শিরোনাম :

আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


শনিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক প্রতিবেদন: বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিন দিনের আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে দুই বাংলার তিন শতাধিক সাহিত্যিক অংশ নিয়েছেন।

নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় সম্মেলনের আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন পরিষদ।

এবার সম্মেলনের প্রতিপাদ্য— 'বিশ্ব মানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ।'

অতীতের বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষার ওপর শাসকগোষ্ঠীর খগড় নেমে এসেছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল বাংলা ভাষা নয়, বাংলা অক্ষরও মুছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। বারবার ভাষার ওপর আক্রমণ এসেছে। কিন্তু সবগুলো আক্রমণই প্রতিহত হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের সূচনার মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি স্বাধীনতা লাভ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশের পথ বেয়েই বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে। মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছিল। আমরা এর জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা বাংলা ভাষাকে কেড়ে নেওয়ার জন্য নানাভাবে বাধা দিয়েছে। কেবল বাংলা ভাষা নয়, বাংলা অক্ষরও মুছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ পড়া যাবে না বলে সমন জারি করে পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসকরা। এরপর আঘাত আসে নজরুলের ওপর। তার কবিতায় সাম্প্রদায়িক পরিবর্তন আনার অপচেষ্টা হয়। বাংলা সাহিত্যকে কলুষিত করার চেষ্টা করা হয়। বারবার ভাষার ওপর আক্রমণ এসেছে। কিন্তু সবগুলো আক্রমণই প্রতিহত হয়েছে। এসব বাধা জয় করেই আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদারক্ষায় যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনেস্কো বাংলা ভাষার সম্মানে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। এই মাতৃভাষা যেন হারিয়ে না যায়, তার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ার কাজ শুরু করি। এখানে ভাষাকে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। আমিও যতবার ভাষণ দিয়েছি, ততবারই বাংলায় দিয়েছি।

সাহিত্য মানুষকে অন্যায়ের বিরদ্ধে লড়াই করতে শেখায় এবং মানুষকে সমৃদ্ধ করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যে দেশের ভাষা যত সমৃদ্ধ, সে দেশের মানুষ তত এগিয়ে। বাংলাদেশিরা কারও কাছে মাথা নত করে না। বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। উপমহাদেশে একমাত্র ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র এই বাংলাদেশই।

বাংলা সাহিত্যের মর্যাদা ও সম্মান বিশ্ব দরবারে বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সাহিত্য আগের চেয়ে আরও গতিশীল ও সহজ হয়েছে। আজকের এই আয়োজন বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। যারা বাংলায় সাহিত্যচর্চা করছেন তাদের একত্রে করার এই চেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।

শনিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে প্রথম দিনের আয়োজন। বাংলা একাডেমির বহিরাঙ্গনে প্রদর্শিত হবে দুই চলচ্চিত্র 'সূর্যদীঘল বাড়ি' ও 'পদ্মা নদীর মাঝি'। আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে ম্যাড থেটারের নাটক 'নদ্দিউ নতিম'।

সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ও ভারতের কবি-সাহিত্যিকদের প্রীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে 'বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলা সাহিত্যের সমকালীন ছোটগল্প' শীর্ষক আলোচনা। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।

দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে 'বাংলা সাহিত্যে দেশ ভাগের অভিঘাত', 'সাহিত্য ও চলচ্চিত্র', 'বাংলা সংবাদ ও সাময়িকপত্রের ২০০ বছর' ও 'সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাসের গতি ও গন্তব্য' শীর্ষক চারটি সেমিনার।

একই দিন বিকেলে রবীন্দ্র চত্বরে কবিতাপাঠের সঙ্গে আবহমান বাংলা গানের সুরে শ্রোতা-দর্শকদের হৃদয় রাঙাবেন দুই দেশের কবি-শিল্পীরা।

সম্মেলনের শেষ দিনে রয়েছে তিনটি সেমিনার- 'ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতিসত্তা', 'অনুবাদের সাহিত্য, সাহিত্যের অনুবাদ' ও 'প্রযুক্তির বিশ্বে সাহিত্যের সংকট ও সম্ভাবনা'।

ওই বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও ভারতের বরেণ্য চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী।। সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন