শিরোনাম :

বরিসকে উৎখাতের ডাক


শুক্রবার, ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০২:৪৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিসকে উৎখাতের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শুরু থেকেই ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সমালোচনায় মুখর বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। বলছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বরিস। সংসদে এমপিদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ায়ও ছিল গলদ।

এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বরিসকে উৎখাত করে লেবার পার্টির অধীনে সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন করবিন। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির বিদ্রোহী এমপি ও বিরোধী অন্য নেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। সামনে আনেন অনাস্থা ভোটের পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা মতে, অনাস্থা ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হলে ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেবেন তিনি। এরপর ‘সীমিত সময়ের মধ্যে’ আগাম নির্বাচন ও আরেকটি ব্রেক্সিট গণভোটের আয়োজন করবেন। বৃহস্পতিবার লেখা এক চিঠিতে এসব কথা বলেন তিনি। তার এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা জোন সোয়ানসন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘করবিন প্রধানমন্ত্রী হলে গণভোট বাতিল করে দেবেন এবং এতে অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে।’ খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ব্রেক্সিট নিয়ে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের পদত্যাগের পর গত মাসে প্রধানমন্ত্রী হন বরিস। পার্লামেন্টে দলের এমপিরা চার দফা ভোটের মাধ্যমে তাকে নতুন নেতা নির্বাচিত করেন। বরিস বলছেন, ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি চুক্তি চান তিনি। তবে চুক্তি হোক বা না হোক যে কোনো পরিস্থিতিতে আগামী ৩১ অক্টোবর যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করবে ব্রিটেন। এজন্য সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। মূলত আইরিশ সীমান্তে কড়াকড়ি না করার জন্য কথিত বেকস্টপ পরিকল্পনা বাতিলের জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যে সমঝোতা করেছিলেন তাতে এই বেকস্টপ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন এমপিরা। এখনও সেটাই করে যাচ্ছেন সরকারি এবং বিরোধীদলীয় অনেক এমপি। খোদ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও এই পরিকল্পনার বিরোধী। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা নতুন করে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না। এতে করে বেকায়দায় পড়েছেন বরিস।

ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পার্লামেন্টের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় কিংবা প্রয়োজনে পার্লামেন্ট স্থগিত করে ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন। এমনকি ব্রেক্সিট কার্যকরের পরদিন অর্থাৎ ১ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনেরও ঘোষণা দিতে পারেন তিনি।

বরিসের এই একগুঁয়েমি পদক্ষেপকে ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন বিরোধী নেতারা। বুধবার এক বিবৃতি দিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড প্রধানমন্ত্রীর এ পদক্ষেপে বিরোধিতা করেছেন। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার বিরোধী নেতা করবিনও। কেবিনেট সেক্রেটারি স্যার মার্ক সেডউইলকে দেয়া এক চিঠিতে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রচারণার সময় কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর করা হবে অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক। একে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মন্তব্য করেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন