শিরোনাম :

প্রসাধনীর যেসব গুনাগুণ আসলে মিথ্যা!


বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

প্রসাধনীর যেসব গুনাগুণ আসলে মিথ্যা!

ডেস্ক প্রতিবেদন: একটি প্রসাধনী কেনার সময়ে সবার প্রথমে কী দেখেন আপনি? নিশ্চয়ই তার গুণাগুণ বিচার করেন! হয়তো কোম্পানিটি দাবি করছে, ক্রিমটি ডি-এজিং (বয়সের ছাপ দূর করে), নারিশিং (ত্বকে পুষ্টি যোগায়) অথবা ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড।আপনি সেটা দেখেই ধরে নেন পণ্যটি খুবই ভালো। এসব লেবেল যে অনেক সময়েই ভুল হয়ে থাকে, তা কি আপনি জানেন? একটি পণ্য কেনার সময়ে সবার আগে এর উপাদানের তালিকা দেখা দরকার, তা না দেখে আমরা এসব চটকদার কথাবার্তায় মুগ্ধ হয়ে যাই।ক্রেতাকে মুগ্ধ করার উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে বাড়িয়ে অনেক কথাই লেখা হয় পণ্যের মোড়কে, তা দেখে আপনিও গলে যাবেন না যেন! এসব কথার বেশিরভাগই অতিরঞ্জন এবং কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি মিথ্যা! শুধুমাত্র মার্কেটিং এর উদ্দেশ্যে এসব কথা লেখা হয়, এদের পেছনে সত্য থাকে কমই।দেখে নিন, এসব কথায় আপনিও ভুল বুঝছেন না তো?

অ্যান্টি-এজিং: জেনে রাখুন, বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এমন কোন রাসায়নিক আবিষ্কার করতে পারেননি যা বয়সের ছাপ দূর করতে সক্ষম।সানস্ক্রিন হলো সেই একটিমাত্র প্রসাধনী যা আপনার ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে পারে।বিভিন্ন অ্যান্টি এজিং এবং ডি-এজিং প্রোডাক্টে দেখা যায় তা “স্কিনকেয়ার এক্সপার্ট’ দ্বারা প্রমাণিত।আর আমরা ত্বকের বয়সের ছাপ ঢাকতে হামলে পড়ে এসব পণ্য কিনি। কিন্তু জেনে রাখুন, এটা অতিরঞ্জন ছাড়া কিছুই নয়।

ক্রুয়েলটি ফ্রি/ নট টেস্টেড অন অ্যানিমেল: আমাদের দেশের মানুষেরা এখনো এ ব্যাপারটা নিয়ে তেমন সচেতন নয়।তবে পাশ্চাত্যের অনেকেই এমন পণ্য ব্যবহার করেন না যা অন্য প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।কারণ এসব টেস্টের কারণে প্রাণীগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে, মারাও যায় অনেক সময়ে।তবে একটি প্রডাক্টে ক্রুয়েলটি ফ্রি বা নট টেস্টেড অন অ্যানিমেল মানেই কিন্তু তা সত্যি নয়।হয়তো এর কাঁচামালগুলো অন্য প্রাণীর ওপরে টেস্ট করা হয়েছে।হয়তোবা আগে এই পণ্যটি অ্যানিমেল টেস্টিং এ ব্যবহার হতো, এখন আর হচ্ছে না। সুতরাং শুধু লেবেলে এই কথা লেখা থাকলেই খুশি হবার কোন কারণ নেই।

হাইপোঅ্যালার্জেনিক: ‘হাইপোঅ্যালার্জেনিক’ বলতে বোঝা যায়, ওই পণ্যটি অ্যালার্জি তৈরি করবে না, বা করলেও তাতে সমস্যা কম হবে।তবে সমস্যা হলো, কী কী উপকরণ থাকলে তা আসলেই হাইপোঅ্যালার্জেনিক বলে দাবি করা যাবে, এর সঠিক কোন নীতিমালা নেই।আর একটি পণ্য কখনোই কারো অ্যালার্জির সৃষ্টি করবে না, তা নিশ্চিত করার উপায় নেই কারণ একেক মানুষে একেক রকমের অ্যালার্জি দেখা যায়।তাই “হাইপোঅ্যালার্জেনিক” দাবি করলেই যে আপনার ত্বকের জন্য তা নিরাপদ, এমনটা ভেবে নেবেন না।

নন-কমেডোজেনিক: এই কথাটির অর্থ হলো, তা তৈলাক্ত ত্বক বা এমন ত্বকের জন্য উপকারী যাতে ব্রণের উপদ্রব বেশী।এসব পণ্য ব্যবহারে আপনার পোরস বা রোমকুপ আটকে যাবে না বলে দাবি করা হয়। ‘কমেডো’ হলো আটকে যাওয়া পোর, ব্ল্যাকহেড বা হোয়াইটহেড।তাই “নন-কমেডোজেনিক” মানে ধরা হয় এর ব্যবহারে আপনার ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড বা অ্যাকনে হবে না।কিন্তু এটাও “হাইপোঅ্যালার্জেনিক” এর মত একটি টার্ম। কোন পণ্য আসলেই নন কমেডোজেনিক কিনা, তার কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে তা ব্যবহারে আসলেই আপনি উপকার পাবেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।

ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড: এই কথাটার অর্থ হলো, অন্তত একজন ডার্মাটোলজিস্ট এই পণ্যটি ত্বকে (নিজের বা অন্যের, শরীরের কোনো এক জায়গায়) ব্যবহার করে দেখেছেন, কিছু সময়ের জন্য বা মাত্র একবার। হয়তো এই পণ্যের কোম্পানি থেকে হয়ত তাকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতে পারে, অথবা তিনি নিজেই এই পণ্যের প্রস্তুতকারক হতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে পুরোপুরি ভরসা করে নেওয়া যায় না যে পণ্যটি আপনার ক্ষতি করবে না।

নারিশিং: নারিশিং শ্যাম্পু, লোশন দেখে আমাদের ধারণা হয়, এসব পণ্য ব্যবহারে আমাদের ত্বক ও চুল পুষ্টি পাবে, দ্রুত চুল বাড়বে বা ত্বক সুস্থ থাকবে। কিন্তু তা একেবারেই ভুল ধারণা। আমাদের ত্বকের পুষ্টি আসে অনেক ভেতর থেকে, সে পর্যন্ত এসব পণ্য একেবারে পৌঁছায় না। আপনি স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, ঘুমের অভ্যাস ও শরীরচর্চা বজায় রাখলে ত্বক ও চুল সুস্থ থাকবে, এটাই সবচাইতে সহজ কথা। ‘নারিশিং’ পণ্যের তেমন ভূমিকা নেই।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন