শিরোনাম :

সাংবাদিক শাহ্ আলম শাহী’র চিকিৎসার জন্য এক লক্ষ টাকার অনুদান


বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭, ০৫:০৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সাংবাদিক শাহ্ আলম শাহী’র চিকিৎসার জন্য এক লক্ষ টাকার অনুদান

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দৈনিক মানবজমিন ও চ্যানেল আই’র স্টাফ রিপোর্টার শাহ্ আলম শাহী’র চিকিৎসার জন্য এক লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট-পিআইবি’র মহাপরিচালক মো. শাহ্ আলমগীর বুধবার দুপুরে দৈনিক মানবজমিন ও চ্যানেল আই’র স্টাফ রিপোর্টার শাহ্ আলম শাহী’র হাতে এ অনুদানের চেক তুলে দেন।

এসময় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-পরিচালক মো.জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,সাংবাদিক শাহ্ আলম শাহী দীর্ঘদিন ধরে মাথায় রক্ত ক্ষরণ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেন্নাই এ চিকিৎসা নিচ্ছেন ।ইতিমধ্যে চিকিৎসার জন্য তিনি ৩ বার ভারতের চেন্নাই এ গেছেন। উচ্চ রক্ত চাপ থেকে মাইনর স্টোক করার পর তার মাথায় রক্ত ক্ষরণ হয়ে তার কিছু অংশ জমাট বাধেঁ। এ জটিল রোগের অপারেশন অত্যন্ত জটিল ও ব্যয় বহুল হওয়ায় আপাততঃ তিনি চিকিৎসার মাধ্যমে তা সারিয়ে তুলার চেষ্টা করছেন। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার উচ্চ রক্ত চাপের পাশাপাশি ডায়াবেটিসও আক্রমন হয়েছে।

সাংবাদিক শাহ্ আলম শাহী চ্যানেল আই, দৈনিক মানবজমিন এবং রেডিও আমার এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন । এছাড়াও তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা “ সিসিডি-বাংলাদেশ” এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী,“জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন” এবং মানবাধিকার সংস্থা “আইন সহায়তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ কেন্দ্রে’র “সমন্বয়ক” হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

সাংবাদিক শাহ আলম শাহী সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয়সহ বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছেন ।

লেজুড়বৃত্তি সাংবাদিকতা পরিহার করায় সৎ ও নির্ভিক সাংবাদিক “শাহ আলম শাহী’র প্রতিবাদী কন্ঠ রোধ করার অপপ্রয়াসে ব্যাপক ষড়যন্ত্র চলেছে। স্বার্থনেষী বিশেষ কু-চক্র মহল ও ঈর্ষাকাতর ব্যক্তিদের রোষানলে অসংখ্য মিথ্যা মামলা,ঝামেলা,হামলা ও মানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে। বিকারগ্রস্থ কিছু মানুষ তাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন, পেশাগত কাজে বাঁধাগ্রস্থ ও জীবননাশসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান দিয়েছে। চালিয়েছে কুপোকাত করার অপপ্রয়াস। দাঁতালো আক্রোমনের অভিসন্ধি।

এর পরেও থেকে থাকেনি সাংবাদিক শাহী। মূলতঃ উত্তরবঙ্গে সংবাদ জগতের এক আলোকিত নাম “শাহ আলম শাহী” । প্রিন্ট মিডিয়া থেকে শুরু করে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সর্বত্রই তার অবস্থান। অবাধ বিচরণ। সাহিত্য থেকে তার সাংবাদিকতা। ৮০ দশকে সাহিত্যাঙ্গণের তুখোড় তারুণ্য শাহ্ আলম শাহী এখন সংবাদ জগতের ব্যক্তিত্ব।

ছড়া, কবিতা, ছোট গল্প, নিবন্ধ-প্রবন্ধ আর নিয়মিত কলাম লিখে এক সময়ে খুবই আলোচিত ছিলেন তিনি। শিক্ষা জীবনে দিনাজপুর সরকারী কলেজের একমাত্র নিয়মিত সংবাদপত্র “কলেজ বুলেটিন” এবং জেলার সাহিত্য ভিত্তিক কবিতাপত্র“ শব্দের ঝুড়ি-ভূমিকা”র সম্পাদনা করেছেন তিনি । এখন প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় উত্তরবঙ্গে আলোচিত নাম “শাহ্ আলম শাহী।”

বাংলা ভাষার প্রথম ট্যাবলয়েড “দৈনিক মানবজমিন” এবং বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষিদের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল “চ্যানেল আই”এর স্টাফ বিপোর্টার হিসেবে দিনাজপুরে অবস্থান করছেন তিনি।

অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সাফল্য,ব্যর্থতা,সম্ভাবনা, কৃতিত্ব, পরিবেশ, পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, অনুসন্ধান, আবিস্কার থেকে শুরু করে যে কোন উপাদ্য কমতি নেই তার রিপোর্টে। ঝুকিপূর্ণ এ পেশাকে শুধু পেশা নয়, নেশা হিসেবেও নিয়েছেন তিনি। যে কোন ঘটনা-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মূহুর্তে তিনি উত্তরবঙ্গের দূর্গোম স্থানে ছুটে চলেন অবিরামভাবে। তার অবাধ বিচরনের বিরল তৃপ্তি ও স্বাদ গ্রহন করেন সংশিষ্ট দপ্তর থেকে শুরু করে সাধারণ পাঠক ও দর্শক।

১৯৭২ সালের ২৩ নভেম্বর দিনাজপুর শহরের পশ্চিম উপকন্ঠ পুণর্ভবা নদী সংলগ্ন চাউলিয়া পট্রি এলাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম শাহ্ আলম শাহী’র। বাবা মেহেবার আলী একজন সরকারী অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী। মা আনোয়ারা বেগম গৃহিনী। এ পরিবারের ৬ সন্তানের মধ্যে এক মাত্র শাহ্ আলম শাহী ছেলে সন্তান। পিতা-মাতার সখ ছিলো একমাত্র ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। তাই প্রথমে বিরোধীতা করেছে সন্তানের এ ঝুকিপূর্ণ পেশায়। এ পেশা ছাড়াতে ঘরে বন্দি করে রাখাও ইতিহাস রয়েছে তার। ছেলে এ পেশাকে নেশা হিসেবে নেয়ার কারণে পরে তারা বাধ্য হয়েছে সহযোগিতায়।

ব্যক্তি জীবনে শাহ্ আলম শহী বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ। স্ত্রী শিরিন শাহী, ছেলে শাহ শৈবাল রীশাদ, মেয়ে শুভেচ্ছা আলম রীচি, মা আনোয়ারা বেগম এবং বাবা মেহেরাব আলীকে নিয়ে তার সংসার।

শাহ্ আলম শাহী, সাহিত্য থেকে ৮০ দশকের শেষে দিকে সাংবাদিকতায়। “দৈনিক মানবজমিন” এবং “চ্যানেল আই”এর স্টাফ বিপোর্টার ছাড়াও স্থানীয় একটি পত্রিকার বার্তা বিভাগ পরিচালনা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট রয়েছেন, দু’টি অনলাইন পত্রিকায়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা(সিসিডি-বাংলাদেশ)এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি উন্নয়ন বিষয়ক সাংবাদিকতার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আয়োজন করে থাকেন।

মূলতঃ সাহিত্য-সাংস্কৃতিক র্চ্চা থেকে এ চ্যালেঞ্জিং পেশা সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছেন শাহী। সকলের ভালোবাসা,সহযোগিতা আর সহমর্মিতায় আজ শাহী এ অবস্থানে। শেকড় থেকে শিকরে। অনেক ঝড় সামলিয়ে এ চ্যালেঞ্জিং পেশায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

শুধুমাত্র লেজুড়বৃত্তি সাংবাদিকতা পরিহার আর নিজ বিবেকের কাছে নতজানু হতে পারেনি বলে শাহী’র প্রতি চলছে, অবিচার। চলছে, কুপোকাত করার অপপ্রয়াস। দাঁতালো আক্রোমনের অভিসন্ধি!
পেশাদারিত্বের কারণে তিনি হয়েছেন ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে নিয়ে চলছে,আত্মঘাতি নির্দেশ- দ্বৈত চরিত্রের খেলা।তিনি শিকার হয়েছে বিকার গ্রস্থদের বিকৃত অভিরুচি’র। ঘটেছে,ঈর্ষনীয় বহিঃপ্রকাশ।
পৃথিবীতে সব চাইতে মহৎ ও ঝুকিপূর্ণ পেশা সাংবাদিকতা। এই পেশাকে যারা নেশা ও পেশা হিসেবে নিয়েছে,তাদের প্রতিনিয়ত শক্র সৃষ্টি হচ্ছে। তারই প্রমান শাহী !

পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে জেলা প্রতিনিধি থেকে দৈনিক মানবজমিন এবং চ্যানেল আই’র স্টাফ রিপোর্টার হয়েছেন। লুফে নিয়েছে, বেশ কয়েকটি শীর্ষ পুরস্কার।

পেশাগত ঈর্ষার কারণে আজ ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এ মহান পেশার। ক্ষুন্ন হচ্ছে সাংবাদিক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা। এমন মন্তব্য সাংবাদিক শাহী’র।

তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতার মতো একটি মর্যাদাশীল ও মহৎ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে আসুন,আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, অশুভ শক্তিকে চিহিৃত করি। অনুপ্রেরণা যোগাই সৎ ও বস্তুুনিষ্ঠু সাংবাদিকতার।

এমআর/এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন