শিরোনাম :

রোজা অবস্থায় ব্রাশ-পেস্ট ও মেসওয়াক ব্যহারের নিয়ম


বুধবার, ১৬ মে ২০১৮, ১২:১০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোজা অবস্থায় ব্রাশ-পেস্ট ও মেসওয়াক ব্যহারের নিয়ম

ডেস্ক প্রতিবেদন: শরীয়তের পরিভাষায় ৫ ওয়াক্ত সালাত/নামাযের পূর্বে, ঘুম থেকে উঠার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ভাত খাওয়ার পরে যে কোন কাঁচা গাছের ডাল দ্বারা দাত পরিস্কার করাকে মেসওয়াক করা বলে।

আপনি যদি টুথপেষ্ট দিয়ে দাত ব্রাশ করেন তাহলে শুধু মাত্র মুখ পরিস্কার করার সুন্নত আদায় হবে কিন্তু টুথপেষ্ট দ্বারা দাত ব্রাশ করার আগে বা পরে আপনি যে কোন কাচা গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করলে মুখ পরিস্কার করা ও মেসওয়াক করা উভয়েরই সুন্নতই আদায় হবে। পিলু/আরক গাছ, যয়তুন গাছের কাঁচা ডাল দ্বারা মেসওয়াক করা সুন্নত।

উপমহাদেশে সাধারণত নিম গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে পাকিস্তান, সৌদিআরব থেকে আমদানীকৃত যয়তুন, পিলু গাছের মেসওয়াক পাওয়া যায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- "যে নামাযের জন্য মেসওয়াক করা হয় তা মেসওয়াক বিহীন নামায অপেক্ষা ৭০ গুন বেশি উত্তম।" (বায়হাকী, মা’আরেফুল হাদীস)

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন - "যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন হওয়ার আশংকা না থাকতো তবে আমি তাদের উপর প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মেসওয়াক করা ওয়াজিব করে দিতাম।" (বুখারী, মুসলিম)

হযরত আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন- "রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে প্রবেশের পর সর্বপ্রথম যে কাজটি করতেন, তা ছিল মেসওয়াক করা। তিনি ওযূ ও নামাযের সময়ও মেসওয়াক করতেন। "

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন- "জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লাম যখনই আমার কাছে আসতেন, তখনই মেসওয়াক করার কথা বলতেন। এ বারংবার তাগিদের কারণে আমার আশংকা হয় যে, আমি আমার মুখের অগ্রভাগ মেসওয়াক করতে করতে ক্ষয় না করে ফেলি"- (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশ্ক আম্বরের চেয়েও প্রিয়।’ এ গন্ধ মানে মেসওয়াক না করার কারণে মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে প্রিয় নয়।

এ হাদিসের আলোকে অনেকেই ভুল করে থাকেন, আর তাহলো- যেহেতু রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়, তাই রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করা যাবে না। মেসওয়াক করলে আল্লাহর কাছে প্রিয় গন্ধ দূর হয়ে যাবে। আর রোজাদার সে ফজিলত থেকে বঞ্চিত হবে। আসলে বিষয়টি এমন নয়।

রবং মেসওয়াক করা সুন্নাত, এটা রোজা রাখা অবস্থায় সকাল, দুপুর, বিকালসহ সব নামাজের ওয়াক্তে আদায় করাই সুন্নাত। আর সব অবস্থায়ই রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে সর্বঅধিক প্রিয়। তাই বলে মেসওয়াক না করার ফলে রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে প্রিয় নয়। এ ব্যাপারে রোজাদারের সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

ব্রাশ-পেস্ট
রোজা অবস্থায় ব্রাশ-পেস্টের মাসআলা আলাদা। সাধারণত মানুষ ব্রাশের সঙ্গে পেস্ট ব্যবহার করে থাকে। যেমনটি মেসওয়াকের সঙ্গে ব্যবহার করা হয় না।

মনে রাখতে হবে
রোজা অবস্থায় পেস্ট, গুল, মাজন বা কয়লা ইত্যাদি দিয়ে দাঁত পরিস্কার করা নিষিদ্ধ। কারণ এগুলো গলার ভেতরে চলে গেলে রোজাই নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি ভেতরে চলে না-ও যায়, তবুও রোজা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যদি কেউ শুধু পেস্ট ছাড়া শুধু ব্রাশ করতে চায়; তবে তা করতে পারবে। তবে উত্তম হলো মেসওয়াক করা। তাতে মেসওয়াক করার সুন্নাতও আদায় হবে আবার রোজা নষ্ট হওয়ার ক্ষতি থেকেও বেঁচে থাকা যাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রোজা অবস্থায় ব্রাশ ও পেস্টের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি মেসওয়াক করে সুন্নাতের সাওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন