবাব দিয়েছে রেভুল্যুশনারি গার্ডস।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন