শিরোনাম :

ফিল্মি কায়দায় হত্যা


মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর ২০১৮, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ফিল্মি কায়দায় হত্যা

বাগেরহাট: সোমবার বিকেলে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে প্রতিপক্ষরা বোরকা পরিয়ে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

উপজেলা যুবলীগের সদস্য শেখ শুকুর আলী (৪৫) ও দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার (৫৩) নামে দু’জনকে হত্যা করা হয়েছে। হামলার সময় ইউনিয়ন তাঁতী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাবুল শেখকে (২৫) কুপিয়ে জখম করা হয়।

আহত বাবুল শেখ ও নিহতদের স্বজনরা দৈবজ্ঞহাটি ইউপির আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম ফকির ও তাঁর লোকজন এ হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন । পুলিশ ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির, ইউনিয়নের দফাদার ও চৌকিদারসহ তিনজনকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

দুই নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দৈবজ্ঞহাটির লোকজন। মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ মল্লিকের নেতৃত্বে দৈবজ্ঞহাটি বাজারে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছেন। তাঁরা হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির ও তাঁর ক্যাডারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।

আহত বাবুল শেখ বাগেরহাট হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, বিকেলে দৈবজ্ঞহাটী বাজারে যাই। বাজারে যাওয়ার পর হঠাৎ চেয়ারম্যান শহীদুলের লোকজন পিস্তল ঠেকিয়ে নিয়ে গেছে। যাওয়ার পরে আমাকে বলছে, যা যা বলব তা তা করবি। এরপর বোরকা-টোরকা পরাইছে। বলছে নইলে তোরে মাইরা ফালাব। তোর মারেও মাইরা ফালাব।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৈবজ্ঞহাটি বাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আনসার আলী, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি শেখ শুকুর আলী ও বাবুলকে ধরে ইউপি কার্যালয়ে চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকিরের টর্চার সেলে নিয়ে যান। এরপর তাঁদের বোরকা পরিয়ে টর্চার সেল থেকে বাইরে এনে শহীদুল ও তাঁর লোকজন বলতে থাকেন, ‘এরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালাতে এসেছে, এদের ধরে মার।’ এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন তিনজনকে গুলি করে, কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। মারতে মারতে তাঁদের বোরকা খুলে ফেলে। আধা ঘণ্টা নির্যাতনের পর খবর পেয়ে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ রিয়াদুজ্জামান যুবলীগ নেতা শুকুরকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই আহত আনসার আলী ও বাবুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথে আওয়ামী লীগ নেতা আনসারের মৃত্যু হয়।

আনসার আলী দৈবজ্ঞহাটির জোকা গ্রামের আবির শেখের ছেলে এবং যুবলীগ নেতা শুকুর আলী মোসলেম শেখের ছেলে। নিহত দু’জন একই গ্রামের বাসিন্দা। শুকুর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ খানের খালাতো ভাই।

দুই নেতার মৃত্যুর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। হত্যার বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এর পরে বাগেরহাট শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। হতাহতদের সমর্থকদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকিরের ভাগ্নে মিল্টন খান (৪০) আহত হন। তাঁকে সন্ধ্যায় উদ্ধার করে পুলিশ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আজিজুল হক জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেএই ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির, ইউনিয়নের দফাদার ও চৌকিদারকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাট-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের ডা. মোজাম্মেল হোসেন। ওই আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। তাঁদের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দৈবজ্ঞহাটিতে নিহতরা সোহাগের অনুসারী বলে পরিচিত।

হামলার অভিযোগে আটক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফকির সংসদ সদস্য মোজাম্মেলের অনুসারী বলে পরিচিত। শহীদুল ইসলাম বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দলটিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য মোজাম্মেলের কাছের লোক হয়ে ওঠেন। শহীদুলের আওয়ামী লীগে কোনো পদ-পদবি না থাকলেও পরপর দুবার নৌকার মনোনয়নে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন