শিরোনাম :

বৈশাখ এলো খুশির পাল ওড়িয়ে - অরণ্য সৌরভ


শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বৈশাখ এলো খুশির পাল ওড়িয়ে - অরণ্য সৌরভ

আমরা একটি বছরের ইতি টেনে আরেকটি নতুন
বছরে পা রাখছি। বাংলা চৈত্র মাসের
শেষে বছরটি ফুরিয়ে গেলো। এলো নতুন বছর।
পহেলা বৈশাখ। এমনিতেই
জাতি হিসেবে আমরা ভীষণ
উত্সবপ্রিয়। কথায় আছে ‘বার মাসে তের
পার্বণের
এ দেশ’। তাহলে নতুন বছর বরণের
ক্ষেত্রে তো উত্সব-আমেজের আয়োজন থাকবেই।
পৃথিবীর সব দেশেই নতুন বছরের বরণ উত্সব
প্রচলিত
আছে। এটি প্রত্যেকটি দেশের আপন সংস্কৃতির
একটি অংশ। আমাদের দেশে আদিকাল থেকেই
‘নববর্ষ’ বরণের উত্সব চলে আসছে। উতল
হাওয়ায়
পাল উড়িয়ে আসা বৈশাখকে আমরা বরণ
করে নিচ্ছি।
সবাইকে জানাই ‘শুভ নববর্ষ’।
বাংলা বছরের প্রথম দিনটি পহেলা বৈশাখ
হিসেবে পরিচিত। এ দিনটি আমাদের দেশে নববর্ষ
উত্সব হিসেবে পালন করা হয়। এটি বাঙালির
সার্বজনীন লোকউত্সব। এদিনে আনন্দঘন
পরিবেশে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ

নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের
ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-
শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।
নববর্ষ পালনের একটা সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে।
সম্রাট
আকবরের নাম কম-বেশি সবার জানা আছে।
তার
আমল থেকেই মূলত বাংলা নববর্ষ পালন শুরু হয়।
পহেলা বৈশাখে এদেশের মানুষ নতুন
করে জেগে ওঠে।
এ নতুনের ডাক অপার সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ।
তাই সবার
মন সাড়া দেয় জেগে ওঠে। নতুনকে গ্রহণ করার
প্রস্তুতি নেয়। এদিনে প্রতিদিনকার কাজকর্ম
ছেড়ে দিয়ে ঘরবাড়ি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে।
আটপৌরে জামা-কাপড়
ছেড়ে দিয়ে বৈশাখী পোশাকে সবাই সেজে ওঠে।
সবাই
দলবেঁধে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের বাসায়
যায়।
বেড়াতে গিয়ে নানা রকম ঐতিহ্যবাহী খাবার
খায়।
বিশেষ করে এইদিনে পান্তা-ইলিশ খেতে কেউ ভুল
করে না। এছাড়া দেশের নানা প্রান্তে বেশ
কতগুলো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের বৈশিষ্ট্য
ফুটে ওঠে। এসব অনুষ্ঠানের
মধ্যে রয়েছে জলভিক্ষা করা, বার্ষিক মেলা,
পুণ্যাহ,
হালখাতা প্রভৃতি।
মূলত বর্ষবরণের অনুষ্ঠান গ্রামীণ জীবন-
যাপনের
সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে গ্রামের
সাধারণ
মানুষের কাছে এই দিনটি বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ।
নববর্ষে গ্রামের কোথাও কোথাও বেশ বর্ণাঢ্য
মেলা বসে। মেলার বিচিত্র অনুষ্ঠানে কেনা-
বেচার
বাণিজ্যিক লেন-দেনে সবাই মেতে ওঠে।
দোকানিদের
হালখাতা উপলক্ষে তাদের
দোকানে দোকানে চলে মিষ্টি খাওয়ার ধুম।
সবখানেই
যেন এক মধুর পরিবেশ।
বর্তমানে শহরে বসবাসকারী মানুষও অত্যন্ত
জাঁকজমকপূর্ণভাবে পহেলা বৈশাখ উত্যাপন
করে থাকে। পহেলা বৈশাখের
সকালে সূর্যদয়কে স্বাগতম জানিয়ে দিনের কার্যক্রম
শুরু করে। নববর্ষকে স্বাগতম জানিয়ে শহরের তরুণ-
তরুণীরা লাল পেরে শাড়ি, হাতে চুড়ি, খোঁপায়
ফুল,
গলায় ফুলের মালা এবং কপালে টিপ পরে। কেউ
কেউ
ধূতি-পাঞ্জাবিও পরে। বিশেষ
করে রাজধানী ঢাকার
রমনার বটমূূলের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সবার
দৃষ্টি কাড়ে।
নববর্ষের দিনটি প্রতিটি দিনের মতোই
একটি সাধারণ
দিন। প্রতিটি দিনের মতো এ দিনটি যথানিয়মেই
সকালে সূর্য উঠে এবং বিকেলে অস্ত যায়।
পাখিরা গান গায়। বাতাসের দোলায়
গাছে গাছে শিহরণ
জাগে। কিন্তু তবু এ দিনটি অন্য দিনগুলোর
থেকে স্বাতন্ত্র্য, বিশিষ্ট। কারণ
এদিনটি আমাদের
কাছে মুক্তির বার্তা আনে। এ মুক্তি প্রতিদিনের
জীর্ণ জীবন থেকে, মুক্তি প্রতিদিনের ক্ষুদ্র
জীবনের সীমানা থেকে। মুক্তি মনের
সঙ্কীর্ণতা এবং হতাশা থেকে। প্রতিদিনের
জীবনে আমরা ক্ষুদ্র। নববর্ষের পুণ্য
প্রভাবে আমরা মহত্ এবং বিশাল মনের
হয়ে উঠি।
এদিন আমাদের কাছে পরম আশ্বাসের, পরম
প্রার্থনার। এবারের নতুন বছরটিতে আমরা নতুন
উদ্দীপনায় কাজ শুরু করবো যে যার মতো করে।
সবার
উদ্দেশ্য থাকবে একটাই, আর তা হলো—‘পরিপূর্ণ
মানুষ
হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং দেশকে ভালোবাসা।’
কারণ এই দেশটি আমাদের মায়ের মতো। দেশের
ক্ষতি না হয় এমন কোনো কাজ করবো না। এই
শিক্ষায় নতুন বছরের শুরুতেই জেগে উঠবো।
সবাইকে আবারও শুভ নববর্ষ।
সরকারী সফর আলী কলেজ
আড়াইহাজার,নারায়নগঞ্জ।।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন