শিরোনাম :

সুস্থ থাকতে ‘অল্টারনেটিভ’ খাবার


সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:২৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সুস্থ থাকতে ‘অল্টারনেটিভ’ খাবার

ডেস্ক: সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের বিকল্প নেই। কিন্তু স্বাদে হেরে গিয়ে আমরা হরহামেশাই পছন্দের সব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকি। তবে জানেন কি? আপনার পছন্দের অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলোও কিন্তু স্বাস্থ্যকর হতে পারে যদি আপনি সেগুলোর বিকল্প খাবার গ্রহণ করেন। একটি চকোলেট বার অথবা একটি বার্গার খেলে ক্ষতি কী? মনে এমন প্রশ্নের উদয় হতেই পারে। তেমন কোনো সমস্যা তাৎক্ষণিক টের না পেলেও নিয়মিত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি থেকেই যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে একজন পুরুষের দৈনিক আড়াই হাজার কিলো ক্যালোরির খাবার গ্রহণ করা উচিত। সেইসঙ্গে একজন নারীর প্রয়োজন ২ হাজার ক্যালোরি। এবার তবে জেনে নিন অস্বাস্থ্যকর বনাম স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো সম্পর্কে-

১. চকলেট/ ডার্ক চকোলেট
চকলেট কমবেশি সকলেরই পছন্দের খাবারের মধ্যে অন্যতম। তবে যেসব চকলেট আমরা হরহামেশাই খেয়ে তাকি তা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। অন্যদিকে, ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি। এতে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, পটাসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম রয়েছে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টপূর্ণ যা আপনাকে তরুণ রাখতে সাহায্য করে।

২. চিপস / মিষ্টি আলু
ছোটদের পাশাপাশি বড়দেরও পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন চিপস। কিন্তু এতে তেমন পুষ্টি উপাদান নেই। অন্যদিকে, আপনি যদি চিপসের পরিবর্তে মিষ্টি আলু খান তবে এর থেকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাবেন। এতে বিটা-ক্যারোটিনসহ ভিটামিন বি, বি৬ , সি এবং ডি রয়েছে। মিষ্টি আলু খাদ্য পরিপাকে বিশেষ ভূমিকা রাখে সেইসঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের মাত্রা হ্রাস করে।

৩. আইস ক্রিম / দই
আইসক্রিমে প্রচুর পরিমাণে সুগার থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে দই, পাচকতন্ত্রের কাজকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। যদিও দইয়ে ক্যালোরির মাত্রা বেশি থাকে তবে আপনি টক দই খেয়েও আইসক্রিমের নেশা ভুলতে পারেন। সুস্বাদু করতে এতে ফল বা বাদাম মিশিয়ে নিন।

৪. দুধ চা / সবুজ চা
দুধ চা স্বাস্থ্যের জন্য সুখকর নয় তা হয়ত সকলেরই জানা। তবুও সকলের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এটি। অত্যাধিক স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তি বাদে প্রায় সকলেরই দুধ চায়ের প্রতি আসক্তি রয়েছে। সুস্থ থাকতে অবশ্যই স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। এজন্য দুধ চায়ের বিকল্প হিসেবে সবুজ চা অর্থ্যাৎ গ্রীন টি পান করুন। এতে কোনো ক্যালোরি না থাকা স্বত্ত্বেও এটি মেদ পোড়ানোর পাশাপাশি শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৫. বার্গার / চিকেন বার্গার
একটি বার্গারে আনুমানিক সাড়ে ৩০০ ক্যালোরি থাকে। কারণ এতে চিজের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে, আপনি যদি বার্গারের বদলে চিকেন বার্গার খান তবে এতে ক্যালোরির মাত্রা থাকবে মাত্র ১৫০ থেকে ২২০ ক্যালোরির মধ্যে। এবার সিদ্ধান্ত আপনার, কোনটি খাবেন?

৬. মাখন / মার্গারিন
মাখনের তৈরি খাবার সুস্বাদু বটে কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যায়। এর বদলে আপনি মার্গারিন ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে খাবার থেকে অস্বাস্থ্যকরের তকমা ঘুচবে। পাশাপাশি রান্নায়
সয়াবিন তেলের বদলে জলপাই অথবা নারকেল তেল ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ুন।

৭. পিৎজা / চিকেন শর্মা
ছোট বড় সকলেরই পছন্দের খাবার হলো পিৎজা। এর অসাধারণ স্বাদ আর গন্ধ কি ভুলে থাকা যায়? যতই সুস্বাদু হোক না কেন এটি স্বাস্থ্যকর নয়। একটি পিৎজা অর্ডার করার পরিবর্তে শর্মা অথবা চিকেন শর্মা খেতে পারেন। স্বাস্থ্যকর ডিনারের জন্য মসলাযুক্ত মুরগী এবং সালাদ দিয়ে রুটির পুর ভরা শর্মা আপনাকে পুষ্টি জোগাবে।

৮. ক্রিস্পস / পপকর্ন
বিভিন্ন ধরনের ক্রিস্পস জাতীয় চিপসে অত্যাধিক লবণ থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে আপনি পপকর্ন খেতে পারেন। প্লেইন পপকর্ন কিনতে পাওয়া যায় যেগুলো আপনি ঘরে তৈরি করে নিতে পারবেন। পপকর্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টপূর্ণ। এছাড়াও এতে রয়েছে ফাইবার এবং ক্যালোরির পরিমাণও তুলণামূলক কম।

৯. মিষ্টি / শুকনো ফল
মিষ্টির প্রতি ছোট থেকে বুড়ো সকলেরই দূর্বলতা রয়েছে। তাতে কী? এর বদলে বেছে নিন আপেল বা চেরির মত স্বাস্থ্যকর ফল।

১০. কেক / কলা রুটি
পেষ্ট্রি কিংবা ড্রাই কেক প্রায় সকলেরই পছন্দের খাবার। স্ন্যাকস হিসেবে সময়ন্তর নিশ্চয়ই কেক খেয়ে থাকেন! তবে কেক কিন্তু বিশেষ পুষ্টিকর খাবার নয়। যদি আপনি এর বিকল্প চান তবে কলা ও রুটি খেতে পারেন। এটি ফাইবারসমৃদ্ধ। এছাড়াও এতে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং দস্তা রয়েছে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন