শিরোনাম :

রোকেয়া পদক প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী


শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোকেয়া পদক প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী

রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন রোকেয়া পদক পাচ্ছেন চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, লেখক শোভা রানী ত্রিপুরা, সাংবাদিক মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর), সংগঠক মাজেদা শওকত আলী, সমাজকর্মী মাসুদা ফারুক রত্না। আজ তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
 
আজ রোকেয়া দিবস। বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম নেন। ১৯৩২ সালে একই তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

বেগম রোকেয়া দিবস আজ। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালিত হবে দিবসটি। নারী জাগরণের অগ্রদূত, খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুর এই দিনকে স্মরণীয় রাখতে দিবসটি পালিত হয়।

নারী উন্নয়ন ও নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এবার ৫ জন নারীকে রোকেয়া পদক দেয়া হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বছর আরোমা দত্ত ও বেগম নূরজাহানকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম নছিমান বলেন, নারী উন্নয়ন ও নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় জন্য এবার পাঁচজন নারীকে রোকেয়া পদক দেয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেগুলো বিতরণ করবেন।

১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া। সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন তার পিতা। মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। তৎকালীন মুসলিম সমাজব্যবস্থা অনুসারে রোকেয়াকে ঘরে আরবি ও উর্দু শেখানো হয়।

তবে তার বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনস্ক ছিলেন। তিনি রোকেয়া ও তার বোন করিমুন্নেসাকে ঘরেই গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখান। ১৮৯৮ সালে ১৮ বছর বয়সে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে রোকেয়ার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে ‘বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন’ নামে পরিচিত হন তিনি। মুক্তমনের মানুষ সাখাওয়াত হোসেনের উৎসাহে বেগম রোকেয়া সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। এর পাঁচ মাস পর ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ নামে একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন বেগম রোকেয়া।

১৯১০ সালে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলার ফলে স্কুল বন্ধ করে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এখানে ১৯১১ সালের ১৫ই মার্চ পুনরায় চালু হয় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। প্রাথমিক অবস্থায় স্কুলে ৮ জন ছাত্রী ছিল। চার বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়ায়। ১৯৩০ সালের মাঝে এটি হাই স্কুলে পরিণত হয়।

১৯১৬ সালে মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন বেগম রোকেয়া। তার বারবার আবেদনের ফলেই ১৯১৯ সালে কলকাতায় ‘মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল’ স্থাপন করে সরকার। ১৯২৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলার নারী শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া।

বেগম রোকেয়ার সাহিত্যকর্মে ফুটে উঠেছে সমাজের কুসংস্কার, অবরোধ প্রথার কুফল, নারীদের প্রতি সামাজিক অবমাননা, নারীর অধিকার। নারীশিক্ষার পক্ষে তার নিজস্ব মতামত, বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদও বাদ যায়নি তার লেখনীতে। তার রচনায় ফুটে উঠেছে এক প্রতিকূল সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের খণ্ড খণ্ড চিত্র।

দিনটি উপলক্ষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘বৈষম্যহীন সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বেগম রোকেয়ার জীবনাদর্শ ও কর্ম আমাদের নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় প্রেরণা জোগাবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শ, সাহস, কর্মময় জীবন নারী সমাজের এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস।

বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২), সুলতানস ড্রিম (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন