শিরোনাম :

ভিলেন থেকে হিরো!


মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:২১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ভিলেন থেকে হিরো!

নিজের চাচাকে খুন করেন সুকুমারন নামের এক ব্যক্তি। ২০০৭ সালের দিকে মোবাইলের টাওয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটে। সুকুমার অনুতপ্ত হয়ে নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেয়। রায়ে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। এবার নিজের কিডনি বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে বন্ধুর স্ত্রীর চিকিৎসা করালেন যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করা এই সাজাপ্রাপ্ত আসামী। হত্যাকাণ্ডের মতো পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই নাকি এ কাজটি করেছেন তিনি।

সুকুমারন জানান, প্রতিনিয়ত তিনি ভাবতেন কি করলে কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করা যাবে। হঠাৎ একদিন খবরের কাগজে এক দম্পতির কিডনি দানের কথা জানতে পেরে নিজের কিডনি দান করে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন তিনি। সে ইচ্ছার কথা জানিয়ে জেল কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি লেখেন। আইনগত কারণে কোনো বন্দি এভাবে কিডনী দান করতে পারে না জানিয়ে প্রত্যুত্তর পাঠান কর্তৃপক্ষ। এর পরে তৎকালীন কেরালার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন সুকুমারন। তার এমন ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ২০১৭ সালে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয় তাকে। ছাড়া পেয়েই সুকুমারন স্থানীয় ওই মেডিক্যাল ইনফরমেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিডনির সমস্যায় ভোগা ২১ বছরের এক যুবককে নিজের কিডনি দেন। তবে এজন্যে তাকে মূল্য পরিশোধ করে ওই যুবক।

সুকুমারন আরও জানান, জেলে থাকাকালীন এক বন্দির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল তার। সে বন্ধুর খোঁজে গেলে তিনি জানতে পারেন বন্ধুটি মারা গেছেন এবং বন্ধুর স্ত্রী হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না এ মহিলা। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে নিজের কিডনি বিক্রির টাকায় সুকুমারণ বন্ধুর স্ত্রীর চিকিৎসা করান।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, এক সন্তানের জননী বন্ধুর সেই স্ত্রীর সাথেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন সুকুমারণ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন