শিরোনাম :

নতুন বছরে কনের সাজে ভিন্নতা


শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নতুন বছরে কনের সাজে ভিন্নতা

ডেস্ক প্রতিবেদন: পুরোদমে চলছে বিয়ের মৌসুম।যদিও দেশের পরিস্থিতির কারণে এবার একটু দেরিতেই হচ্ছে।প্রত্যেক বিয়েতে মূল আকর্ষন হলো কনের সাজ।আর প্রতি বছরই কনের সাজে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।ট্রেন্ডি, ফিউশন ও ট্রাডিশনসহ বিভিন্ন সাজে এ সময়ের কনেদের আগ্রহ বাড়ছে। বিয়ের একেক অনুষ্ঠানে একেক লুক দিতেই সাজের এই ভিন্নতা।কনের সাজের ভিন্নতা নিয়েই আজকের আয়োজন।

ধাপ-১
বিয়ের উৎসবে কনে সাজই সবার আকর্ষণের বিষয়।তাই যেনতেন ভাবে নয়, কনে সাজে একটি দক্ষ হাতের নিপুণ ছোঁয়া চাই।আর তাই তো বিয়ের সাজে যথাযথ পূর্ণতা আনতে কনের মুখ, গলা, ঘাড়, কান, পিঠ সব অংশ ভালোভাবে ফেসওয়াশ ও ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হয়। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী টোনিং করে ময়েশ্চারাইজিং লোশনের ব্যবহার আসে।

ধাপ-২
ত্বকের টোন অনুযায়ী কনসিলার দিয়ে চোখের কালো দাগ ঢেকে বিয়ের মেকআপের বেজটা ত্বকের রঙ অনুযায়ী করে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে অনুজ্জ্বল ত্বকে আভা আনবে বেগুনি রঙের পাউডার। আর সবুজ ও নীল রঙের পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে ধবধবে ফর্সা ত্বকের জন্য। প্রাণহীন ত্বকে প্রাণের পরশ দিতে গোলাপি রঙ ব্যবহার করা হয়। যাদের গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ তাদের ত্বকে কমলা রঙের পাউডার লাগালে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখায়।

ধাপ-৩
এরপর প্যানকেক লাগাতে হয়।এক্ষেত্রে সাধারণত হলুদ, গোলাপি ও সাদা রঙের প্যানকেক প্রয়োজন হয়।এরপর চোখের জন্য শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে আইশ্যাডোর প্রয়োজন হয়। তবে ভিন্নতা আনতে কাজল কালো চোখের সঙ্গে চকোলেট, গ্রিন অথবা বেগুনি বর্ণের শেড ভালো মানায়। আবার লাল শাড়ির সঙ্গে নীল আইশ্যাডো ভালো মানায়। তা ছাড়া সোনালি রঙের ছোঁয়া তো অবশ্যই থাকবে। ভ্রুর ঠিক নিচে সিলভার হোয়াইট কালারের আইশ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করাটা অনেকের পছন্দ। অনেকে আইল্যাশ কালার ব্যবহার করে চোখের পাপড়িকে ওয়েভি করে নিতেও বেশ পছন্দ করেন। কেউ কেউ চোখে ফলস আইল্যাশও লাগান। রাতে বিয়ে হলে যে কোনো রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যায়। তবে সে রঙের পাউডার গিল্গটার শেডগুলোর ওপর ক্রমান্বয়ে লাগানো যেতে পারে। চোখের পাতায় ঘন করে ওয়াটারপ্রুফ মাশকারাও লাগিয়ে নিতে পারেন। এ সবই এখনকার কনেদের পছন্দের বিয়ের সাজ।

ধাপ-৪
এ সময়ের বিয়ের বিশেষ কিছু সাজ সম্পর্কে রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন বলেন, বিয়ের সাজের ক্ষেত্রে দুই পরিবারের মতামত থাকাটা জরুরি। বিয়ের সাজে কনের কাপড়ের ধরনটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শাড়ি দেখেই কনের বিয়ের সাজের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। আবার কনের পেশা বা পছন্দের ওপর নির্ভর করে স্পেশাল লুক আনা সম্ভব হয়। বিয়ের সাজের তিনটি অনুষ্ঠানকে মাথায় রেখেই সাজে পরিবর্তন আসে। গায়েহলুদ, বিয়ে ও বউভাতের সাজকে তিনটি ট্রেন্ডি, ফিউশন ও ট্র্যাডিশনে ভাগ করা হয়েছে। কনের একেক অনুষ্ঠানে একেক লুক দিতেই সাজে এই ভিন্নতা। তিনটি লুকের মধ্যে ট্র্যাডিশন লুকে চোখের ওপর বেশি কাজ করা হয়। ঠোঁট গাঢ় লাল করা হয়। চুল ফুলিয়ে ট্র্র্যাডিশনাল করা হয়। আর মডার্ন লুকে কনের সাজে স্মোকি ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়। যা এ সময়ের কনেদের বেশ পছন্দের।

ধাপ-৫
কনের ফিউশন সাজে যাদের চোখ ছোট তাদের চোখের শেপে পরিবর্তন আনা হয়। চোখ বড় করিয়ে দেখানো হয়। তাই দেখতেও ভালো দেখায়। এই সাজে ঠোঁটের সাজকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মুখের বিভিন্ন অংশে মেকআপ ফুটিয়ে তুলতেই এই সাজটি বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।রূপ বিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল মনে করেন, এ সময়ের কনেরা বিয়ের সাজে ট্র্যাডিশনাল লুককে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারার মাধ্যমেও তাদের সাজে ভিন্নরূপ ফুটে উঠছে।

ধাপ-৬
বিয়ের সাজ নিয়ে গল্গামার্স বিউটি পার্লারের কর্ণধার জেসিকা মিথিলা হালদার বলেন, বিয়েতে কনে সাজের বিভিন্ন শাড়ি, লেহেঙ্গা ইত্যাদিতে খুব একটা পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে বিয়ের শাড়ি বা এর অনুষঙ্গ উজ্জ্বল রঙের হওয়া চাই। কনের উজ্জ্বল পোশাকের সঙ্গে চাই একটুখানি আলতো মেকআপের ছোঁয়া। তাই কনের সাজে মেকআপের জন্য বল্গাশন ও চোখের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হয়। নন-শেড স্মোকি চোখের মেকআপ আমাদের মেকআপের ধরনের মূল আকর্ষণ হয়ে ফুটে উঠবে। আইল্যাশ এবং কাজল অবশ্যই মুখের গড়নের সঙ্গে মানানসই করে ফুটিয়ে তুলতে হবে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালি কনেকে তার স্মরণীয় দিনে আকর্ষণীয় করে ফুটিয়ে তোলাটাই আমাদের নিবিড় চেষ্টা বলেও মিথিলা হালদার মনে করেন।

ধাপ-৭
এ সময়ের কনে সাজ নিয়ে হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের কর্ণধার তানজিমা শারমিন মিউনী বলেন, কনে সাজ প্রত্যেক নারীর জীবনের প্রত্যাশিত স্বপ্ন। তা ছাড়া বিয়ে জীবনের বিশেষ একটি মুহূর্ত। তাই বিয়ের সাজে বিশেষত্ব থাকা চাই। বিয়ের সাজে কনের চোখ বা ঠোঁট সুন্দর করে সাজানো যেতে পারে। চাইলে চুলের ভিন্নতায় বিশেষ পরিবর্তনও আনা যেতে পারে। সুন্দর হাসি আর সেই সঙ্গে সুন্দর সাজ_ সব মিলিয়ে কনে অপূর্ব হয়ে ফুটে উঠবে। তবে চাইলে এই সৌন্দর্যকে সাধারণ সাজের আদলে আরও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারী মেকআপের দিকে খেয়াল না রাখাই ভালো। তাই নিজের সৌন্দর্য পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে নিজের ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও নিজের বা প্রিয়জনের পছন্দকে প্রাধান্য দিতে পারেন। তবে সাজের ক্ষেত্রে ত্বকের স্কিনটোনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সাজে নিজস্ব কোনো পছন্দ থাকলে তা বিউটিশিয়ানকে ভালো করেই বুঝিয়ে দিতে হবে।

 

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন