শিরোনাম :

বাগেরহাটে জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত


বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বাগেরহাটে জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত

বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী এলাকায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উন্নয়ন (সিইআইপি) প্রকল্পের নির্মাণাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

কয়েকক দিন থেকে বগী বাজার সংলগ্ন বাঁধের প্রায় ৪০০ মিটার সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে বগী থেকে গাবতলা বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার বাঁধের ১০টি পয়েন্টে ভযাবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ থেকে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ওঠানামা করছে। এতে ফসলের মাঠ, কয়েক শত ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুর প্লাবিত হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা শুরুতে বলেশ্বর নদী সংলগ্ন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওই এলাকায় কাজ না করে কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ করেছেন।

সিডর ও আইলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারটির ৬৩ কিলোমিটার বাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণের লক্ষ্যে ‘সিএইচডব্লিউই’ নামের চায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে তিন বছর মেয়াদে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি কাজ শুরু করে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায় চলে আসলেও পোল্ডারটির বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী সন্ন্যাসীর থেকে বগী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার বাঁধের মূল এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশের উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ হয়নি।

ভাঙন এলাকার বাসিন্দা সায়শের আলী হাওলাদার, বাবুল হাওলাদার, আ. রাজ্জাক ও রাজিব হাওলাদার বলেন, শুনেছি কাজের মেয়ার শেষের পথে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রতিনিয়ত বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে সব তলিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রিয়াদুল পঞ্চায়ায়েত বলেন, নদীশাসন না করে বাঁধ নির্মাণ করা হলে ওই বাঁধ কোনোভাবে রক্ষা করা যাবে না।

সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কারো কথা শোনে না। তাদের কাজ সম্পর্কেও কেউ কিছু জানে না। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বগী, গাবতলা, উত্তর সাউথখালী, দক্ষিণ সাউথখালী, রায়েন্দা এলাকাকে রক্ষা না করে তাদের ইচ্ছেমতো কম গুরুত্বপূর্ণ সোনাতলা, রাজাপুর, ধানসাগর এলাকায় কাজ করছে। কাজের মেয়াদ এখন শেষ পর্যায়ে। এ অবস্থায় প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে তাদেরকে বেশ কয়েকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আবারো বলা হবে।

বেড়িবাঁধের কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সিইআইপি প্রকল্পের প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত জানান, কাজের শুরুতে ওই এলাকার বেড়িবাঁধ ভালো থাকায় অন্য এলাকায় কাজ করা হয়। হঠাত্ করে বাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে রিংবাঁধ ও মাটির বস্তা দিয়ে ওই এলাকা রক্ষার চেষ্টা চলছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন