শিরোনাম :

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ


শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করার পর এই বিল এখন আইনে পরিণত হয়েছে ভারতে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন স্থানে ও রাজ্যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাই কমিশনার দেব মুখার্জী। শুক্রবার তিনি এই আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সরকারের প্রশাসনিক সাবেক দু’জন কর্মকর্তা। তারা হলেন সোম সুন্দর বড়–য়া ও অমিতাভ পান্ডে। ওদিকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই ৫টি রাজ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়।

তাদের এই অস্বীকৃতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হচ্ছে ভারতে।

বার্তা সংস্থা এএনআই নিউজ বলছে, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন দেব মুখার্জী। এই আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে নির্যাতিত সংখ্যালঘু অর্থাৎ অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। আবেদনে দেব মুখার্জী বলেছেন, ধর্ম ও জাতীয়তার ভিত্তিতে এই আইনে শরণার্থীদের আলাদা করে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হচ্ছে। দেব মুখার্জীর আবেদনের ভাষায়, ‘এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-২০১৯ এর উদ্দেশ্য হলো নির্যাতিত মানুষকে সুবিধা দেয়া। কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে ধর্ম ও জাতীয়তা এই দুটির ওপর ভিত্তি করে নির্যাতিতদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ এতে সমতা বিষয়ক প্রতিটি জ্ঞাত নীতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে দাবি করে, এতে আরো বলা হয়, ধর্মের ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করা হচ্ছে এবং সমান সম্মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপূরণীয় বিষয় প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এতে আরো বলা হয়েছে, এই আইনের ধারায় ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষতি ও ধ্বংস করা হচ্ছে। এটাকে দেখা যেতে পারে অসাংবিধানিক হিসেবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যেসব সংখ্যালঘু নির্যাতিত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য করা হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন। গত বুধবার এই বিলটি পাস করে পার্লামেন্ট। এরপর বৃহস্পতিবার এতে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ। ফলে এটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন