শিরোনাম :

আজ কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী


বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭, ০৩:১১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আজ কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক প্রতিবেদন: কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।কবি শামসুর রাহমানবরেণ্য কবি শামসুর রাহমানের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৭ আগস্ট।২০০৬ সালের এই দিনে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।শামসুর রাহমান ৫০-এর দশকের অগ্রগণ্য কবি।এই দশকের কবিরা ত্রিশোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতায় নতুনত্ব যুক্ত করেন।

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশের পরপরই তিনি সচেতন পাঠকমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার পরবর্তী গ্রন্থগুলো পাঠকদের ক্রমেই তার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। তার চতুর্থ গ্রন্থ ‘নিরালোকে দিব্যরথ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার নিজস্ব স্বর ও শিল্পবোধের স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার কবিতায় নাগরিক জীবন ও গ্রিক মিথের সুনিপুণ ব্যবহার আছে।

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, প্রতিদিন মিছিল-মিটিং হচ্ছে, আপামর জনসাধারণের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা যখন প্রশ্নহীন— শামসুর রাহমানের কবিতার ভাষা ও বিষয়েও তখন পরিবর্তন আসে। তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতীক।তার ‘আসাদের শার্ট’ কবিতায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান যেন সচিত্র রূপ পায়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শামসুর রাহমান সপরিবারে তাদের পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে চলে যান।এপ্রিলের প্রথম দিকে তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে বেদনামথিত হয়ে লেখেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’সহ বেশকিছু কবিতা। তার ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি যেন সন্তের মন্ত্রোচ্চারণের মতো অনিবার্য, আবহমান বাংলার সাধারণ জীবনের মতো স্বচ্ছন্দ্য। স্বাধীনতার পর পচাত্তর-পরবর্তী পট পরিবর্তনে আশাহত কবি সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে তার কলম চালিয়েছেন নিরন্তর।

গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনিমার্ণের আকাঙ্ক্ষায় তিনি ছিলেন সবগুলো আন্দোলন সংগ্রামের শুভ্র পুরুষ। এ কারণে নিজের বাড়িতে তিনি ঘাতকের হাতে আক্রান্তও হন।কবি শামসুর রাহমানের ষাটের অধিক কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়ও শিশুতোষ, অনুবাদ, ছোটগল্প, উপন্যাস, আত্মস্মৃতি, প্রবন্ধ-নিবন্ধের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

কবি শামসুর রাহমান সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭-তে সামরিক সরকারের শাসনামলে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি অধুনা নামের একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শামসুর রাহমান আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্ম নেওয়া এই কবিকে তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে, মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন