শিরোনাম :

পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়া উদ্দিনের জানাযা অনুষ্ঠিত


মঙ্গলবার, ১ আগস্ট ২০১৭, ০৩:২২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়া উদ্দিনের জানাযা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুর প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত মেজর(অব:) জিয়া উদ্দিন আহম্মেদের জানাযা নামাজ পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আজ সোমবার সোয়া ৬ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সেখ এর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সম্মনান জানানো হয়। পরে মেজর জিয়াউদ্দিনের কফিনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি জেপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংগ সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

ফুলেল শ্রদ্ধা শেষে জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা নামাজে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাগেরহাট-১ আসনের এমপি মীর শওকত আলী বাদশা, পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো: হাবিবুর রহমান মালেক, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট্রের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান খোকন, জেলা উদীচী সভাপতি এ্যাডভোকেট এম এ মান্নান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মজিবুর রহমান খালেক, জেলা শিল্পকলা একডেমির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

এ বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাযা নামাজে অংশ নিতে বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী ও গোপালগঞ্জ সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার মানুষ পিরোজপুরে উপস্থিত হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টা তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আফতাবউদ্দিন কলেজে প্রথমে ও পরে দুপুর ১২ টায় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ রাখা হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে গতকাল রবিবার বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বিকাল ৩টার দিকে জিয়াউদ্দিনের কফিন সর্বস্থরের জনগনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতে ঢাকা জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জাতীয় পতাকায় মোড়ানো এই মুক্তিযোদ্ধার কফিনের সামনে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় জিয়াউদ্দিনের, শনিবার রাতে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের হীমঘরে রাখার পর সকালে মরদেহ নেওয়া হয় তার ধানমন্ডির বাসায়।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরে মেজর এম এ জলিলের অধীনে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সুন্দরবন অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দেন মেজর জিয়াউদ্দিন। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম সাক্ষী সাব সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত মেজর(অব:) জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ।
আশির দশকে এইচ এম এরশাদ সরকারের সময় বেশ কিছুদিন সিঙ্গাপুরে অবস্থানের পর দেশে এসে নিজের এলাকা পিরোজপুরে আসেন। এই মুক্তিযোদ্ধা পরে ‘সুন্দরবন বাঁচাও’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। স্থানীয়ভাবে তাকে ডাকা হত সুন্দরবনের ‘মুকুটহীন সম্রাট’ নামে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সুন্দরবনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ‘সুন্দরবন সমরে ও সুষমায়’ নামে একটি বই রয়েছে তার।

এদিকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ.ম. রেজাউল করিম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি সমীরকুমার দাস বাচ্চু, পিরোজপুর পৌর মেয়র পত্মী নীলা রহমান, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা সালমা রহমান হ্যাপী, পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ মসিউর রহমান মহারাজ সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


টিএস

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন