শিরোনাম :

ছাত্রদল নেতার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়নি: আইজিপি


শুক্রবার, ১৬ মার্চ ২০১৮, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ছাত্রদল নেতার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়নি: আইজিপি

ডেস্ক প্রতিবেদন: ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলন পুলিশের হেফাজতে মারা যায়নি বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে যদি কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তাহলে রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার বয়রাস্থ পুলিশ লাইনস মাঠে মহানগর বিট পুলিশিং কার্যক্রম উদ্বোধন এবং মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সুধী সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

স্বজনদের দাবি , মিলনকে রিমান্ডের সময় তার হাতের নখের অর্ধেক অংশ তুলে নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও তাকে ব্যাপক মারধরও করা হয়েছিল, যার কারণে পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়েছে।

মিলনের চাচা বিএম অলিউল্লাহ বলেন, ‘ওর হাতের নখগুলা অর্ধেক আছিল। কুকুরে কামড় দিলে যেমন হয় আরকি। কুকুরে অর্ধেক খায় আর অর্ধেক থাকে, সে রকম আছিল তার হাতের নখগুলা।’

মিলনের পুরো শরীরের মধ্যে কোমরে, গলায় ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানান অলিউল্লাহ। এমনকি ময়নাতদন্তের পর মিলনের চেহারাটাও ভালো করে তার চাচাকে দেখতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

জাকিরের স্বজনরা ভেবেছিলেন গত ৫ ডিসেম্বর সচিবালয়ের প্রথম গেটের সামনে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু তারা পরে জানতে পারেন, জাতীয় প্রেসক্লাবে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় তাকে ৬ মার্চের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মিলনকে ৬ মার্চ আটক করে রমনা থানা পুলিশ। এরপর তারা তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করলে তারা তাকে পুলিশের কাজে বাধাদানের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন ৭ মার্চ আদালতে তোলে। আদালত মিলনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড চলাকালীন তার স্বজনরা শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে গেলে জাকির সেখানে নেই বলে জানানো হয়। পরে তারা ডিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারাও একই কথা বলে। ১১ মার্চ তাকে আদালতে তোলা হলে তার জামিনের জন্য আবেদন করেন স্বজনরা। কিন্তু আদালত সে আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

জাকির হোসেন মিলন গ্রেফতার পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনায় দুই দিনের কর্মসূচিও দেয় বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১৬ মার্চ শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল এবং ১৮ মার্চ রবিবার সারাদেশের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে বিক্ষোভ করবে।

গতকাল বিকেলে পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সামাজিক সমস্যা। এসব সমস্যা সামাজিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। পুলিশের সব ইউনিট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। এসব কিছুর মধ্য দিয়েই মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি ফোর্স হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সামাজিক সংগঠনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এভাবে সমাজের সবাই এগিয়ে এলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সফল হতে পারবো।’

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহম্মদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ ও জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান।

এ ছাড়াও সমাবেশে মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি ডা. একেএম কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ সৈয়দ আলী, জেলা সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, অ্যাভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন