শিরোনাম :

চলছে যেন ঈদ!


বুধবার, ২ মে ২০১৮, ০৪:০৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

চলছে যেন ঈদ!

যশোর: স্বামী-সন্তান হারা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দশপাখিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধা আখিলা বেগমের বিনে পয়সার বাড়িতে চলছে যেন ঈদ! প্রতিবেশী লিয়াকতের দান করা এক শতক জমির ওপর সরকার একটি সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেয়ায় মহা খুশি সে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির ১২৬ ঘর তৈরির কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

এদিকে একই গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী গৃহহীন বিধবা রেখা বেগমের একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিল অনেক আশা করে। কিস্তু যৌতুক দিতে না পারায় তালাক দেয় তার মেয়েকে। এখন পরের বাড়ি কাজ করা মেয়ের আয়ে অন্ন জোটে রেখার। এক খণ্ড জমির ওপর সরকার ঘর করে দেয়ার আনন্দ প্রকাশ করেন: ‘ভাঙ্গা একখান চালার নিচে ঘুমোতাম। কখনও ভাবিনি আমার একখান পাকা ঘর হবে। ধন্যবাদ জানাই সরকার আর বাঘারপাড়া অপিসির স্যারকে’।

বন্দবিলা ইউনিয়নের বড়খুদরা গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের স্ত্রী ভিক্ষুক পঞ্চাশোর্ধ আয়তন নেছার চোখে মুখে এখন খুশির ঝিলিক। সরকারি খরচে ঘর পেয়ে যেন খুশির অন্ত নেই তার। গৃহহীন আয়তন নেছা তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। বলেন ‘এখন আর বৃষ্টিতে ভিজে ঘুমাতি হবেনা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই ঘর স্মৃতি হয়ে থাকপি’। একই সাথে তিনি ধন্যবাদ দেন স্থানীয়দেরকেও। যারা তাকে বিনে পয়সায় এই ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তার মত বিনে পয়সায় ঘর পেয়ে খুশি একই ইউনিয়নেরর দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের জামাল খাঁ ও তার স্ত্রী হেলেনা বেগম, প্রেমচারা গ্রামের শহিদুল, ইউনুস আলী ও গোলাপী খাতুনরা। হেলেনা বেগম বলেন ‘এতদিন সোলার (পাটকাঠি) ঘরে থাকতাম। আমার একটি পাকা ঘর হবে-তা কল্পনাও করিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এ ঘর আমাগের জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে’।

সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শহীদুল ইসলাম বলেন ‘ঘর পেতে কোন টাকা লাগেনি। পাশের লোকজন দেখতে আসছেন কিভাবে ঘর করা হয়েছে। গোলাপী খাতুন বলেন ‘জীবনে ভালো কোন ঘরে ঘুমাতি পারিনি। বাকি জীবনটা অন্তত ভালো একটি ঘরে কাটাতি পারবো’।

উপজেলা প্রকল্প (বাস্তবায়ন) কর্মকর্তা ফিরোজ হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রথমে যার জমি আছে ঘর নাই- বাঘারপাড়ায় এমন ১৩২টি পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে জহুরপুর ইউনিয়নে ২১ টি, বন্দবিলায় ২৫টি, রায়পুরে ৩২টি, নারিকেলবাড়িয়ায় ২৫ টি, ধলগ্রামে ২৮টি ও দোহাকুলা ইউনিয়নে একটি পরিবারকে এ ঘর দেয়া হয়েছে।

প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে এক লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রায় ১১২ টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যে এ উপজেলায় আরো ১২৬ টি ঘরের বরাদ্ধ এসেছে। এ সংক্রান্ত চিঠিও পেয়েছেন নির্বাহী অফিসার। এ প্রসঙ্গে নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবুল সরদার বলেন, ‘ঘর পেয়ে খুশি হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা’।

অপরদিকে বন্দবিলা ইউপি চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান বলেন, নিয়ম মেনেই মানসম্মত ভাবে এ ঘর গুলি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন বলেও জানান তরুণ এ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।


ঘর নির্মাণ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহানাজ বেগম বলেন, ‘প্লান ও ডিজাইন অনুযায়ি ঘরগুলি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজে যাতে ত্রুটি না থাকে সে জন্য কমিটির সদস্যদের নিয়ে আমি নিয়মিত দেখভাল করছি’।

দ্বিতীয় কিস্তিতে বরাদ্ধ পাওয়া ১২৬ টি ঘরের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান উপজেলার এই কর্তা ব্যক্তি। তার ভাষায়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন আমরা সেটা বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের সবার সহযোগিতা পেলে আপনাদের জন্য ভাল ভাল কাজ আমি উপহার দিতে পারব বলে বিশ্বাস রাখি।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন